সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

রাজিবপুরে ইটভাটার ধোঁয়ায় ৪০ বিঘা জমির ধান নষ্টের অভিযোগ কৃষকদের

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কৃষকেরা ২০২৬ সালের এপ্রিলে অভিযোগ করেন, একটি ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় ৪০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে এবং অন্তত ৪৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; ভাটার মালিক অভিযোগ অস্বীকার করে গরম হাওয়াকে দায়ী করেন।

রাজিবপুরে ইটভাটার ধোঁয়ায় ৪০ বিঘা জমির ধান নষ্টের অভিযোগ কৃষকদের
ফসল

কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর (চর রাজিবপুর) উপজেলার কৃষকেরা ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে অভিযোগ করেন, একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় উপজেলার স্লুইসগেট এলাকায় প্রায় ৪০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে এবং এতে অন্তত ৪৫ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জাগো নিউজ ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির পাঠানো এ খবর প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল ভোরে। ভাটার মালিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তীব্র গরম হাওয়ায় এ ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। কুড়িগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক ব্যাখ্যা করেন, ইটভাটার ফায়ারিং চেম্বার থেকে ছাড়া গ্যাস কীভাবে আশপাশের ফসলের ক্ষতি করতে পারে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, তখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পেলে তদন্ত করা হবে।

কৃষকদের অভিযোগ


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার শুরু ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল রাতে। তাদের অভিযোগ, সেই রাতে ভাটা থেকে অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হয় এবং এর পর আশপাশের কৃষিজমির ধানগাছ পুড়ে যায়। শুধু ধান নয়, ওই ধোঁয়ার প্রভাবে বসতবাড়ির আশপাশের ফলজ গাছ ও বাঁশঝাড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাদের দাবি। প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিঘা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা অন্তত ৪৫ জন বলা হয়। তবে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বা উৎপাদন কতটা কমেছে, সে হিসাব প্রতিবেদনে ছিল না, কৃষি বিভাগের কোনো মূল্যায়নও উদ্ধৃত হয়নি।

স্থানীয় কৃষক আবদুস ছালাম বলেন, তিনি ২৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। ঘটনার আগের দিন জমি দেখে গিয়েছিলেন, তখন কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি; কিন্তু পরদিন এসে দেখেন প্রায় সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার আরও অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ চাইতে ভাটায় গেলে ভাটার পক্ষ থেকে তিনি অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হন।

আরেক কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, তার ধারণা ভাটার মৌসুম শেষে অতিরিক্ত কয়লা পোড়ানোর কারণে এই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং সেটিই তাদের ফসলের ক্ষতি করেছে। একই অভিযোগ করেন কৃষক আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করলেও এ ধরনের ক্ষতি তিনি আগে কখনো দেখেননি, আর এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কৃষকদের পক্ষে কঠিন।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এসব দাবির কোনোটি কোনো তদন্তে যাচাই হয়নি। এগুলো ঘটনার বিষয়ে কৃষকদের বিবরণ, এবং ভাটার মালিক তা অস্বীকার করেছেন।

ভাটার মালিকের অস্বীকার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য


ভাটার মালিক রফিকুল ইসলাম মুকুল অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রতিবেদককে তিনি বলেন, "আমার ইটভাটার চিমনি ১০০ ফিট উচ্চতায়, তাছাড়া গত এক সপ্তাহ থেকে আমি ইট পোড়াচ্ছি না। তাই ধোঁয়ার কারণে নয় তীব্র গরম হাওয়ার কারণে এ ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।"

কুড়িগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম রাজিবপুরের ক্ষতির কারণ কী, তা বলেননি; তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি ইটভাটা কীভাবে আশপাশের জমির ক্ষতি করতে পারে। তার ভাষ্য, ইটভাটার ফায়ারিং চেম্বারে গ্যাস জমা থাকে। ইট পোড়ানো বন্ধ করার পর ফায়ারিং চেম্বারের মুখ খুলে দিলে ওই গ্যাস যেদিক দিয়ে পরিবেশে অবমুক্ত হয়, সেদিকের চারপাশের ফসলি জমি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই ফায়ারিং চেম্বারের গ্যাস পরিবেশে ছাড়ার আগে আশপাশের জমিতে ফসল আছে কি না, তা দেখে নিয়ে তারপর ছাড়তে হবে বলে তিনি জানান।

রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খান বলেন, তখন পর্যন্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ কর্মকর্তার ব্যাখ্যাটি ওই সপ্তাহে ইট পোড়ানো হচ্ছিল কি না, তার ওপর নির্ভর করে না। তার কথা অনুযায়ী, ইট পোড়ানো বন্ধ থাকা ভাটাও চেম্বারের মুখ খোলার সময় গ্যাস ছাড়তে পারে। মালিকের দাবি, এক সপ্তাহ ধরে তিনি ইট পোড়াননি; আর কৃষকদের দাবি, মৌসুমের শেষে অতিরিক্ত কয়লা পোড়ানো হয়েছে। দুটি বক্তব্যই ঘটনাটিকে ভাটার কাজের মৌসুমের শেষ দিকে স্থাপন করে, কিন্তু কোন বক্তব্য সঠিক, প্রতিবেদনে তার মীমাংসা হয়নি।

ব্রহ্মপুত্রের তীরে ছোট উপজেলা চর রাজিবপুর


এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রকাশিত জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলার মধ্যে চর রাজিবপুর সবচেয়ে ছোট, আয়তন ১১১.০৩ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে রৌমারী ও চিলমারী উপজেলা, দক্ষিণে দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলা, আর উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে ব্রহ্মপুত্র নদ; পূর্বে ভারত। উপজেলার প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্র, হলহলি ও জিঞ্জিরাম।

উপজেলায় তিনটি ইউনিয়ন: কোদালকাটি, চর রাজিবপুর ও মোহনগঞ্জ; মৌজা ২৬টি, গ্রাম ৯৯টি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ সালের জনশুমারিতে এখানে জনসংখ্যা ছিল ৭৩ হাজার ৩৭৩। চর রাজিবপুর থানা গঠিত হয় ১৯৭৭ সালে, আর ১৯৮৩ সালের ১ আগস্ট এটি উপজেলায় উন্নীত হয়।

এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। জনশুমারির তথ্য ধরে বাংলাপিডিয়া জানায়, উপজেলার ৭৭.৭৬ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, যেখানে পুরো কুড়িগ্রাম জেলায় এ হার ৭০.৪১ শতাংশ। উপজেলার ৪১.৮৩ শতাংশ পরিবার ভূমিহীন। প্রধান ফসল ধান, পাট, সরিষা, মাষকলাই, চিনাবাদাম, চীনা ও কাউন; প্রধান ফল আম, কাঁঠাল, সুপারি, জাম, কলা ও তরমুজ। প্রধান রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আছে ধান, পাট, গুড় ও চিনাবাদাম, আর কুটিরশিল্পের মধ্যে আছে বাঁশের কাজ।

রাজিবপুর যে জেলার অংশ, সেই কুড়িগ্রামের আয়তন ২ হাজার ২৪৫.০৪ বর্গকিলোমিটার, রংপুর বিভাগে। বাংলাপিডিয়া জেলার প্রধান নদী হিসেবে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধরলা, দুধকুমার ও তিস্তার নাম উল্লেখ করেছে। জ্ঞানকোষটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ভেতরে ব্রহ্মপুত্র একটি বিনুনি আকৃতির (ব্রেইডেড) নদী, যার বুকে অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে; স্থানীয়ভাবে এগুলোকে চর বলা হয়।

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ। ছবি: Atiqur Rahman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ। ছবি: Atiqur Rahman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

এপ্রিলের শেষে মাঠের ধান


কৃষকেরা যে ধান নষ্টের কথা বলেছেন, সেটি কোন মৌসুমের বা কোন জাতের, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ ছিল না। বাংলাপিডিয়ার ধান-বিষয়ক ভুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে আউশ, আমন ও বোরো এই তিন মৌসুমে ধান চাষ হয়, এবং বোরোর আবাদকাল মার্চ থেকে মে। সেখানে স্থানীয় জাতের বোরো কাটার সময় এপ্রিল-মে এবং উচ্চফলনশীল বোরো কাটার সময় মে-জুন বলা হয়েছে। এই হিসাবে এপ্রিলের শেষে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ধান বোরো মৌসুমের, অর্থাৎ শুষ্ক মাসগুলোতে সেচ দিয়ে ফলানো ফসল। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, আমনের চেয়ে কম জমিতে চাষ হলেও উৎপাদনে বোরোই শীর্ষে।

কুড়িগ্রামসহ রংপুর কৃষি অঞ্চলে ২০২৫-২৬ মৌসুমে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল বড়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জানায়, রংপুর অঞ্চলের আট জেলায় ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমি থেকে ২৩ লাখ ৮ হাজার ৭১৫ টন বোরো চাল (৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭২ টন ধান) উৎপাদনের রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩১৬ হেক্টরে হাইব্রিড, ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫৩ হেক্টরে উচ্চফলনশীল এবং ১ হাজার ২৫ হেক্টরে স্থানীয় জাতের বোরো চাষের কথা। ওই সময় পর্যন্ত ৩ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৫.০৪ শতাংশ।

রংপুর অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসসকে বলেন, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাসস আরও জানায়, নিম্নাঞ্চল, চর ও নদী তীরবর্তী এলাকায় বোরো চারা রোপণ শেষ হয়েছে এবং বর্ষা শুরুর আগেই ফসল ঘরে তুলতে কৃষকেরা ধানগাছের পরিচর্যা করছেন। চর রাজিবপুরের মতো এলাকায়, যেখানে বেশির ভাগ পরিবার জমির ওপর নির্ভর করে, কাটার কয়েক সপ্তাহ আগে বোরো নষ্ট হওয়া মানে মৌসুমের প্রধান আয় হারানো।

সিলেটে বোরো ধানের খেত; বোরো ফসলের পরিচিতি হিসেবে ছবিটি দেওয়া হলো। ছবি: AbuSayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটে বোরো ধানের খেত; বোরো ফসলের পরিচিতি হিসেবে ছবিটি দেওয়া হলো। ছবি: AbuSayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ভাটার গ্যাস না গরম হাওয়া: দুই কারণ সম্পর্কে যা জানা


রাজিবপুরে যে দুটি ব্যাখ্যা উঠে এসেছে, ভাটার নিঃসরণ ও গরম হাওয়া, দুটিই বাংলাদেশে ফসলের ক্ষতির পরিচিত কারণ। বাংলাপিডিয়ার বায়ুদূষণ-বিষয়ক ভুক্তিতে গ্রামাঞ্চলে নিঃসরণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা ও রান্নার চুলার কথা বলা হয়েছে, এবং ধোঁয়া, ধূম, গ্যাস ও ধুলা ছড়ানো শিল্প উৎসের তালিকায় ইটভাটার নাম প্রথমে।

ভাটায় পোড়ানো কয়লার দিকে কর্মকর্তারা আগেও ইঙ্গিত করেছেন। ২০১৩ সালের মে মাসে পাশের জেলা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভাটার ধোঁয়ায় বোরো ধান ও ভুট্টার ক্ষতির অভিযোগ ওঠার পর সেখানকার ইউএনও দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা উচ্চমাত্রার সালফারযুক্ত কয়লা পোড়ানোর কারণে এ ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে; এ ধরনের কয়লা পোড়ালে বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য এলাকায় পিয়ার-রিভিউড গবেষণাতেও ফসল ও মাটির ওপর ভাটার নিঃসরণের প্রভাব মাপা হয়েছে। ২০১৫ সালে ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বদগাম জেলায় ইটভাটার কাছে জন্মানো বাঁধাকপি, শিম ও বেগুনের সঙ্গে দূরের একটি নিয়ন্ত্রণ এলাকার একই সবজির তুলনা করা হয়; ভাটার কাছের তিনটি সবজিরই জৈবরাসায়নিক মান উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা পাওয়া যায়। ২০২২ সালে প্লস ওয়ান সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের ভিম্বর জেলায় ইটভাটার আশপাশের কৃষিজমির মাটিতে সিসা ও ক্রোমিয়ামের উচ্চ ঘনত্ব পাওয়া যায়; গবেষকেরা এর কারণ হিসেবে জ্বালানি হিসেবে কয়লা ও রাবারের টায়ার পোড়ানোর কথা বলেন, এবং দেখান যে ভাটা থেকে দূরত্বের সঙ্গে মাটির উর্বরতা-বৈশিষ্ট্যের বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে।

ভাটার মালিক যে কারণের কথা বলেছেন, সেই গরমও বছরের এ সময়ে বোরোর জন্য স্বীকৃত ঝুঁকি। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২১ সালের ২২ এপ্রিল জানায়, সে বছরের ৪ এপ্রিল গরম ও দমকা হাওয়াসহ কালবৈশাখী দেশের মধ্য, মধ্য-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি করে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ববিদ মো. সাজ্জাদুর রহমান পত্রিকাটিকে বলেন, ৪ এপ্রিলের তাপপ্রবাহে রাতের বেলা কয়েক ঘণ্টা ধরে গরম হাওয়া বয়েছিল। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের ২০২১ সালের ২৮ মে-র প্রতিবেদনে ব্রির বরাতে বলা হয়, টানা দুই দিন তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠায় ৩৬টির বেশি জেলা আক্রান্ত হয়; ডিএইর হিসাবে ৬৮ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান আংশিক বা পুরোপুরি নষ্ট হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হন ৩ লাখের বেশি কৃষক, আনুমানিক ক্ষতি ৩.৩ বিলিয়ন টাকা।

একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্বের অধ্যাপক রমিজ উদ্দিন ব্যাখ্যা করেন, গরমের ধাক্কা লেগেছিল ফুল আসার সময়, যখন ধান নিজে নিজে পরাগায়ন করে; এ পর্যায়ে উচ্চ তাপমাত্রা ধানে চিটা (বন্ধ্যত্ব) সৃষ্টি করতে পারে। ব্রি তখন তাপসহিষ্ণু কৌলিক সারি উদ্ভাবনের কাজ করছিল, যা সাজ্জাদুর রহমানের ভাষায় দিনের বেলা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ সইতে পারবে।

রাজিবপুরের ক্ষতির কারণ এ দুটির কোনটি, তা কেবল জমি ও ভাটা পরিদর্শন করেই বলা সম্ভব। জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে এমন কোনো পরিদর্শনের ফল ছিল না, আর পরিবেশ কর্মকর্তার বক্তব্য ছিল সাধারণ ঝুঁকির ব্যাখ্যা, এই ভাটা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

কুড়িগ্রামের প্রতিবেশী লালমনিরহাট জেলার দহগ্রামে একটি ইটভাটার চিমনি। ছবি: Newaj150 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কুড়িগ্রামের প্রতিবেশী লালমনিরহাট জেলার দহগ্রামে একটি ইটভাটার চিমনি। ছবি: Newaj150 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ইটভাটা আইনে যা বলা আছে


বাংলাদেশে ইটভাটা নিয়ন্ত্রিত হয় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৫৯ নং আইন) দিয়ে। আইনটি ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর, এবং ২০১৯ সালে ২০১৯ সনের ১ নং আইন দিয়ে এটি সংশোধিত হয়। সরকারের আইন পোর্টালের সরকারি পাঠে ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রযোজ্য যে বিধানগুলো আছে, তার কয়েকটি:

  • ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত, সেই জেলার জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া কেউ ইটভাটা স্থাপন বা ইট প্রস্তুত করতে পারবেন না (ধারা ৪); আর বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে দেওয়া পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ওই লাইসেন্সের আবেদনই করা যাবে না (ধারা ৯)।
  • ইটের কাঁচামাল হিসেবে কৃষিজমি বা পাহাড়-টিলা থেকে মাটি কাটা যাবে না (ধারা ৫), এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো যাবে না (ধারা ৬)।
  • নির্ধারিত মানমাত্রার অতিরিক্ত সালফার, অ্যাশ, মারকারি বা অনুরূপ উপাদানযুক্ত কয়লা আমদানি করে ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে না (ধারা ৭); এর শাস্তি অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (ধারা ১৭)।
  • ইটভাটার গ্যাসীয় নিঃসরণ ও তরল বর্জ্য পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালার মানমাত্রার মধ্যে থাকতে হবে (ধারা ৭ক); লঙ্ঘনে অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড (ধারা ১৭ক)।
  • কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না; আইনে কৃষিজমি মানে এমন জমি, যা বছরে একাধিকবার কৃষিপণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর, বন, বাগান, জলাভূমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ও ডিগ্রেডেড এয়ার শেডেও ভাটা নিষিদ্ধ (ধারা ৮(১)); এসব নিষিদ্ধ এলাকার সীমারেখা থেকে ন্যূনতম ১ কিলোমিটারের মধ্যেও নয় (ধারা ৮(৩))। নিষিদ্ধ এলাকায় ভাটা স্থাপনের শাস্তি অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড (ধারা ১৮)।

আইন অনুযায়ী, কোনো ইটভাটার কারণে আশপাশের এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়লে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে অনধিক ৯০ দিনের জন্য লাইসেন্স স্থগিত করে ভাটার কাজ বন্ধ রাখতে পারেন, এবং মালিককে শুনানির সুযোগ দিয়ে লাইসেন্স বাতিল করতে পারেন (ধারা ১১)। প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান কমিটি থাকে; এর সদস্যদের মধ্যে আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, আর সদস্য-সচিব পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা (ধারা ১২)। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা যেকোনো সময় বিনা নোটিশে যেকোনো ইটভাটায় ঢুকে পরিদর্শন করতে পারেন (ধারা ১৩), এবং এ আইনের অপরাধের বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে করতে পারেন (ধারা ১৯)।

রাজিবপুরের ভাটাটির লাইসেন্স ছিল কি না, ফসলি জমি থেকে এর দূরত্ব কত, বা এতে কোন কয়লা পোড়ানো হতো, জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও যেমন বলেছেন, অভিযোগ দায়ের হলে এ ধরনের তদন্তে এই বিষয়গুলোই দেখা হতো।

কুড়িগ্রাম ও উত্তরের জেলাগুলোতে ইটভাটা ও কৃষিজমি


রাজিবপুরের অভিযোগটি এসেছে উত্তরাঞ্চলে কৃষিজমিতে বা এর কাছে ইটভাটা নিয়ে বারবার প্রকাশিত খবরের পটভূমিতে। ২০২২ সালের এপ্রিলে রংপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ১৭০টি ইটভাটার মধ্যে ১৩০টি কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে, এবং অবৈধ ভাটার তালিকা অভিযানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টার বাংলা পরিবেশ অধিদপ্তরের বরাতে জানায়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার অন্তত ৫৯৫টি ইটভাটায় ইট তৈরিতে ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহার হচ্ছে। এর আগের এক সপ্তাহে এই চার জেলায় এ কারণে ১২টি ইটভাটাকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করে স্থানীয় প্রশাসন; অভিযান হয় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও উলিপুরসহ কয়েকটি উপজেলায়। রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের একজন জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, টপ সয়েলে জৈব উপাদান ও অণুজীব সবচেয়ে বেশি থাকে, এবং এই মাটি একবার সরিয়ে নিলে জমির উর্বরতা ফিরতে এক দশকের বেশি সময় লাগে। কুড়িগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম তখন জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে।

এ অঞ্চলে ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতির আগের অভিযোগ


রাজিবপুরের মতো অভিযোগ এ অঞ্চলে এক দশকের বেশি সময় ধরে খবরে আসছে। ২০১৩ সালের ১৭ মে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, রংপুরের বদরগঞ্জ ও কাউনিয়া উপজেলায় দুটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ২৩০ একর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শন করে অন্তত ৮০ একর জমির বোরো পুরোপুরি নষ্ট দেখতে পান বলে জানান; সংশ্লিষ্ট ভাটার মালিক কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেন, আর রংপুরের জেলা প্রশাসক জানান, তিনি দুই ভাটার মালিককেই ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছেন। বদরগঞ্জে আম, কাঁঠাল ও লিচুগাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে পত্রিকাটি জানায়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, লালমনিরহাটের আদিতমারীতে একটি ভাটার উড়ন্ত ছাই ও ঘন ধোঁয়ায় বোরো ও ভুট্টার ক্ষতি হওয়ায় প্রায় ৬০ জন কৃষক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার বাংলা কৃষকদের অভিযোগ তুলে ধরে জানায়, দুটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪০০ বিঘা জমির বোরো ধান শুকিয়ে গেছে: লালমনিরহাট সদরের কর্ণপুর গ্রামে ৩৫০ বিঘা এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বালাবাড়ী কিসামতবানু গ্রামে ৫০ বিঘা। চিলমারী উপজেলা রাজিবপুরের উত্তরের প্রতিবেশী। কৃষকেরা জানান, আম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল ও সুপারিগাছের পাতা বাদামি হয়ে গেছে, এবং ফসলি জমির মাঝখান থেকে ভাটা সরাতে তারা উপজেলা প্রশাসনে আবেদন করেছেন। ভাটার মালিকেরা বলেন, তাদের ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতি হয়ে থাকলে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। লালমনিরহাটের ডিএইর উপপরিচালক বলেন, ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসনে প্রতিবেদন দিয়েছেন; দুই উপজেলার ইউএনও জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওই আগের ঘটনাগুলোতে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠ পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করেছিল। রাজিবপুরে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের কাছে কোনো অভিযোগ পৌঁছায়নি; কৃষকদের অভিযোগ আর মালিকের অস্বীকার তখনো পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল।

ছবি: Faizul Latif Chowdhury / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (২৬ এপ্রিল ২০২৬), বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (bdlaws.minlaw.gov.bd), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), দ্য ডেইলি স্টার (১৭ মে ২০১৩), দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (২৬ এপ্রিল ২০২২ ও ৬ জানুয়ারি ২০২৬), ঢাকা ট্রিবিউন (২২ এপ্রিল ২০২১), থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন/বিজনেসলাইভ (২৮ মে ২০২১), ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন (২০১৫), প্লস ওয়ান (২০২২)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জমির সিদ্ধান্তের ভার পেয়ে তুলার ফলন সাত গুণ করলেন মহারাষ্ট্রের সুনীতা

একসময় দিনমজুরি করা, পরিবারের ১২ একর জমি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার না থাকা মহারাষ্ট্রের পাচোদ গ্রামের সুনীতা নেহারে এখন খামার চালান; মাটি ও পানি সংরক্ষণে একরপ্রতি তুলার ফলন প্রায় ১ থেকে বাড়িয়েছেন ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টালে।

ডাউন টু আর্থ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)