সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঢাকার বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে, দাম কিছুটা কমেছে

২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকার মিরপুরের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছিল এবং বিক্রেতাদের ভাষ্যে আগের সপ্তাহের চেয়ে দাম কিছুটা কমেছিল; তবে ক্রেতারা চাইছিলেন দাম আরও কমুক।

ঢাকার বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে, দাম কিছুটা কমেছে
মৎস্য

ভরা মৌসুমের মাঝামাঝি এসে রাজধানীর বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছিল, আর তাতে দামও কিছুটা কমেছিল। ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট, শুক্রবার সকালে জাগো নিউজের প্রতিবেদক ঢাকার মিরপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখেন, ইলিশের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কম। তবে ক্রেতারা বলছিলেন, দাম আরও একটু কমা দরকার।

জুলাই-আগস্ট ইলিশের ভরা মৌসুম। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীসহ দেশের ছোট-বড় বাজারে ইলিশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিল।

মিরপুরের দুই বাজারে যে দাম ছিল


মিরপুর-১২ নম্বরের হাজী কুজরত আলী মোল্লা মার্কেটে সেদিন দুটি দোকানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল। একটিতে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ছিল ২৬০০ টাকা; অন্যটিতে ৮৫০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ১৮০০ টাকায়। দুই বিক্রেতা জানান, আগের সপ্তাহে যে ইলিশের কেজি ছিল ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকা, সেই সপ্তাহে তা ২৪০০ থেকে ২৬০০ টাকা।

মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের মুসলিম বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২৪০০ টাকায়, আর জাটকা (ছোট ইলিশ) ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়। মাসুদ নামের এক বিক্রেতা জানান, আধা কেজি ওজনের ইলিশ ১৩০০ টাকা এবং তিনটিতে এক কেজি হয় এমন ছোট ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এই বাজারের বিক্রেতারাও বলেন, দাম কিছুটা কমেছে।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা ইলিশ, ২০২৪ সালে তোলা। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা ইলিশ, ২০২৪ সালে তোলা। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

বিক্রেতা ও ক্রেতারা যা বলেছেন


কুজরত আলী মোল্লা মার্কেটে ২৬০০ থেকে ২৬৫০ টাকা কেজিতে ইলিশ বিক্রি করছিলেন মোহাম্মদ সুকুর মোল্লাহ। তাঁর কথায়, সেই সপ্তাহে বাজারে প্রচুর মাছ এসেছিল; ছোট আকারের ইলিশ বেশি, দামও একটু কম। তিনি জানান, দামের পার্থক্য হয় চট্টগ্রাম আর পদ্মার ইলিশের কারণে: চট্টগ্রামের ইলিশের দাম কম, আর তাঁর মাছ পদ্মার, তাই কেনা দামও বেশি।

হাওলাদার নামের এক ক্রেতা বড় ইলিশ দেখছিলেন। তিনি বলেন, দাম আরেকটু কমলে তখন কিনবেন। মুসলিম বাজারেও ছোট ইলিশের ক্রেতা বেশি দেখা যায়। এক ক্রেতা ছয়-সাতটি জাটকা কিনে জানান, তিনি ৬০০ টাকা কেজিতে ছোট ইলিশ কিনেছেন।

গত বছরের চেয়ে তখনও বেশি দাম


রাজধানীর আরও কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়েও দাম কিছুটা কম পাওয়া যায়। তবে জাগো নিউজের উদ্ধৃত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খুচরা বাজারে ইলিশ আগের বছরের চেয়ে গড়ে ১৬ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল, আর রাজধানীতে তখন প্রতি কেজি ইলিশ মিলছিল ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়।

কয়েক দিন আগে, ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট প্রথম আলো জানায়, জুলাই থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকায় ৭৫০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৫০ থেকে ২০০০ টাকা কেজিতে এবং এক কেজি বা তার বড় ইলিশ আকারভেদে ২৬০০ থেকে ৩২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. সুমন পত্রিকাটিকে জানান, এক কেজির ইলিশ ২৪০০ টাকা এবং দেড় কেজির ইলিশ ২৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল।

একটি ইলিশ মাছ। ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
একটি ইলিশ মাছ। ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাতীয় মাছ ইলিশ ও এর উৎপাদন


ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। সাগরে বড় হওয়া এই মাছ ডিম ছাড়তে নদীতে উঠে আসে, প্রধানত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময়ে; বাংলাদেশে মেঘনা-যমুনার মোহনা অঞ্চলে ইলিশ ধরা হয়। অল্পবয়সী ইলিশকে বলা হয় জাটকা, যা ধরা দেশে নিষিদ্ধ।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের এপ্রিলে জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ৫ দশমিক ২৯ লাখ টন, যা সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম; আগের অর্থবছরে, ২০২২-২৩ সালে, উৎপাদন ছিল ৫ দশমিক ৭১ লাখ টন। বিশেষজ্ঞরা এর কারণ হিসেবে প্রতিকূল আবহাওয়া, ইলিশের চলাচলপথে নদীর গভীরতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত আহরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)

ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার (মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)