কোরবানির উপযুক্ত সুস্থ গরু কীভাবে চিনবেন?
ওষুধ দিয়ে মোটাতাজা করা গরুতে এসব ক্ষতিকর উপাদান রান্নার পরেও মাংসে থেকে যেতে পারে। আর সেই মাংস খেলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিরাপদ মাংসের জন্য তাই সুস্থ গরু চেনাটা খুব জর
ওষুধ দিয়ে মোটাতাজা করা গরুতে এসব ক্ষতিকর উপাদান রান্নার পরেও মাংসে থেকে যেতে পারে। আর সেই মাংস খেলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিরাপদ মাংসের জন্য তাই সুস্থ গরু চেনাটা খুব জরুরি।
আর দু’দিন বাদেই ঈদ-উল-আযহা। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। চলছে দিনরাত বেচাকেনা।
হাটে বিক্রির জন্য যেসব গরু আসে, সেগুলোর মধ্যে রোগাক্রান্ত অথবা ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ওষুধযুক্ত গরুর সংখ্যাও কম না। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলছেন, স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গরু দেখতে চকচকে, হৃষ্টপুষ্ট ও আকর্ষণীয় দেখালেও আসলে সেগুলো মোটাতাজা হয় না।
ওষুধ দিয়ে মোটাতাজা করা গরুতে এসব ক্ষতিকর উপাদান রান্নার পরেও মাংসে থেকে যেতে পারে। আর সেই মাংস খেলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিরাপদ মাংসের জন্য তাই সুস্থ গরু চেনাটা খুব জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু বিশেষজ্ঞরা গরু কেনার সময় কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন-
১. রাসায়নিক বা ওষুধ দেয়া গরুর মাংসপেশি থেকে শুরু শরীরের অন্য অঙ্গগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে। শরীরে পানি জমায় বিভিন্ন অংশে চাপ দিলে সেখানে গর্ত হয়ে দেবে যাবে, এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় নেবে।
৩. অতিরিক্ত ওজনের কারণে এ সব গরু চলাফেরা বা স্বাভাবিক নাড়াচাড়া করতে পারেনা। শান্ত থাকে।
৪. রাসায়নিকযুক্ত গরু ভীষণ ক্লান্ত থাকবে এবং ঝিমাবে। সুস্থ গরুর গতিবিধি চটপটে থাকে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কান ও লেজ দিয়ে মশা মাছি তাড়ায়।
৫. রাসায়নিক বা ওষুধ খাওয়ানো গরুর শরীরের অঙ্গগুলো নষ্ট হতে শুরু করায় এগুলো শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হয়। মনে হবে যেন হাঁপাচ্ছে।
৬. অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেয়া গরুর মুখ থেকে প্রতিনিয়ত লালা ঝরবে। কিছু খেতে চাইবে না। সুস্থ গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে সেটা টেনে খাবে। না হলে জাবর কাটবে।



