চট্টগ্রামের টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (টিসিজেএ) ২০২৬ সালের ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর লাভ লেইনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ফল উৎসবের আয়োজন করে। জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশীয় ফলের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় বাড়ানো এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের লক্ষ্য। উৎসবে বিভিন্ন জাতের দেশীয় ফলের একটি প্রদর্শনীও ছিল।
কারা ছিলেন উৎসবে
সংগঠনের সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মামুনের সঞ্চালনায় উৎসবের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসীন চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী অমল কান্তি দাস ও তন্ময় দাস। বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
টিসিজেএর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সনজিব দে বাবু, সহ-সম্পাদক বাসু দেব, অর্থ সম্পাদক পারভেজ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সাইমুন আল মুরাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজিম উদ্দিন এবং নির্বাহী সদস্য রবিউল হোসেন টিপু, জহিরুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দিনসহ সংগঠনের সদস্যরা। গণমাধ্যমকর্মী, তাঁদের পরিবার ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বন্দরনগরীর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান; নগরীটি ৪১টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। ডা. শাহাদাত হোসেন ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে এর মেয়রের দায়িত্বে আছেন।

দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে বক্তারা যা বলেন
বক্তারা দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ফল চাষ বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দেশীয় ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; তাই নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহী করতে এমন আয়োজন সময়োপযোগী। পরে অতিথিরা ফলের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং আয়োজকদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আয়োজকেরা জানান, দেশীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং পুষ্টি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতেই তাঁরা এ উৎসবের উদ্যোগ নেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হালনাগাদ করা স্বাস্থ্যকর খাদ্য বিষয়ক তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেকের দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। সংস্থাটির মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য সব ধরনের অপুষ্টি এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

কাঁঠাল, আম ও লিচু: পরিচিত দেশীয় ফল
আম, কাঁঠাল ও লিচু দেশের পরিচিত দেশীয় ফল। কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল, আর আমগাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের পুষ্টি-তথ্যের ভিত্তিতে উইকিপিডিয়ায় উল্লেখ আছে, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা কাঁঠালে প্রায় ১৩.৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ৪৪৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, আর শক্তি মেলে ৯৫ কিলোক্যালরি।


ছবি: Azimronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (স্বাস্থ্যকর খাদ্য তথ্যপত্র, জানুয়ারি ২০২৬), উইকিপিডিয়া (চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, কাঁঠাল, আম)





মন্তব্য
(০)