সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া হাটে ফ্রিজিয়ান গরু ‘কালো পাহাড়’, দাম হাঁকা ৭ লাখ টাকা

২০২৬ সালের ২৩ মে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া কোরবানির পশুর হাটে ২০ মণ ওজনের (খামারির হিসাবে) ফ্রিজিয়ান জাতের গরু ‘কালো পাহাড়’-এর দাম ৭ লাখ টাকা হেঁকেছিলেন খামারি; সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রস্তাব ছিল সাড়ে ৪ লাখ টাকা।

মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া হাটে ফ্রিজিয়ান গরু ‘কালো পাহাড়’, দাম হাঁকা ৭ লাখ টাকা
লাইভস্টক

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া কোরবানির পশুর হাটে ২০২৬ সালের ২৩ মে, শনিবার, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল ফ্রিজিয়ান জাতের বিশাল আকৃতির একটি গরু। গরুটির নাম ‘কালো পাহাড়’। সেদিন বিক্রির আশায় সেটিকে হাটে এনেছিলেন খামারি আবুল কাশেম (৫০)। তাঁর হিসাবে গরুটির ওজন ২০ মণ, আর দাম হেঁকেছিলেন ৭ লাখ টাকা। ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলো তখন জমে উঠতে শুরু করেছিল।

জাগো নিউজ ২৪-এর মিরসরাই প্রতিনিধি সেদিন রাতে জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ক্রেতারা গরুটির সর্বোচ্চ দাম বলেছিলেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় আবুল কাশেম তখনো গরুর রশি ছাড়েননি, অর্থাৎ সেই সময় পর্যন্ত গরুটি বিক্রি হয়নি।

হাটে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল গরুটি। কেউ দাম জিজ্ঞেস করছিলেন, কেউ আবার ছবি তুলছিলেন ও ভিডিও ধারণ করছিলেন।

খামারির কথা: খড়, ভুসি আর খৈলে বড় করা


বিক্রেতা আবুল কাশেম জাগো নিউজকে বলেছিলেন, ‘অনেক যত্ন করে গরুটি লালন-পালন করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করিনি। কাঁচা ও শুকনো খড়, ভুসি ও খৈলসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছি। আশা করছি ভালো দামেই বিক্রি করতে পারবো। গরুটির ওজন ২০ মণ হবে।’

গরুটির ওজন ও খাবারের বিবরণ খামারির নিজের বক্তব্য। প্রতিবেদনে যন্ত্রে মাপা ওজনের কোনো হিসাব কিংবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কোনো মন্তব্য ছিল না। গরুটির বয়স কত, কত দিন ধরে সেটি পালন করা হয়েছিল, সে তথ্যও প্রতিবেদনে আসেনি।

খড়, ভুসি ও খৈল দেশের গরু পালনের পরিচিত খাবার। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার ‘গবাদিপশু’ ভুক্তিতে বলা হয়েছে, দেশে কেউ কেউ এক বছর বয়সী এঁড়ে বাছুর মোটাতাজা করতে প্রচলিত ও অপ্রচলিত দুই ধরনের খাদ্যই ব্যবহার করেন। এর সঙ্গে সম্পূরক হিসেবে দেওয়া হয় কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভাতের মাড়, ইউরিয়া-মোলাসেস ব্লক ও ইউরিয়া-মোলাসেস মেশানো খড়। একই ভুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে গরু মূলত ফসলভিত্তিক প্রচলিত মিশ্র কৃষির অংশ হিসেবে এবং হালচাষ ও গোবরসারের উৎস হিসেবে পালন করা হয়; তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহর ও শহরতলিতে ছোট আকারের বাণিজ্যিক দুগ্ধ ও মাংসের খামার গড়ে উঠেছে।

২০২৬ সালের কোরবানির মৌসুমে এসব খাবারের দাম ছিল খামারিদের বড় দুশ্চিন্তা। ১২ মে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাংলা সংস্করণে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক খামারমালিক বলেছিলেন, একসময় যে গমের ভুসি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যেত, তা তখন বিক্রি হচ্ছিল ৭০ টাকায়, আর সয়াবিনের দাম পৌঁছেছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। ১৭ মে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) যশোরের প্রতিবেদনে এক খামারি বলেছিলেন, গত কয়েক বছরে খড়, ভুসি, ভুট্টা ও ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও।

একই প্রতিবেদনে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেছিলেন, খামারিদের শুধু দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভর না করে কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ কেবল দানাদার খাদ্য খাওয়ালে পশু পালনের খরচ বেড়ে যায়। তবে দেশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি না থাকায় ঘাসও চাষ করেই খাওয়াতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর আরেকটি পর্যবেক্ষণ ছিল, সব খামারি কোরবানির ঈদ লক্ষ্য করে পশু পালন করেন বলে একই সময়ে অনেক পশু হাটে ওঠে এবং দাম কমে যায়।

আইনে যা নিষিদ্ধ: হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশক


আবুল কাশেম ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করার যে কথা বলেছিলেন, পশুখাদ্যে তেমন রাসায়নিকের ব্যবহার বাংলাদেশে আইনেই নিষিদ্ধ। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইনের (২০১০ সালের ২ নম্বর আইন) ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক মাছের খাদ্য ও পশুখাদ্যে ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন আইনের অধীনে অপরাধ।

আইনটির ২০ ধারায় এ আইনের অধীনে অপরাধের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পশুখাদ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, আর মাছের খাদ্যের ক্ষেত্রে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

কোরবানির আগে স্থানীয় প্রশাসনের নজরও ছিল এ বিষয়ে। ২১ মে জাগো নিউজের চট্টগ্রাম প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক এস্টেট অফিসার বলেছিলেন, কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজাকরণ রোধে তাঁরা নিয়মিত তদারকি করছেন। একই প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেছিলেন, সুস্থ ও নিরাপদ পশু নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খামারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হাটগুলোতেও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে।

অন্য জেলাতেও একই ধরনের ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছিল। বাসসের ১৭ মে-র প্রতিবেদনে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেছিলেন, প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি টিম কাজ করবে এবং কোনো অসুস্থ পশু, গর্ভবতী গাভি বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মোটাতাজা করা পশু যাতে বিক্রি না হয়, তা তদারকি করা হবে। ঢাকার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৩ মে জানিয়েছিল, দুই সিটি করপোরেশনের ২৭টি হাটে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগে একটি পশুর হাটে কোরবানির গরু, ২০২৪ সালের জুনে তোলা। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগে একটি পশুর হাটে কোরবানির গরু, ২০২৪ সালের জুনে তোলা। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ফ্রিজিয়ান জাত: দুধের জন্য গড়ে ওঠা বিদেশি গরু


‘কালো পাহাড়’-কে প্রতিবেদনে ফ্রিজিয়ান জাতের বলা হয়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবে জাতটি হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান বা সংক্ষেপে হলস্টেইন নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবাদিপশুর জাত-বিষয়ক তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, জাতটির ঐতিহাসিক বিকাশ ঘটেছে বর্তমান নেদারল্যান্ডসে, বিশেষ করে জুইডার জি-র দুই পাশের উত্তর হল্যান্ড ও ফ্রিসল্যান্ড প্রদেশে। প্রায় দুই হাজার বছর আগে রাইন বদ্বীপ অঞ্চলে বসতি গড়া বাটাভিয়ান ও ফ্রিজিয়ান জনগোষ্ঠীর কালো ও সাদা গরু থেকে এর সূচনা।

একই সূত্র বলছে, ওই অঞ্চলের সবচেয়ে সহজলভ্য সম্পদ ঘাস, আর সেই ঘাসের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করতে পারে এমন পশু বেছে বেছে বহু বছর ধরে প্রজনন করানো হয়েছিল। এভাবে গড়ে ওঠে বেশি দুধ দেওয়া সাদা-কালো গাভির একটি দক্ষ জাত। হলস্টেইন বড় আকারের গরু; গায়ের রং সাদা-কালো বা লাল-সাদা ছোপের। পূর্ণবয়স্ক একটি গাভির ওজন প্রায় ১,৫০০ পাউন্ড, কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৫৮ ইঞ্চি, আর জন্মের সময় সুস্থ বাছুরের ওজন হয় ৯০ পাউন্ড বা তার বেশি। জাতটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত এর স্বতন্ত্র রঙের ছোপ আর বিপুল দুধ উৎপাদনের জন্য।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, দেশি গরুর উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে অতীতে কয়েক দফায় বিদেশি জাতের সঙ্গে সংকরায়ণের চেষ্টা হয়েছে। আনা জাতগুলোর মধ্যে আছে হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান, জার্সি, শাহিওয়াল, হরিয়ানা, সিন্ধি, অস্ট্রেলিয়ান ও শাহিওয়াল-ফ্রিজিয়ান। সরকারি দুগ্ধখামার, বাণিজ্যিক দুগ্ধখামার, দুধ উৎপাদনের এলাকা এবং শহর ও শহরতলিতে এসব বিদেশি খাঁটি জাত, তাদের সংকর ও উন্নীত জাতের গরু দেখা যায়।

ভুক্তিটিতে দেশের সংকর গরুর মধ্যে ফ্রিজিয়ান-পাবনা সংকর ও ফ্রিজিয়ান সংকরের কথা আছে; প্রতি দুগ্ধকালে এদের দুধ উৎপাদন যথাক্রমে ১,৪৬০ ও ১,৮০০ লিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বেশির ভাগ গরু নির্দিষ্ট জাতবিহীন দেশি জেবু ধরনের, যাদের গড় দুধ উৎপাদন প্রতি দুগ্ধকালে প্রায় ২০৬ কেজি। তবে বাংলাপিডিয়া এটিও বলছে যে খাঁটি ও সংকর জাতের গরুর পুষ্টির চাহিদা বেশি, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা কম এবং দেশি গরুর তুলনায় এরা পরজীবী ও রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। দেশি গরু রোগে কম ভোগে, গরম সহ্য করতে পারে এবং নিম্নমানের খড়জাতীয় খাবারও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে।

চট্টগ্রামের নিজস্ব একটি দেশি গরুও আছে। বাংলাপিডিয়া জানাচ্ছে, দেশের সেরা দেশি গরু পাওয়া যায় পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও মুন্সীগঞ্জ এলাকায়। চট্টগ্রামে কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের সুন্দর লাল রঙের গরু দেখা যায়, যা রেড চিটাগং ক্যাটল বা লাল চাটগাঁইয়া গরু নামে পরিচিত; এ গরু দিনে প্রায় ২ লিটার দুধ দিতে পারে।

মণের হিসাব ও বড় গরুর বাজার


গ্রামবাংলায় গরুর ওজন সাধারণত মণে বলা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মণ উপমহাদেশের পুরোনো ওজনের একক; এক মণ ৪০ সেরের সমান। ব্রিটিশ ভারতে ১৮৩৩ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সিতে প্রথম এর মান নির্ধারণ করা হয়, যার মেট্রিক মান দাঁড়ায় ৩৭.৩২৪২ কেজি। তবে বাংলাদেশে প্রচলিত হিসাবে এক মণকে ৪০ কেজি ধরা হয়। হাটে বড় গরুর ওজন অনেক সময় খামারির অনুমান থেকেই বলা হয়, যেমন ‘কালো পাহাড়’-এর ২০ মণের কথাও ছিল খামারির নিজের হিসাব।

২০২৬ সালের মে মাসে চট্টগ্রামের হাটের চিত্র বলছিল, বড় গরুর ক্রেতা তুলনামূলক কম। ২১ মে জাগো নিউজের প্রতিবেদনে নগরের সাগরিকা পশুর হাটের এক ব্যবসায়ী বলেছিলেন, মানুষ হিসাব করে কোরবানি দিচ্ছেন, বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর চাহিদা বেশি এবং সবাই ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে গরু খুঁজছেন। প্রতিবেদনটিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সংসার খরচের চাপ ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কম দামের পশুর চাহিদা বাড়ার কথা বলা হয়েছিল। পশু ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, খামার পর্যায়ে খাবার, ওষুধ ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও বাজারে অতিরিক্ত দাম হাঁকার সুযোগ কম, কারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা আগের মতো নেই।

বড় গরুর ক্ষেত্রে খামারির চাওয়া দাম আর ক্রেতার প্রস্তাবের ব্যবধান অন্য জেলাতেও দেখা গিয়েছিল। ১৮ মে বাংলা ট্রিবিউন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার এক কৃষক দম্পতির ৩৫ মণ ওজনের ফ্রিজিয়ান-শাহিওয়াল জাতের একটি কালো ষাঁড়ের খবর দিয়েছিল। দম্পতির দাবি ছিল, ঘাস, খড় ও কুঁড়া খাইয়ে কোনো মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই চার বছর ধরে ষাঁড়টি বড় করা হয়েছে। তাঁরা দাম চেয়েছিলেন ১৮ লাখ টাকা, আর তাঁদের ভাষ্যে ঢাকার এক ক্রেতা ১১ লাখ টাকা দাম বলেছিলেন।

আগের বছরের অভিজ্ঞতাও খামারিদের ভাবিয়েছিল। বাসসের ১৭ মে-র যশোর প্রতিবেদনে সদর উপজেলার এক খামারি বলেছিলেন, ২০২৫ সালে কোরবানির আগে শেষ সময়ে হাটে ক্রেতা কম ছিল এবং তাঁকে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে গরু বিক্রি করতে হয়েছিল, তাতে লোকসান হয়। আরেক খামারি বলেছিলেন, আগের বছর শেষ পর্যন্ত অনেক গরু বিক্রি হয়নি এবং ছোট খামারিরা ন্যায্য দাম পাননি।

ঢাকার শাহজাহানপুরের পশুর হাটে কোরবানির পশু কেনার ভিড়, ২০২৫ সালের জুনে তোলা। ছবি: S.M.M.Musabbir Uddin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার শাহজাহানপুরের পশুর হাটে কোরবানির পশু কেনার ভিড়, ২০২৫ সালের জুনে তোলা। ছবি: S.M.M.Musabbir Uddin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মিরসরাই: পাহাড় আর সাগরের মাঝের উপজেলা


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মিরসরাই উপজেলার আয়তন ৪৮২.৮৮ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলা, দক্ষিণে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফটিকছড়ি উপজেলা, আর পশ্চিমে সোনাগাজী ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। প্রধান নদী ফেনী; এ ছাড়া সন্দ্বীপ চ্যানেল এবং ইছাখালী, মহামায়া, ডোমখালী, হিঙ্গুলী ও মায়ানী খাল উল্লেখযোগ্য। মিরসরাই থানা গঠিত হয় ১৯০১ সালে, আর ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলা হয়।

উপজেলায় বারইয়ারহাট ও মিরসরাই নামে দুটি পৌরসভা এবং ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৯৪। বাংলাপিডিয়ায় উদ্ধৃত পরিসংখ্যানে উপজেলার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি (৩৮.৯৩ শতাংশ); এরপর চাকরি (১৮ শতাংশ) ও ব্যবসা (১৩.২৬ শতাংশ)।

একই ভুক্তি অনুযায়ী, মিরসরাইয়ের প্রধান ফসল ধান, ডাল, আলু, বেগুন, শাকসবজি ও বাঁশ; প্রধান ফল আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, লিচু, আনারস ও তরমুজ। উপজেলা থেকে বাঁশ, মাছ, ধান, আলু, কলা ও সবজি বাইরে যায়। ভুক্তিতে উদ্ধৃত পুরোনো জরিপে উপজেলায় ২৯টি দুগ্ধখামার, ৫৭৬টি পোলট্রি খামার ও ২২৬টি মৎস্য খামারের হিসাব ছিল।

উপজেলায় হাটবাজারের সংখ্যা ৫২। উল্লেখযোগ্য হাটবাজারের মধ্যে বাংলাপিডিয়া আবু তোরাব বাজার, কমর আলী বাজার, বড় দারোগাহাট, মহাজনহাট, করেরহাট, বারইয়াহাট ও শান্তিরহাটের নাম দিয়েছে। বড়তাকিয়া নামে উপজেলায় আখাউড়া-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথের একটি রেলস্টেশনও রয়েছে, যা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ১৮৯৫ সালের ১ জুলাই চালু হয়েছিল। বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বাংলাপিডিয়া মুহুরী প্রকল্প ও করেরহাট বনরেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে; উপজেলার মহামায়া লেকও পরিচিত একটি স্থান।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মহামায়া লেক, ২০১৪ সালের অক্টোবরে তোলা। ছবি: Hasib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মহামায়া লেক, ২০১৪ সালের অক্টোবরে তোলা। ছবি: Hasib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

চট্টগ্রাম জেলায় কোরবানির পশুর হিসাব


২১ মে জাগো নিউজে প্রকাশিত চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট প্রাপ্যতা ছিল ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৫ লাখ ৪৭ হাজার ১১৩টি এবং ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য পশু ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮টি। বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল ৩৫ হাজার ৫২০টি।

এই ঘাটতি ছিল মূলত নগরকেন্দ্রিক। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তালিকায় সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত ছিল সন্দ্বীপে, চাহিদার চেয়ে ১১ হাজার ৬০৪টি পশু বেশি। এরপর ছিল ফটিকছড়ি (৭ হাজার ৮১৮), লোহাগাড়া (৬ হাজার ৯৭৬), বোয়ালখালী (৬ হাজার ৯৭২) ও মিরসরাই (৬ হাজার ৫১০)। অর্থাৎ মিরসরাই ছিল জেলার উদ্বৃত্ত পশুর উপজেলাগুলোর একটি। অন্যদিকে নগরের ডবলমুরিংয়ে ঘাটতি ছিল ৪৭ হাজার ২০টি, কোতোয়ালিতে ৩১ হাজার ১৫৮টি এবং পাঁচলাইশে ৩০ হাজার ১৫২টি। মোট প্রাপ্যতায় শীর্ষে ছিল ফটিকছড়ি (৬৯ হাজার ৪৭৮টি), এরপর সন্দ্বীপ (৬২ হাজার ৩১০), বাঁশখালী (৬০ হাজার ৩৮৯) ও পটিয়া (৫৯ হাজার ৭৩৫)।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জাগো নিউজকে বলেছিলেন, নগর এলাকায় পশু পালনের সুযোগ কম থাকায় এসব এলাকাকে কোরবানির পশুর জন্য মূলত গ্রামীণ উপজেলা ও পার্বত্য জেলাগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে সামগ্রিকভাবে জেলায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কুষ্টিয়া, যশোর, রাজবাড়ী, পাবনা, ঈশ্বরদী, রাজশাহী, নওগাঁ, সাতক্ষীরা ও কুড়িগ্রামসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশুতে চট্টগ্রামের হাটগুলো ভরে ওঠে, আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিবছর ঈদুল আজহার আগে ১০টি নির্ধারিত হাট পরিচালনার অনুমতি দেয়। ব্যবসায়ী ও খামারিদের বরাতে প্রতিবেদনটি জানিয়েছিল, সেবার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু না আসায় স্থানীয় খামারিরা স্বস্তিতে ছিলেন।

জেলায় পশু উৎপাদন কমার পেছনের কারণও তখন আলোচনায় ছিল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১২ মে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে দেড় বছর আগেও চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি খামার ছিল, যার মধ্যে পাঁচ শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রতিবেদনটি এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ব্যাংকঋণ না পাওয়া, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও গরু চুরির ঘটনার কথা বলেছিল। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে তাতে বলা হয়েছিল, জেলায় ২০২৩ সালে উৎপাদন ছিল ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি এবং ২০২৪ সালে ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি।

ওই প্রতিবেদনে কয়েকজন খামারমালিক অভিযোগ করেছিলেন, টিকার জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়া যায় না এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকেও কার্যকর সহযোগিতা মেলে না। জবাবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেছিলেন, সহযোগিতার জন্য উপজেলা অফিসে যেতে হবে, ওষুধের জন্য তাঁদের বাজেট সীমিত এবং যা থাকে তা গরিব ও অসহায়দের দেওয়া হয়; কোনো উপজেলা অফিসে সহযোগিতা না পেলে লিখিত অভিযোগ দিলে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন। জেলার সামান্য ঘাটতি বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বেপারীদের আনা পশুতে পূরণ হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

দেশজুড়ে কোরবানির পশুর প্রাপ্যতা ও প্রস্তুতি


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ৩ মে এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিল, সে বছর দেশে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি, আর প্রাপ্যতা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু। কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে গরু-মহিষ ছিল ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল-ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং উট, দুম্বাসহ অন্যান্য প্রজাতির পশু ৫ হাজার ৬৫৫টি।

একই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছিল, সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে; এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট। কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর থাকবে এবং হাট ও ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। দেশীয় খামারিদের স্বার্থে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় পশুর হাট না বসানোর নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও বলা হয়েছিল। অনলাইনে পশু কেনায় কোনো খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না, আর চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য পেশাদার ও অপেশাদার কসাইদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ঢাকা ট্রিবিউনের ৩ মে-র প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের বরাতে আগের বছরের হিসাবও এসেছিল: ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি, আর প্রকৃতপক্ষে কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্ল্যান্স ২০২৪-২০২৫’ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে গরু ছিল ২৫১.৭১ লাখ, মহিষ ১৫.৩২ লাখ, ছাগল ২৭২.৯১ লাখ এবং ভেড়া ৩৯.৮১ লাখ। সে বছর মাংস উৎপাদন হয়েছিল ৮৯.৫৪ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে চাহিদা ধরা হয়েছিল ৭৭.৯২ লাখ মেট্রিক টন। স্থির মূল্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১.৮১ শতাংশ এবং কৃষিখাতের জিডিপিতে এর অংশ ১৬.৫৪ শতাংশ।

ঈদুল আজহা ও কোরবানির বিধান


জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ২০২৬ সালের ১৮ মে, সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সভা করে জানিয়েছিল, দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসাবে জিলহজ মাস শুরু হয় ১৯ মে, আর ১০ জিলহজ, ২৮ মে বৃহস্পতিবার দেশে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত হয়। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিটি চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। ফলে ‘কালো পাহাড়’ যেদিন হাটে উঠেছিল, সেদিন ঈদের বাকি ছিল আর কয়েক দিন।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ঈদুল আজহা মুসলিমদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতি বহন করে, যিনি আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন; আল্লাহ তাঁর আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট হয়ে পুত্রের বদলে একটি পশু কোরবানির নির্দেশ দেন। সেই ঘটনার অনুসরণে ১০ জিলহজ মিনায় হজযাত্রীরা এবং বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিমরা পশু কোরবানি দেন। ঈদের নামাজের পর থেকে পরের দুই বা তিন দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া যায়।

বাংলাপিডিয়ায় কোরবানির কিছু নিয়মও উল্লেখ আছে। কোরবানির পশুর নির্দিষ্ট বয়স হতে হয় এবং কিছু ত্রুটিমুক্ত হতে হয়; পশুটি অন্ধ হতে পারবে না, পা বা শিং ভাঙা হতে পারবে না, কান আংশিক বা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না। একটি উট, গরু বা মহিষ সাত জনের নামে কোরবানি দেওয়া যায়, আর একটি ভেড়া বা ছাগল কেবল একজনের নামে। বাংলাদেশে সাধারণত গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেওয়া হয়। প্রচলিত রীতিতে মাংসের এক-তৃতীয়াংশ নিজের জন্য রাখা হয়, এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়স্বজনকে এবং বাকি অংশ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। কোরবানির পশুর চামড়া বা তা বিক্রির অর্থ গরিব মানুষ কিংবা মাদ্রাসা ও এতিমখানার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের দেওয়ার কথা ভুক্তিতে বলা হয়েছে।

ছবি: Homoatrox / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলা ট্রিবিউন, দেশ রূপান্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ গেজেট (মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০), বাংলাপিডিয়া, ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)