সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পশ্চিম আফ্রিকার ফল মিরাকল বেরি চাষের নিয়ম: মাটি, যত্ন ও ফল তোলা

টক খাবারকে কিছুক্ষণের জন্য মিষ্টি করে তোলা পশ্চিম আফ্রিকার ফল মিরাকল বেরি বাংলাদেশেও চাষ করা যায় বলে ২০২৬ সালের ৯ মে জাগো নিউজের এক নির্দেশিকায় জানানো হয়; গাছটি অম্লীয় মাটি, আংশিক ছায়া ও নিয়মিত পানি পছন্দ করে।

পশ্চিম আফ্রিকার ফল মিরাকল বেরি চাষের নিয়ম: মাটি, যত্ন ও ফল তোলা
ফল

২০২৬ সালের ৯ মে জাগো নিউজ পশ্চিম আফ্রিকার ফল মিরাকল বেরি কীভাবে চাষ করা যায়, তা নিয়ে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। এই ফল খাওয়ার পর কিছুক্ষণ টক খাবারও মিষ্টি লাগে, আর এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের জন্যই ফলটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশেও এ ফল চাষ করা যায় এবং শখের বাগান ও ছাদ বাগানে এটি জনপ্রিয় হচ্ছে।

মিরাকল বেরি কী


মিরাকল বেরির বৈজ্ঞানিক নাম সিনসেপালাম ডালসিফিকাম (Synsepalum dulcificum)। এটি সাপোটেসি পরিবারের একটি চিরসবুজ গুল্ম। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের (ইউএফ/আইএফএএস) ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের এক প্রকাশনা অনুযায়ী, গাছটির আদি নিবাস পশ্চিম আফ্রিকার ঘানা থেকে কঙ্গো পর্যন্ত দেশগুলো। গাছ কয়েক মিটার উঁচু হতে পারে, তবে ফল তোলার সুবিধার জন্য ছেঁটে ছোট রাখা হয়। ফল উজ্জ্বল লাল, প্রায় ২ সেন্টিমিটার লম্বা। ভেতরের বড় বীজকে ঘিরে থাকা সাদা শাঁসে থাকে মিরাকুলিন নামের একটি প্রোটিন।

মিরাকুলিন জিহ্বার স্বাদগ্রাহকের ওপর সাময়িকভাবে কাজ করে টক বা অম্লীয় খাবারকে মিষ্টি অনুভূত করায়। ইউএফ/আইএফএএসের বাগানবিষয়ক পাতায় বলা হয়েছে, এই প্রভাব ১৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে। ফলটির নিজের স্বাদ তেমন জোরালো নয় এবং এতে চিনির পরিমাণ কম।

ফ্লোরিডার গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, মিরাকুলিনের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে যেসব গবেষণা আছে, তার অনেকগুলোর নমুনা ছোট, কিছু আবার মানুষের ওপর করা হয়নি। তাই এ ফলকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যায় খাদ্যাভ্যাস বদলানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপের একটি বাগানে মিরাকল বেরির গাছ। ছবি: Forest and Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপের একটি বাগানে মিরাকল বেরির গাছ। ছবি: Forest and Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

মাটি, আলো ও রোপণ


জাগো নিউজের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সামান্য অম্লীয় ও সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটি এ গাছের জন্য উপযোগী। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গাছটি পিএইচ ৪.৫ থেকে ৫.৮ মাত্রার অম্লীয় মাটিতে, আংশিক ছায়ায় ও উচ্চ আর্দ্রতায় সবচেয়ে ভালো বাড়ে, তবে পূর্ণ রোদও সহ্য করতে পারে। ইউএফ/আইএফএএস বলছে, ক্ষারীয় মাটি এ গাছ সহ্য করতে পারে না। এ কারণে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বাণিজ্যিকভাবে গাছটি বড় টবে (প্রায় ২০ গ্যালন) মাটিবিহীন মিশ্রণে চাষ করা হয়।

টবে বা সরাসরি মাটিতে, দুইভাবেই গাছ লাগানো যায়। টবে লাগালে বড় টব বেছে নিতে এবং নিয়মিত পানি ও যত্ন দিতে বলা হয়েছিল জাগো নিউজের প্রতিবেদনে। সেখানে দ্রুত ফল পেতে কলমের চারা লাগানোর পরামর্শও দেওয়া হয়। ইউএফ/আইএফএএস জানায়, বীজ থেকে চারা করা যায়, তবে বীজ শুকিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না, কারণ তোলার পর দ্রুত এর অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কমে যায়। শিকড় গজানো ডাল বা কাটিং থেকেও চারা তৈরি করা যায়।

জার্মানির ভিটজেনহাউজেনে ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় কৃষির জার্মান ইনস্টিটিউটের (ডিআইটিএসএল) গ্রিনহাউসে মিরাকল বেরির গাছ। ছবি: James Steakley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
জার্মানির ভিটজেনহাউজেনে ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় কৃষির জার্মান ইনস্টিটিউটের (ডিআইটিএসএল) গ্রিনহাউসে মিরাকল বেরির গাছ। ছবি: James Steakley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

পানি, সার ও রোগবালাই


গাছের গোড়ায় পানির ঘাটতি রাখা যাবে না, মাটি সব সময় আর্দ্র রাখতে হবে, তবে জলাবদ্ধতা এড়িয়ে চলতে হবে। ইউএফ/আইএফএএসও শুষ্ক মৌসুমে বাড়তি সেচের কথা বলেছে। জাগো নিউজ কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্টের মতো জৈব সার দেওয়ার পরামর্শ দেয় এবং নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামযুক্ত সার খুব কম পরিমাণে ব্যবহার করতে বলে। ফ্লোরিডার গবেষকেরা জানিয়েছেন, নিয়মিত সুষম ধীর-নিঃসরণ সার গাছের বৃদ্ধি ও ফলনে সাহায্য করে, তবে এ গাছের জন্য সারের নির্দিষ্ট মাত্রা এখনো গবেষণায় ঠিক হয়নি। তাই সারের পরিমাণ জানতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

দক্ষিণ ফ্লোরিডায় এ গাছের বড় কোনো রোগ দেখা যায়নি বলে ইউএফ/আইএফএএস জানিয়েছে। সেখানে প্রধান শত্রু মিলিবাগ ও মাকড়, যা পণ্যের লেবেলের নির্দেশনা মেনে হর্টিকালচারাল তেল বা সাবান দিয়ে দমন করা হয়। উইকিপিডিয়ায় উল্লেখ আছে, আফ্রিকায় এর পাতায় প্রজাপতি ও মথ জাতীয় পোকার শূককীট এবং ফলে ফলের মাছির শূককীট আক্রমণ করে। কোনো বালাইনাশক ব্যবহারের আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা উচিত। ফল তোলার সুবিধার জন্য বছরে একবার ছাঁটাই করার কথা বলেছে ইউএফ/আইএফএএস।

কখন ফল আসে, কীভাবে তুলবেন


ইউএফ/আইএফএএস অনুযায়ী, সুস্থ গাছ তৃতীয় বছরে ফল দিতে শুরু করে এবং পঞ্চম বছরের দিকে সবচেয়ে বেশি ফলন দেয়। বোঁটার কাছের অংশসহ পুরো ফল লাল হলে তা তোলা হয় এবং তখন সরাসরি খাওয়া যায়। ফল বেশি পেকে নষ্ট হওয়া ঠেকাতে প্রতি সপ্তাহে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাজা ফল বেশি দিন রাখা যায় না এবং তাপে মিরাকুলিন নষ্ট হয়, তাই ফল হিমায়িত করে বা ফ্রিজ-ড্রাই করে সংরক্ষণ করতে হয়।

বাংলাদেশেও এ গাছে ফল ধরার নজির আছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রথম আলো জানায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামের একটি ফলবাগানে প্রায় তিন বছর আগে লাগানো পাঁচটি মিরাকল বেরি গাছের প্রতিটিতেই ফল ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝরে পড়ার পর ফলটি ৪৮ ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ করা যায় না এবং সহজে বাজারে মেলে না।

গাছে পাকা লাল মিরাকল বেরি। ছবি: MiracleFruitFarm / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
গাছে পাকা লাল মিরাকল বেরি। ছবি: MiracleFruitFarm / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ছবি: scott.zona / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা আইএফএএস (এডিস প্রকাশনা এইচএস১৪৪৯ ও গার্ডেনিং সলিউশনস), প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)