সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কলার পানামা রোগ: ফিউজেরিয়াম উইল্ট চেনার উপায় ও প্রতিরোধে করণীয়

২০২৬ সালের ২৭ মার্চ জাগো নিউজে প্রকাশিত এক লেখায় কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সমীরণ বিশ্বাস কলাচাষিদের পানামা রোগ প্রতিরোধে জোর দিতে বলেন; মাটিবাহিত এই ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া রোগ একবার জমিতে ঢুকলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

কলার পানামা রোগ: ফিউজেরিয়াম উইল্ট চেনার উপায় ও প্রতিরোধে করণীয়
ফল

২০২৬ সালের ২৭ মার্চ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ২৪ কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সমীরণ বিশ্বাসের একটি লেখা প্রকাশ করে। বিষয় ছিল কলার পানামা রোগ, একটি ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া রোগ। লেখায় তিনি রোগটি কীভাবে হয়, মাঠে কীভাবে চেনা যায় এবং কৃষক কী করতে পারেন, তা তুলে ধরেন। তাঁর মূল কথা ছিল, রোগটি একবার মাটিতে ঢুকলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে জরুরি। এই প্রতিবেদনে তাঁর পরামর্শগুলো আবার বলা হলো এবং লেখাটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত কলা গবেষকদের কাজ ও বাংলাদেশের কৃষি সংস্থাগুলোর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলো।

সমীরণ বিশ্বাস লেখা শুরু করেন বাংলাদেশে কলার গুরুত্ব দিয়ে। তিনি লেখেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কলা উৎপাদিত হয় এবং সারা বছর এর ফল পাওয়া যায়। তাঁর হিসাবে দেশে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়, বছরে উৎপাদন প্রায় সাত লাখ টন, যা দেশের মোট ফল উৎপাদনের প্রায় ৪২ শতাংশ। তাঁর মতে, উৎপাদন, গুণগত মান ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দুর্বলতার কারণে অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশ কলা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারছে না। ফলে কৃষকেরা মূলত দেশের বাজারের জন্যই কলা ফলান, আর বৈজ্ঞানিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে অনেকে প্রত্যাশিত লাভ পান না। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি পানামা রোগ এবং এর প্রতিকারের উপায় জানা জরুরি বলে মনে করেন।

বাংলাদেশে কলা: সরকারি হিসাব কী বলে


কলার উৎপাদন নিয়ে সরকারি হিসাব সংস্থাভেদে আলাদা, কারণ কোন সংস্থা কী মাপছে তার ওপর সংখ্যা নির্ভর করে। তাই লেখকের দেওয়া সংখ্যাগুলো এসব হিসাবের পাশাপাশি পড়া ভালো। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাকা কলার উৎপাদন ছিল ৮ লাখ ৬২ হাজার ৬৯২ টন, আগের বছর যা ছিল ৮ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ টন। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এই তথ্য প্রকাশ করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হিসাব এর চেয়ে অনেক বড়। ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, পত্রিকাটি যে সময়কাল পর্যালোচনা করেছে তাতে কলার উৎপাদন ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ২৫ লাখ টন হয়েছে। একই সময়ে আমের উৎপাদন ২০১২-১৩ অর্থবছরের ১৫ লাখ টন থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৭ লাখ টনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ডিএইর হিসাবে দেশের সবচেয়ে বড় ফল কলা নয়, আম।

ডিএইর একই তথ্যে দেখা যায়, দেশের মোট ফল উৎপাদন ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ১ কোটি ৩ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৫১ লাখ টন হয়েছে, যদিও এই সময়ে ফল চাষের জমি ৯ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর থেকে কমে ৭ লাখ ৭৯ হাজার হেক্টরে নেমেছে। দ্য ডেইলি স্টার এই বৃদ্ধির বড় কৃতিত্ব দিয়েছে ডিএইর দশ বছরের একটি প্রকল্পকে, "বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প"। প্রকল্পটি ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলে, যার লক্ষ্য ছিল অল্প কয়েক মাসের মৌসুমে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর ফল পাওয়ার ব্যবস্থা করা। পুরোনো তথ্যেও কলার গুরুত্ব স্পষ্ট। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার হিসাবে ২০০৫-০৬ সালে দেশে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬০ একর জমিতে ৯ লাখ ৯ হাজার ৬০ টন কলা উৎপাদিত হয়। আর কলা গবেষণার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক প্রোমুসা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে জানায়, ২০১৩ সালে দেশে কলার আবাদ ছিল ৫০ হাজার হেক্টরে, উৎপাদন ৭ লাখ ৭৪ হাজার টন।

বাংলাপিডিয়া বলছে, দেশের প্রায় সব জায়গায় সারা বছর কলা জন্মে। প্রধান কলা উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে এতে রাঙামাটি, বরিশাল, রংপুর, দিনাজপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও খুলনার নাম আছে। প্রোমুসার দেশভিত্তিক তথ্যে কলা চাষের প্রধান জেলা হিসেবে বগুড়া, নরসিংদী, রংপুর, নাটোর, পাবনা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও খুলনার নাম রয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, সিলেট, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে কলা বুনো অবস্থায় জন্মে এবং গ্রামের বেশির ভাগ বসতবাড়িতেই কলাগাছ দেখা যায়। বাংলাপিডিয়ার তালিকায় আছে সাগর কলা, রান্নার কাঁচকলা, বিচিযুক্ত আইটা কলা এবং জনপ্রিয় স্থানীয় জাত চাঁপা, সবরি, সিঙ্গাপুরি ও মেহেরসাগর; আঁশের জন্য মূল্যবান পাহাড়ি কলার (Musa textilis) কথাও আছে। কলা সবজি ও ফল দুইভাবেই খাওয়া হয়। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, কলার গুঁড়া শিশুখাদ্য, চকলেট ও বিস্কুট তৈরিতে, খোসার ছাই সাবান তৈরিতে ব্যবহার হয় এবং কলাগাছের কাণ্ড খাওয়ার উপযোগী শ্বেতসারের ভালো উৎস।

পানামা রোগ কী


সমীরণ বিশ্বাস পানামা রোগকে কলার একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ হিসেবে বর্ণনা করেন, ইংরেজিতে যার নাম Fusarium wilt of banana। তাঁর লেখায় বলা হয়, Fusarium oxysporum নামের ছত্রাক এ রোগ ঘটায় এবং এটি মাটির মাধ্যমে ছড়ায়। উদ্ভিদরোগ বিজ্ঞানীরা রোগের জীবাণুকে আরও নির্দিষ্টভাবে Fusarium oxysporum f. sp. cubense নামে চেনেন, সংক্ষেপে Foc; এটি ছত্রাকটির সেই রূপ, যা কলাগাছ আক্রমণ করে। বাংলাপিডিয়া একে "বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য কলা উৎপাদনকারী দেশে বিস্তৃত ও বিধ্বংসী রোগ" বলে উল্লেখ করেছে।

ছত্রাকটি মাটিতে থাকে এবং শিকড় দিয়ে গাছে ঢোকে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞান সাময়িকী ফ্রন্টিয়ার্স ইন প্লান্ট সায়েন্সে প্রকাশিত মিগেল দিতা ও সহকর্মীদের একটি পর্যালোচনা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ছত্রাকটি সাধারণত প্রধান শিকড় দিয়ে নয়, বরং দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের সরু খাদ্য-শোষক শিকড় দিয়ে ঢোকে। প্রোমুসার বর্ণনায়, এরপর এটি জাইলেম, অর্থাৎ গাছের পানি পরিবহনকারী নালিতে বাসা বাঁধে। বাংলাপিডিয়া যোগ করেছে, ছত্রাকটি পরিবহনতন্ত্র আটকে দেয় বলে গাছ ঢলে পড়ে, আর বারোয়িং নেমাটোড (Radopholus similis) নামের কৃমি শিকড় ফুটো করে ছত্রাকের প্রবেশ সহজ করে। প্রোমুসা জানায়, কলার ফলে নিজে এ রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

রোগটির ইতিহাস দীর্ঘ। প্রোমুসার মতে, এটিই কলার প্রথম রোগ, যা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভবত এর উৎপত্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা ১৮৭৪ সালে, অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের কাছে ঈগল ফার্মে। ১৮৯০ সালে পানামা থেকে রোগটির খবর আসে, সেখান থেকেই এর প্রচলিত নাম; এক দশকের মধ্যে কোস্টারিকায়ও তা দেখা দেয়। এরপর সুরিনামে ১৯০৬, কিউবায় ১৯০৮, ত্রিনিদাদে ১৯০৯, জ্যামাইকায় ১৯১১, হন্ডুরাসে ১৯১৬ এবং গুয়াতেমালায় ১৯১৯ সালে প্রাদুর্ভাব ঘটে। সে সময় কলার রপ্তানি বাণিজ্য দাঁড়িয়ে ছিল গ্রস মিশেল জাতের ওপর, যা এ রোগে খুব সহজে আক্রান্ত হয়। ১৯১০ সালেই রোগ প্রতিরোধী জাত শনাক্ত হলেও কলাশিল্প ক্যাভেন্ডিশ জাতে সরে আসে কেবল ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে।

বিজ্ঞানীরা ছত্রাকটিকে কয়েকটি রেসে ভাগ করেন, কোন ধরনের কলা আক্রান্ত হয় তার ভিত্তিতে। প্রোমুসা জানায়, রেস ১ গোটা গ্রীষ্মমণ্ডলে পাওয়া যায় এবং গ্রস মিশেল, সিল্ক, পোম ও পিসাং আওয়াক ধরনের কলা আক্রমণ করে; প্ল্যান্টেইন ও পূর্ব আফ্রিকার উচ্চভূমির কলা সাধারণত এর প্রতিরোধী। রেস ২ বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় রান্নার কলা ব্লুগোর চাষ কমিয়ে দেয়। উপক্রান্তীয় রেস ৪ কেবল অন্য সহায়ক কারণ থাকলে রোগ ঘটায়, কিন্তু ট্রপিক্যাল রেস ৪ বা টিআর৪-এর এমন কোনো সহায়তা লাগে না এবং এটি ক্যাভেন্ডিশ জাত আক্রমণ করে। দিতা ও সহকর্মীদের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, রেস ১-এর বিরুদ্ধে ক্যাভেন্ডিশের প্রতিরোধক্ষমতা প্রায় ৫০ বছর টিকে ছিল, আর বিশ্বে রপ্তানি হওয়া কলার ৯৯ শতাংশই ক্যাভেন্ডিশ জাতের।

পরীক্ষাগারে জন্মানো Fusarium oxysporum f. sp. cubense রেস ১, পানামা রোগের জন্য দায়ী ছত্রাক; প্রাসঙ্গিক ছবি। ছবি: Scot Nelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
পরীক্ষাগারে জন্মানো Fusarium oxysporum f. sp. cubense রেস ১, পানামা রোগের জন্য দায়ী ছত্রাক; প্রাসঙ্গিক ছবি। ছবি: Scot Nelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

ছত্রাক কীভাবে ছড়ায়, কোন অবস্থায় রোগ বাড়ে


সমীরণ বিশ্বাস যেসব অবস্থায় রোগ বাড়ে তার তালিকা দেন। আগের ফসলে রোগ থাকলে বা রোগাক্রান্ত গাছ থেকে চারা নেওয়া হলে পরের বছর আবার রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কম বয়সী চারা রোপণ করলে, মাটির পানি নিষ্কাশন খারাপ হলে, জমিতে আগাছা ও ঘাস বেশি থাকলে এবং নিয়মিত আন্তঃপরিচর্যা না হলেও রোগ দেখা দেয়।

রোগাক্রান্ত চারা কেন এত বড় ঝুঁকি, গবেষণা তা ব্যাখ্যা করে। প্রোমুসা সতর্ক করেছে, সাকার বা তেউড় এবং রাইজোম কোনো লক্ষণ ছাড়াই ছত্রাক বহন করতে পারে, আর আক্রান্ত সাকারে প্রায় চার মাস বয়স হওয়া পর্যন্ত লক্ষণ না-ও দেখা দিতে পারে। দিতা ও সহকর্মীদের পর্যালোচনা বলছে, গাছে ঢোকার পর এবং বাইরের কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ছত্রাকটি পুরু আবরণের সুপ্ত রেণু তৈরি করে, যার নাম ক্ল্যামাইডোস্পোর। এই রেণু শুকিয়ে যাওয়া সহ্য করতে পারে এবং মাটিতে ২০ বছরেরও বেশি টিকে থাকতে পারে। একই পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আগাছা লক্ষণ ছাড়াই ছত্রাক বহন করে জীবাণুর আধার হিসেবে কাজ করতে পারে।

মাটি ও পানির সঙ্গেও রেণু ছড়ায়। প্রোমুসা জানায়, আক্রান্ত মাটি যানবাহন, কৃষি যন্ত্রপাতি, জুতা ও চারা তৈরির মাধ্যমের সঙ্গে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়; পশুপাখিও রেণু বহন করতে পারে; বৃষ্টির পানির স্রোত ও সেচের পানি রেণু এক জমি থেকে আরেক জমিতে নিয়ে যায়। চীনে দূষিত পানি পাম্প করে ব্যবহারের ফলে টিআর৪ ছড়াতে সাহায্য করেছে। দিতার পর্যালোচনায় বৃষ্টির ছিটা ও বন্যার কথাও আছে, আর দূষিত চারা তৈরির মাধ্যম ও কম্পোস্টকেও ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মাটির অবস্থা রোগের তীব্রতায় প্রভাব ফেলে। দিতার পর্যালোচনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে ধরা হয় যে পানি ভালোভাবে নিষ্কাশিত ও বায়ু চলাচলের উপযোগী মাটিতে রোগ কম হয়, আর শক্ত হয়ে যাওয়া মাটিতে বেশি হতে পারে। কম পিএইচের মাটি এবং অ্যামোনিয়াম-ভিত্তিক নাইট্রোজেন সারের সঙ্গে বেশি রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে, মাটিতে ফসফরাস কম থাকাও বেশি আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত। গ্রিনহাউসের গবেষণায় বারোয়িং নেমাটোড রোগ বাড়িয়েছে। প্রোমুসা জানায়, কিছু মাটি রোগ দমিয়ে রাখে, যদিও কারণ পুরোপুরি বোঝা যায়নি; দিতার পর্যালোচনা এমন মাটিকে অণুজীবের বেশি বৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

মাঠে রোগের লক্ষণ


সমীরণ বিশ্বাস কৃষকদের যেসব লক্ষণ খেয়াল করতে বলেন:

  • পুরোনো পাতায় হলুদ দাগ দেখা দেয়, পরে ধীরে ধীরে পুরো পাতাই হলুদ হয়ে যায়।
  • পাতার কিনারা ফেটে যায়, পাতার বোঁটাও ফেটে যায়।
  • পাতার ফলক ঝুলে পড়ে ও শুকিয়ে যায়।
  • দুই-তিন দিনের মধ্যে মাঝের কচি পাতা (হার্ট লিফ) ছাড়া গাছের সব পাতা ঝুলে পড়ে।
  • মাটির কাছাকাছি কলাগাছের গোড়া লম্বালম্বি ফেটে যায়।
  • আক্রান্ত গাছ থেকে অস্বাভাবিক থোড় বের হয়।
  • আক্রান্ত গাছ ও রাইজোমের ভেতরটা কালচে দেখায়।

প্রোমুসার বর্ণনাও একই রকম। প্রথমে পুরোনো পাতা কিনারা থেকে হলুদ হয়ে ঢলে পড়ে, পরে হলদেভাব কচি পাতায় ছড়ায়। পাতা বোঁটার কাছে ভেঙে ভুয়া কাণ্ডের চারপাশে ঝুলে থাকতে পারে, ভুয়া কাণ্ডের গোড়া ফেটে যেতে পারে, আর নতুন পাতার কিনারা অনিয়মিতভাবে ফ্যাকাশে বা পাতা বিকৃত হতে পারে। গাছের ভেতরে পানি পরিবহনকারী কলার রং শুরুতে হালকা হলুদ থেকে পরে গাঢ় লাল বা প্রায় কালো হয়ে যায়; এই পরিবর্তন প্রথমে সরু শিকড়ে, পরে রাইজোম ও ভুয়া কাণ্ডে দেখা দেয়। দিতার পর্যালোচনা যোগ করেছে, প্রাকৃতিক অবস্থায় রোগটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চোখে পড়ে ফুল আসার সময়, তবে খুব সংবেদনশীল জাতে জীবাণুর চাপ বেশি থাকলে রোপণের তিন মাসের মধ্যেই লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ফিউজেরিয়াম উইল্টে (রেস ১) আক্রান্ত কোয়া এ কেয়া জাতের একটি কলাগাছের হলুদ হয়ে ঢলে পড়া পাতা; প্রাসঙ্গিক ছবি। ছবি: Plant pests and diseases / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
ফিউজেরিয়াম উইল্টে (রেস ১) আক্রান্ত কোয়া এ কেয়া জাতের একটি কলাগাছের হলুদ হয়ে ঢলে পড়া পাতা; প্রাসঙ্গিক ছবি। ছবি: Plant pests and diseases / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

অন্য কিছু রোগের লক্ষণও দেখতে প্রায় একই রকম। প্রোমুসা জানায়, ফিউজেরিয়াম উইল্টকে জ্যান্থোমোনাস উইল্ট ও মোকো রোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হতে পারে। বাংলাপিডিয়া সতর্ক করেছে, Pseudomonas solanacearum জীবাণুঘটিত কলার ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগের কিছু লক্ষণ পানামা রোগের মতো: শুরুতে বোঁটার কাছে ভেতরের পাতার ফলকে হলদেটে রং দেখা দেয়, তারপর ভেতরের পাতাগুলো ঢলে পড়ে। প্রতিটি রোগের ব্যবস্থাপনা আলাদা, তাই পানামা রোগ সন্দেহ হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে উপজেলা কৃষি অফিসকে দিয়ে গাছ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো।

পানামা রোগে আক্রান্ত কলাগাছের কাটা ভুয়া কাণ্ডের ভেতরে কালচে পচন; প্রাসঙ্গিক ছবি। ছবি: Plant pests and diseases / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
পানামা রোগে আক্রান্ত কলাগাছের কাটা ভুয়া কাণ্ডের ভেতরে কালচে পচন; প্রাসঙ্গিক ছবি। ছবি: Plant pests and diseases / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

ট্রপিক্যাল রেস ৪ ও প্রতিবেশী দেশ


সমীরণ বিশ্বাসের লেখায় ছত্রাকের রেস নিয়ে আলোচনা ছিল না, তবে ২০২৬ সালের মার্চে কলা বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল ট্রপিক্যাল রেস ৪। প্রোমুসার তথ্যে, এটি ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে তাইওয়ানে শনাক্ত হয়; সেখানে কলার আবাদ ১৯৬০-এর দশকের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর থেকে কমে ২০০০-এর দশকের শুরুতে প্রায় ৬ হাজার হেক্টরে নামে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এটি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কয়েক বছরের মধ্যে নতুন রপ্তানিমুখী বাগান ধ্বংস করে। ২০০৬ সালের এক জরিপে চীনের গুয়াংদংয়ে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি মারাত্মক আক্রান্ত পাওয়া যায়। ২০১৩ সালে জর্ডান এর খবর দেয়, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে প্রথম আনুষ্ঠানিক খবর; একই বছর মোজাম্বিকের একটি রপ্তানিমুখী বাগানেও এটি ধরা পড়ে। ২০১৯ সালের আগস্টে কলম্বিয়ার লা গুয়াহিরায় ১৭৫ হেক্টর জমিতে এটি নিশ্চিত হয়, যা লাতিন আমেরিকায় প্রথম; ২০২১ সালে পেরুতেও পাওয়া যায়।

রোগটি বাংলাদেশের কাছাকাছিও পৌঁছেছিল। প্রোমুসার ট্রপিক্যাল রেস ৪ বিষয়ক পাতায় বলা হয়েছে, ২০১২ সালে প্রথম লক্ষণ দেখার পর পাকিস্তান ২০১৫ সালে এর খবর দেয়। ভারত ২০১৫ সালে বিহারে ঢলে পড়া গাছ দেখার পর উত্তর প্রদেশ থেকে ২০১৭ সালে সংগ্রহ করা নমুনার ভিত্তিতে ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উপস্থিতি জানায়। মিয়ানমার ২০১৮ সালে এটি নিশ্চিত করে, আর লাওস ও ভিয়েতনাম ২০১৭ সালে খবর দেয়। ২০২২ সালের মার্চে সর্বশেষ হালনাগাদ করা ওই পাতায় বাংলাদেশের নাম নেই, এবং এই প্রতিবেদনের জন্য দেখা কোনো সূত্রে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে টিআর৪ নিয়ে কোনো সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রোমুসা বলছে, মাটিতে অনির্দিষ্টকাল টিকে থাকার ক্ষমতাই টিআর৪-কে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনার অন্যতম প্রধান কারণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, ১৩৫টিরও বেশি দেশে কলা ও প্ল্যান্টেইন চাষ হয়; সংস্থাটির ওয়ার্ল্ড ব্যানানা ফোরাম ২০১৩ সালে একটি টিআর৪ টাস্কফোর্স গঠন করে। দেশগুলোর জন্য প্রোমুসা যেসব ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে তার মধ্যে আছে টিআর৪-কে কোয়ারেন্টাইন বালাই ঘোষণা, দ্রুত শনাক্তের জন্য নজরদারি এবং এমন বিধিমালা, যাতে জাতীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ সংস্থা খামার পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ ও আক্রান্ত গাছ ধ্বংস করাতে পারে। খামার পর্যায়ে প্রথম প্রতিরক্ষা হিসেবে বাইরের অপ্রয়োজনীয় দর্শনার্থী, যানবাহন ও চারা ঢুকতে না দেওয়া, জুতা বদলের ব্যবস্থা এবং জীবাণুনাশক দিয়ে যানবাহন ধোয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগের প্রাদুর্ভাব: ঈশ্বরদী, ২০২৪


দেশের কলাচাষিরা এ রোগের ক্ষতি আগেই দেখেছেন। ২০২৪ সালের ৫ মার্চ দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস পাবনা থেকে জানায়, ঈশ্বরদী উপজেলায় কলার একটি রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস পত্রিকাটিকে জানায়, সে মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছিল, যার ১ হাজার ৮০০ হেক্টরই লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে। আক্রান্ত গ্রামের মধ্যে ছিল দাদাপুর, কামালপুর, কৈকুণ্ডা, চরকুড়ুলিয়া ও শান্তিনগর। কয়েকজন কৃষক জানান, তাঁদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ গাছ মারা গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রধানত মেহেরসাগর ও অমৃতসাগর জাতের চাষ হয়। কৃষকেরা পত্রিকাটিকে বলেন, তাঁরা বারবার কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা পাননি; কর্মকর্তারা বলেন, তাঁরা যতবার সম্ভব কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।

সে সময়ের পরামর্শও ছিল সমীরণ বিশ্বাসের লেখার মতোই। পাবনায় ডিএইর উপপরিচালক বলেন, আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে, কারণ স্তূপ করে রাখলে জীবাণু ছড়ায়, এবং সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা লাগাতে হবে। ঈশ্বরদী কৃষি অফিস পরামর্শ দেয়, আক্রান্ত এলাকায় দুই থেকে তিন বছর কলা চাষ বন্ধ রেখে অন্য ফসল করতে হবে এবং চুন প্রয়োগ গাছকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে। ঈশ্বরদীর বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান রোগটিকে Fusarium oxysporum ছত্রাকঘটিত পানামা রোগ বা ফিউজেরিয়াম উইল্ট হিসেবে শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, এর কোনো প্রতিকার নেই এবং তখনো কোনো রোগ প্রতিরোধী কলার জাত উদ্ভাবিত হয়নি।

প্রতিরোধ: লেখকের পরামর্শ ও গবেষণার তথ্য


জৈব ব্যবস্থাপনা হিসেবে সমীরণ বিশ্বাস পরামর্শ দেন, শুধু রোগমুক্ত জমি থেকে সাকার সংগ্রহ করতে হবে, রোগাক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে, রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে, দুই-তিন বছর পর ফসল বদল করতে হবে এবং চুন দিয়ে মাটির পিএইচ বাড়াতে হবে। তিনি জোর দেন, রোগ একবার জমিতে ছড়ালে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণা এই প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করে, কিছু বিস্তারিত তথ্যসহ। জাত প্রসঙ্গে প্রোমুসা বলছে, আক্রান্ত মাটিতে চাষ চালিয়ে যেতে হলে সংবেদনশীল জাতের বদলে প্রতিরোধী জাত লাগানোই সবচেয়ে উপযোগী উপায়। এফএইচআইএ সংকর জাতগুলো রেস ১ ও রেস ৪ প্রতিরোধী, আর তাইওয়ান ব্যানানা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত জায়ান্ট ক্যাভেন্ডিশ টিস্যু কালচার ভ্যারিয়েন্ট (জিসিটিসিভি) টিআর৪-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাত্রার প্রতিরোধ দেখিয়েছে। চারা প্রসঙ্গে প্রোমুসা বলছে, প্রত্যয়িত টিস্যু কালচার চারা ছত্রাকমুক্ত হওয়ার কথা। দিতার পর্যালোচনা ঝুঁকি কমাতে এমন চারার সুপারিশ করলেও সতর্ক করেছে, কালচারের সময় উপকারী অণুজীব হারিয়ে যাওয়ায় সম্ভবত এগুলো সাধারণ সাকারের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে।

ফসল পর্যায় প্রসঙ্গে দিতার পর্যালোচনা জানায়, কয়েকটি গবেষণায় কাসাভা, আনারস বা চাইনিজ লিকের মতো ফসল চাষে রোগের প্রকোপ কমেছে, আর পিন্টো পিনাট নামের আচ্ছাদন ফসল রোগের তীব্রতা প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়েছে। পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে আক্রান্ত গাছ ধ্বংস করাকে মূল প্রাথমিক পদক্ষেপ বলা হয়েছে। চুন প্রসঙ্গে পর্যালোচনাটি আগে মাটি পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী পিএইচ ও পুষ্টি উপাদান ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছে এবং মাটির পিএইচ প্রায় ৫.৬ থেকে ৬ রাখার সুপারিশ করেছে। এক গবেষণায় ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড ও ক্যালসিয়াম সালফেট মাটির পিএইচ না বদলেই ছত্রাকের সুপ্ত রেণুর অঙ্কুরোদ্গম ও রোগের তীব্রতা কমিয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ আছে। কোনো সূত্রেই চুনের সাধারণ মাত্রা দেওয়া নেই, কারণ তা মাটির ওপর নির্ভর করে; তাই কতটা চুন লাগবে তা মাটি পরীক্ষা ও স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে ঠিক করতে হবে।

খামারের পরিচ্ছন্নতাও জরুরি। খামারে রোগ ঢুকতে না দেওয়া বা আটকে রাখার জন্য প্রোমুসার নির্দেশনায় আছে: কে বা কী খামারে ঢুকবে তা নিয়ন্ত্রণ, জুতা বদলানো বা পরিষ্কার করা, যানবাহন ধোয়া, আক্রান্ত অংশ আলাদা করে রাখা এবং মাটির ক্ষয় কমাতে মাটি ঢেকে রাখা ফসল ও সারির মাঝে ঘাস রাখা, কারণ ক্ষয়ে যাওয়া মাটির সঙ্গে ছত্রাকও সরে যায়।

ছত্রাকনাশক: গবেষণা কী দেখায়


সমীরণ বিশ্বাস একটি রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার কথাও লেখেন। তাঁর পরামর্শ ছিল রোপণের আগে চারা কার্বেন্ডাজিম দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা, রোপণের ছয় মাস পর থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর মাটি শোধন করা, চারা লাগানোর আগে গর্ত ফরমালিন দ্রবণে ভিজিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পর চারা লাগানো, এবং গাছের গোড়ায় ও পুরো গাছে সাত থেকে দশ দিন পরপর কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করা; প্রতিটি ধাপের জন্য তিনি মাত্রাও উল্লেখ করেন।

রাসায়নিক নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণার অবস্থান সতর্ক। প্রোমুসা বলছে, ছত্রাকনাশক দিয়ে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এবং ধোঁয়াজাতীয় মাটি শোধক (ফিউমিগ্যান্ট) দিয়ে মাটি থেকে ছত্রাক নির্মূল করা যায় না। দিতার পর্যালোচনা জানায়, কিছু ছত্রাকনাশক পরীক্ষাগার ও গ্রিনহাউসে কার্যকর হলেও মাঠে তার কার্যকারিতা এখনো যাচাই হয়নি, এবং কোনো একক জৈব বালাইনাশককে এ রোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা যায় না। ২০২৪ সালে বিএসআরআইয়ের রোগতত্ত্ববিদও বলেছিলেন, এর কোনো প্রতিকার নেই। এই প্রতিবেদনের জন্য দেখা কোনো সরকারি বা গবেষণা সংস্থা পানামা রোগের বিরুদ্ধে এসব প্রয়োগের মাত্রা দেয়নি, তাই লেখকের দেওয়া মাত্রাগুলো এখানে রাখা হয়নি। যেকোনো ছত্রাকনাশক বা মাটি শোধক ব্যবহারের আগে কৃষকদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া এবং কেবল এ কাজের জন্য নিবন্ধিত পণ্য ব্যবহার করা উচিত।

লেখার শেষে সমীরণ বিশ্বাস যেকোনো বালাইনাশকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তা পরামর্শ দেন: স্প্রে করার সময় সব সময় সুরক্ষামূলক পোশাক পরতে হবে এবং লেবেলের নির্দেশনা ঠিকভাবে মানতে হবে, যেমন মাত্রা, প্রয়োগের সময় এবং শেষ প্রয়োগ থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত কত দিন অপেক্ষা করতে হবে।

ছবি: The Roving Rokibul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ২৪, প্রোমুসা, ফ্রন্টিয়ার্স ইন প্লান্ট সায়েন্স (দিতা ও সহকর্মী, ২০১৮), বাংলাপিডিয়া, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি স্টার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)