সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বাংলাদেশে বাড়ছে ইলিশ, মিয়ানমারের ইরাবতীতে কেন কমছে: বিবিসির অনুসন্ধান

২০১৭ সালের মে মাসে বিবিসির এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, সরু ফাঁসের জাল, দুর্বল নিষেধাজ্ঞা ও দূষণে মিয়ানমারের ইরাবতী ব-দ্বীপে ইলিশ কমছে ও ছোট হচ্ছে; একই সময়ে জাটকা রক্ষা ও জেলেদের প্রণোদনার মধ্যে বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে ইলিশ আহরণ বাড়ছিল।

বাংলাদেশে বাড়ছে ইলিশ, মিয়ানমারের ইরাবতীতে কেন কমছে: বিবিসির অনুসন্ধান
মৎস্য

মিয়ানমারের ইরাবতী (আয়েইয়ারওয়াদি) নদীর ব-দ্বীপে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইলিশ ধরে সংসার চালান বহু জেলে। কিন্তু ২০১৭ সালের মে মাসে প্রকাশিত বিবিসির বার্মিজ বিভাগের সাংবাদিক কো কো অংয়ের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে, নিয়ন্ত্রণহীন মাছ শিকার, সরু ফাঁসের জাল এবং দুর্বল তদারকির কারণে সেখানে ইলিশের মজুত কমে যাচ্ছে, আর যে মাছ ধরা পড়ছে তার আকারও ছোট হয়ে আসছে। একই সময়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে ইলিশ আহরণ বাড়ছিল। বিবিসির ১০ মে ২০১৭ তারিখের প্রতিবেদন এবং তার আগে প্রকাশিত সরকারি ও গবেষণা সংস্থার তথ্য মিলিয়ে দুই দেশের ইলিশের সেই সময়ের চিত্র এখানে তুলে ধরা হলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সময় বন্য উৎস থেকে ধরা মাছের মধ্যে ইলিশই ছিল মিয়ানমারের সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হওয়া মাছ। কিন্তু গত কয়েক দশকে মজুত কমে যাওয়ায় সেই অবস্থান আর নেই। বঙ্গোপসাগর বৃহৎ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র প্রকল্পের (বিওবিএলএমই) এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বিশ্বে যত ইলিশ ধরা পড়ে তার প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ধরে মিয়ানমার, যা প্রতিবেশী বাংলাদেশের পরেই দ্বিতীয়। বাংলাদেশ একাই বিশ্বের মোট ইলিশ আহরণের প্রায় ৬০ শতাংশের জোগান দেয়।

বিওবিএলএমই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং এ অঞ্চলের সরকারগুলোর একটি আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের হিসাবে বিশ্বজুড়ে ইলিশ শিল্পের মূল্য ২০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অবশ্য ওয়ার্ল্ডফিশের ২০১৫ সালের অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনের ভিন্ন হিসাব উদ্ধৃত হয়েছিল: সেখানে বলা হয়, বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ বাংলাদেশের, এরপর ভারত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এবং মিয়ানমার ৮ থেকে ১০ শতাংশ। হিসাব ভিন্ন হলেও দুই সূত্রেই বাংলাদেশ শীর্ষে এবং মিয়ানমার ইলিশ আহরণকারী প্রধান দেশগুলোর একটি।

ইরাবতীর জেলের অভিজ্ঞতা


বিবিসির প্রতিবেদনের কেন্দ্রে ছিলেন ইরাবতী ব-দ্বীপের ৬৫ বছর বয়সী জেলে উ কাওক টিন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে মাছের ওপর তাঁর মতো জেলেদের প্রতিদিনের আয় নির্ভর করে, তা নদী থেকে হারিয়ে যেতে থাকায় তাঁরা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, "বছরের পর বছর ধরে আমরা ইলিশ ধরছি। আমার বাবা-মাও ধরতেন। তখন মাছ ছিল বড় বড়, আর আমরা প্রচুর মাছ পেতাম।"

তিনি আরও বলেন, "এখন আমি আর আমার ছেলেমেয়েরা ইলিশ ধরি, কিন্তু মাছ কম, আর সেগুলো ছোট হয়ে যাচ্ছে। এই মাছ এখন খুব দুর্লভ হয়ে উঠছে।"

প্রতিবেদনের শেষেও উ কাওক টিনের কথা ছিল। তিনি জানেন, সমস্যা সমাধানে তাঁর মতো জেলেদেরও ভূমিকা আছে, কিন্তু তার জন্য তাঁদের সহায়তা দরকার। তাঁর ভাষায়, "ছোট মাছ ধরলে সেগুলো তো আর বড় হতে পারে না। কিন্তু না ধরলে আমাদের সংসার চলে না। তাই যা পাই, তা-ই ধরি।" বিবিসি জানায়, মিয়ানমারের ক্ষুদ্র জেলেরা দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের মধ্যে পড়েন এবং তাঁদের আয়ের অন্য কোনো পথ নেই।

বিবিসির ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুই দেশেরই খাদ্যতালিকায় ইলিশ একটি প্রধান মাছ। ধরা পড়ার পরিমাণ এবং মাছের আকার দুটোই কমেছে, কিন্তু মানুষ এখনো এই মাছ খেতে চায়। অর্থাৎ চাহিদা থাকায় ছোট মাছও বাজারে বিক্রি হয়, আর সেটাই জেলেদের ছোট মাছ ধরার দিকে ঠেলে দেয়।

মিয়ানমারের ইরাবতী (আয়েইয়ারওয়াদি) ব-দ্বীপের ডালা এলাকায় নদীর দৃশ্য; ছবিটি পটভূমি হিসেবে দেওয়া, প্রতিবেদনের কোনো ঘটনার নয়। ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
মিয়ানমারের ইরাবতী (আয়েইয়ারওয়াদি) ব-দ্বীপের ডালা এলাকায় নদীর দৃশ্য; ছবিটি পটভূমি হিসেবে দেওয়া, প্রতিবেদনের কোনো ঘটনার নয়। ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

সরু ফাঁসের জালে ধরা পড়ছে ছোট ইলিশ


ইলিশ বঙ্গোপসাগর থেকে ডিম ছাড়তে নদীতে ঢোকে। বিবিসি জানায়, বাণিজ্যিক ট্রলারগুলো এই মাছ ধরে পার্স সেইন জাল দিয়ে। এটি বড় বৃত্তাকার এক দেয়ালের মতো জাল, যা পানির অনেক গভীর পর্যন্ত নেমে ছোট-বড় সব আকারের মাছ ছেঁকে তোলে।

গবেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের ট্রলারগুলো আড়াই সেন্টিমিটার (এক ইঞ্চি) ফাঁসের জাল ব্যবহার করছে, যাতে ছোট ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মাছ আটকা পড়ে; অথচ মানদণ্ড অনুযায়ী ফাঁস অন্তত ১০ সেন্টিমিটার হওয়ার কথা। যে মাছগুলো তবু নদীতে পৌঁছায়, সেগুলোও ক্ষুদ্র জেলেদের খুব মিহি ফাঁসের গিলনেট বা ফাঁস জালে ধরা পড়ে, যাতে একেবারে ছোট মাছও আটকে যায়।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইলিশ প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন ৩ কেজিরও বেশি হতে পারে। কিন্তু মিয়ানমারে এখন যে ইলিশ ধরা পড়ে, তার বেশির ভাগের ওজন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের মাইকেল অ্যাকেস্টার বিবিসিকে বলেন, "মাছ ধরার কোনো ন্যূনতম আকার নির্ধারিত নেই, তাই ২৫.৭ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক মাছ ধরা পড়ছে। এর মানে, মাছটি প্রজননের সুযোগই পায়নি।" ওয়ার্ল্ডফিশ এ অঞ্চলের সরকারগুলোর সঙ্গে মৎস্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।

নিষেধাজ্ঞা আছে, প্রয়োগ দুর্বল


বিবিসি জানায়, মিয়ানমারে ইলিশ ধরার বন্ধ মৌসুম মে থেকে জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু মূলত অর্থনৈতিক কারণে এর কার্যকর প্রয়োগ নেই। ক্ষুদ্র জেলেরা দেশের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের অন্যতম, আর তাঁদের আয়ের বিকল্প পথ না থাকায় তাঁদের মাছ ধরা বন্ধ রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

সাগরেও কার্যত কোনো বন্ধ মৌসুম নেই, কারণ যে মাসগুলোতে মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকার কথা, সে সময়েও মিয়ানমার সরকার ৩০ শতাংশ ট্রলারকে মাছ ধরার অনুমতি দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারে তখন মাছের মজুতের কোনো বিস্তারিত মূল্যায়ন ছিল না, তবে বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, মৎস্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি জরুরি।

পানিদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনকেও ইলিশ কমে যাওয়ার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। নদীতে প্লাস্টিকের ব্যাগসহ আবর্জনা ফেলা সেখানে সাধারণ ঘটনা। কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারও একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা, কারণ সেই বিষ নদীতে গিয়ে মেশে এবং ইলিশের নার্সারি বা বাচ্চা বেড়ে ওঠার এলাকা কমিয়ে দেয়।

সরকারি ভাষ্য ও গবেষকদের সতর্কতা


তবে মিয়ানমারের মৎস্য অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, দেশে ইলিশ এখনো প্রচুর আছে। অধিদপ্তরের অন্যতম পরিচালক তুন উইন মিন্ত বলেন, "আমাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কারণ আমরা এখনো প্রচুর মাছ ধরছি।"

বিবিসি জানায়, সরকারি পরিসংখ্যানে আগের বছর সাগরে ইলিশ আহরণ বেড়েছে বলে দেখা যায়। কিন্তু ধরা পড়া মাছের আকার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পূর্ণবয়স্ক মাছের প্রায় অর্ধেক।

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (আইআইইডি) জ্যেষ্ঠ গবেষক এসাম ইয়াসিন মোহাম্মদ বিবিসিকে বলেন, "শুধু উপকরণ বাড়িয়েই আহরণ বাড়ানো যায়। মাছ ধরার নৌযান বাড়ান, মাছ ধরার দিন বাড়ান।" অর্থাৎ আহরণ বাড়লেই যে মজুত ভালো আছে, তা নিশ্চিত নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআইইডি সে বছর মিয়ানমারের দরিদ্র জেলে সম্প্রদায়কে সহায়তার একটি প্রকল্পে কাজ শুরু করতে যাচ্ছিল। বাংলাদেশে তারা যে কর্মসূচিতে কাজ করেছে, সেখানে বন্ধ মৌসুমে ইলিশ না ধরার প্রণোদনা হিসেবে জেলে পরিবারকে চাল দেওয়া হয়। চার বছরের এই প্রকল্প তখন একেবারে শুরুর পর্যায়ে ছিল এবং মিয়ানমারে কোন মডেল কাজ করবে, তা তখনো ঠিক করার বাকি ছিল।

মাইকেল অ্যাকেস্টার বিবিসিকে বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করছে, তবে মৎস্য আহরণ পুরোপুরি টেকসই বলা যায় এমন অবস্থায় পৌঁছাতে সম্ভবত এক দশক লাগবে। তাঁর কথায়, "আইন না থাকলে, আইন প্রয়োগ করে মৎস্য আহরণ তদারকির সামর্থ্য না থাকলে, কোটা আর ন্যূনতম আকারের নিয়ম না থাকলে টেকসই মৎস্য আহরণে পৌঁছানো কঠিন হবে।" বিবিসি জানায়, মজুত টেকসই পর্যায়ে ফেরাতে মৎস্য আইন ও তদারকি দুটোই উন্নত করা দরকার।

ইরাবতী অববাহিকায় ইলিশের চলাচল ও প্রজননক্ষেত্র


মিয়ানমারে ইলিশ নিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য দীর্ঘদিন খুবই কম ছিল। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিওবিএলএমই প্রকাশিত, ওয়ার্ল্ডফিশ ও মিয়ানমারের মৎস্য অধিদপ্তরের গবেষকদের তৈরি "ইরাবতী অববাহিকায় ইলিশের বিস্তার, অভিপ্রয়াণ ও প্রজনন" শীর্ষক প্রতিবেদনে বিওবিএলএমইর ২০১০ সালের একটি মূল্যায়ন উদ্ধৃত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, মিয়ানমারে ইলিশ আহরণ নিয়ে তথ্য সীমিত, প্রজাতিটি বা এর আবাসস্থল নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথা জানা যায়নি, ফলে ব্যবস্থাপনার জ্ঞানভিত্তিও দুর্বল।

এই ঘাটতি পূরণে গবেষকেরা ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ব-দ্বীপ এবং মধ্য শুষ্ক অঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর ৩২টি স্থানে জরিপ চালান। প্রতিটি স্থানে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞ জেলেদের পাঁচ থেকে আটজনের দলের সঙ্গে কথা বলা হয়; সব মিলিয়ে দুই শতাধিক জেলের অভিজ্ঞতা নেওয়া হয়। কাজটি হয় মাইফিশ (MYFish) প্রকল্পের আওতায়, যার লক্ষ্য মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় মৎস্য খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন।

প্রতিবেদনের মূল ফলাফলগুলো ছিল এ রকম:

  • ব-দ্বীপে জুলাই-আগস্টের বর্ষা বা বন্যার মৌসুমে মাছ ধরা হয় না; সাধারণভাবে অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত ইলিশের প্রাচুর্য ও আহরণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
  • উপকূলীয় এলাকায় সারা বছর ধারাবাহিকভাবে ভালো আহরণ হয়, আর সেখানে মূলত প্রাপ্তবয়স্ক মাছ পাওয়া যায়; অপ্রাপ্তবয়স্ক মাছ এবং সম্ভবত প্রজননক্ষম বড় মাছ দেখা যায় ভেতরের দিকে।
  • ৩২টি জরিপস্থলের ১৫টিতে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র শনাক্ত হয়। সবচেয়ে বড় প্রজননক্ষেত্রটি হিনথাদা টাউনশিপ ঘিরে, সাগর থেকে ২৩০ থেকে ৩১০ কিলোমিটার দূরে, যা ৮০ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
  • প্রজননক্ষেত্র শনাক্ত হওয়া ১৫টি স্থানের ১০টিতে জেলেরা জানান, প্রজনন হয় মার্চ-এপ্রিলে।
  • ইরাবতীর মূল স্রোতধারাই উজানের প্রজননক্ষেত্রে যাওয়ার প্রধান পথ, তবে টো নদী এবং টোয়ান্তে খালেরও (টো নদীকে ইয়াঙ্গুন নদীর সঙ্গে যুক্ত করেছে) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

গবেষকেরা দুটি সুপারিশ করেন: টো নদী, টোয়ান্তে খাল ও ইরাবতীর মূল ধারার সংযোগস্থলকে সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অগ্রাধিকার এলাকা করা, এবং হিনথাদাকে কেন্দ্র করে জালুন থেকে মোনিয়ো পর্যন্ত নদীর অংশটিকে, যা ইরাবতী অববাহিকায় ইলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন অঞ্চল, অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, এই এলাকা আরও ১০টি প্রজাতির মাছেরও প্রজননক্ষেত্র, যার মধ্যে রয়েছে কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ, পাঙাশ, রিটা ও বোয়াল। গবেষকেরা স্পষ্ট করেন, জেলেদের স্থানীয় জ্ঞাননির্ভর এই কাজটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র, আর মৎস্য অধিদপ্তর যাতে সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য আরও গবেষণা দরকার।

২০১৩ সালের জুলাইয়ে মাইফিশের এক প্রাথমিক সফরে মান্দালয় পর্যন্ত ইলিশের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। জেলেদের কারও কারও বক্তব্যের ভিত্তিতে গবেষকেরা ধারণা করেন, মধ্য শুষ্ক অঞ্চলে ইলিশের একটি সীমিত স্বাদুপানির জনগোষ্ঠী থাকতে পারে, যারা নদীতেই জীবনচক্র সম্পন্ন করে। বাংলাদেশেও ইলিশের একাধিক উপ-জনগোষ্ঠী থাকার কথা আগের গবেষণায় এসেছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

মিয়ানমারের কাথা শহর থেকে দেখা ইরাবতী নদী; বিওবিএলএমইর ২০১৫ সালের জরিপের উজানের একটি স্থান ছিল কাথা। ছবি: Mthan189 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
মিয়ানমারের কাথা শহর থেকে দেখা ইরাবতী নদী; বিওবিএলএমইর ২০১৫ সালের জরিপের উজানের একটি স্থান ছিল কাথা। ছবি: Mthan189 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ইলিশ মাছটি কেমন


ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম টেনুয়ালোসা ইলিশা (Tenualosa ilisha)। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এটি ক্লুপিইডি গোত্রের মাছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। দেহ চাপা, রুপালি রঙের এবং নিয়মিত মাঝারি আকারের আঁশে ঢাকা। স্ত্রী মাছ পুরুষের চেয়ে দ্রুত বাড়ে এবং সাধারণত আকারে বড় হয়। ইলিশ দ্রুত সাঁতারু এবং এক থেকে দুই বছরে প্রজননক্ষম হয়।

ইলিশ সামুদ্রিক, মোহনা ও নদীর পানিতে বাস করে। বাংলাপিডিয়ায় এর বিস্তার হিসেবে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর থেকে শুরু করে ইরাক-ইরানের নদী, পাকিস্তানের সিন্ধু, ভারতের পূর্ব ও পশ্চিমের নদী, মিয়ানমারের ইরাবতী এবং বাংলাদেশের পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, কর্ণফুলী ও অন্যান্য উপকূলীয় নদীর কথা বলা হয়েছে।

মাছটি অ্যানাড্রোমাস বা সমুদ্রবাসী হয়েও প্রজননের জন্য উজানে মিঠাপানিতে আসে। ডিম পানিতে ভেসে থাকে, সেখান থেকে লার্ভা বের হয়। বাচ্চা মাছ নদীতে বেড়ে ওঠে, এরপর খাবার ও বৃদ্ধির জন্য সাগরে নেমে যায় এবং পরিণত হয়ে আবার ফিরে আসে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী একটি বড় স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। বাংলাদেশে সারা বছরই কিছু প্রজনন হয়, তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে ছোট এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রধান প্রজনন মৌসুম। ইলিশ মূলত প্লাংকটনভোজী।

বিওবিএলএমইর ২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিশ ডিম ছাড়তে নদী বেয়ে ১,২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উজানে যেতে পারে, যদিও বাঁধ এই যাত্রা আটকে দিতে পারে। দিনে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দিতে পারে এই মাছ। সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৬০ সেন্টিমিটার; প্রজননক্ষম হওয়ার গড় দৈর্ঘ্য ৪১.৫ সেন্টিমিটার, যদিও ৩৬ সেন্টিমিটার এবং কখনো ১৯ সেন্টিমিটারের প্রজননক্ষম মাছও পাওয়া গেছে। এই তথ্যের সঙ্গে বিবিসির প্রতিবেদন মেলালে বোঝা যায়, কেন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ছোট মাছ বেশি ধরা পড়াকে গবেষকেরা বিপদসংকেত হিসেবে দেখছেন: অনেক মাছ একবারও ডিম ছাড়ার আগেই জালে উঠছে।

বাংলাদেশে ইলিশ আহরণ বাড়ার চিত্র


মিয়ানমারের বিপরীতে বাংলাদেশে সে সময় সরকারি হিসাবে ইলিশ আহরণ বাড়ছিল। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ টন ইলিশ ধরা পড়ে, আগের বছর যা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। ২০০৯-১০ সালে দেশে ইলিশ উৎপাদন ছিল ২ লাখ টন। একই প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ডফিশের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, ২০০৪ সালে শুরু হওয়া জাটকা সংরক্ষণ প্রকল্পের পর থেকে উৎপাদন বছরে ৮ শতাংশের বেশি হারে বেড়েছে।

অথচ এর আগে বাংলাদেশেও ইলিশ উৎপাদন দীর্ঘ সময় ধরে কমছিল। আইআইইডির ২০১৫ সালের একটি প্রকল্প-বিবরণী অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশক থেকে উৎপাদন কমতে কমতে ২০০১-০২ সালে ০.১৯ মিলিয়ন টনে নেমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। বাংলাপিডিয়া এই পতনের কারণ হিসেবে ফারাক্কা বাঁধের পর গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া ও পলি জমা, নির্বিচারে জাটকা ধরা, অভিপ্রয়াণের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া, ডিম ছাড়া ও বাচ্চা বেড়ে ওঠার জায়গা নষ্ট হওয়া, নদীদূষণ এবং উপকূলে যান্ত্রিক নৌযানের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে।

অর্থনীতিতে ইলিশের গুরুত্বও অনেক। ঢাকা ট্রিবিউনের ওই প্রতিবেদনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ এবং মোট মাছ উৎপাদনের ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। প্রায় ৫ লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ ধরেন এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। আইআইইডির ২০১৫ সালের বিবরণীতে প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার জেলের সরাসরি ইলিশ আহরণের ওপর নির্ভরতা এবং পরিবহন, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো কাজে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষের যুক্ত থাকার কথা বলা হয়।

ঢাকা ট্রিবিউন আরও জানায়, স্থানীয় বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০১২ সালের জুলাইয়ে ভারতসহ সব দেশে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করা হয়। ২০১৫ সালের আগস্টে প্রণীত ২০১৫-১৮ সালের রপ্তানি নীতিতে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে রপ্তানির সুযোগ রাখা হয়। একই প্রতিবেদনে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমানের মত তুলে ধরা হয়: বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার একই সময়ে যৌথভাবে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে উৎপাদন আরও বাড়তে পারে।

মেঘনা নদীতে মাছ ধরার নৌকা; ছবিটি পটভূমি হিসেবে দেওয়া। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মেঘনা নদীতে মাছ ধরার নৌকা; ছবিটি পটভূমি হিসেবে দেওয়া। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাটকা রক্ষা, অভয়াশ্রম ও মা ইলিশের নিষেধাজ্ঞা


আইআইইডির ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র অনুযায়ী, জাটকা (অপ্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ) রক্ষা করলে উৎপাদনের পতন ঠেকানো যাবে, এমন গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ইলিশ টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বাড়ানোর একটি কর্মপরিকল্পনা নেয়। পর্যায়ক্রমে যে ব্যবস্থাগুলো চালু হয়, সেগুলো হলো:

  • অভয়াশ্রম এলাকায় নির্দিষ্ট মৌসুমে মাছ ধরা নিষেধ;
  • নির্দিষ্ট মৌসুমে জাটকা ধরা ও জাটকাসংক্রান্ত সব কাজ নিষেধ;
  • মাছ ধরার সরঞ্জামের ওপর বিধিনিষেধ এবং মাছ ধরার নৌযানের জন্য কিছু নিয়ম;
  • ডিম ছাড়তে আসা মা ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষেধ।

ঢাকা ট্রিবিউনের ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ ইঞ্চির কম দৈর্ঘ্যের ইলিশকে জাটকা বলা হয়। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের প্রজনন এলাকায় নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা ও মা ইলিশ ধরায় বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। আইআইইডির গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, জাটকা ধরতে প্রায়ই অবৈধ মনোফিলামেন্ট গিলনেট ব্যবহার করা হয়, যা দেশে কারেন্ট জাল নামে পরিচিত।

আইআইইডির ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ সালে সরকার উপকূলের চারটি এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে, যেখানে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। আইআইইডির ২০১৫ সালের বিবরণীতে উপকূলীয় নদীর পাঁচটি এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞাও তখন আরও কড়া করা হচ্ছিল। ২০১৬ সালের অক্টোবরে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ বিচরণ এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা, বিক্রি, মজুত ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়, এবং নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। প্রতিবেদনটি জানায়, সাধারণত এই নিষেধাজ্ঞা ১৫ দিনের হয়; কিন্তু গবেষকেরা আগের কয়েক বছরে ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার আগে ও পরে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়তে দেখায় সে বছর তা বাড়ানো হয়। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে মা ইলিশ সাগর থেকে নদীর দিকে আসে এবং ডিম ছেড়ে আবার সাগরে ফিরে যায়। ২০০৩-০৪ সাল থেকে সরকার মা ইলিশ রক্ষায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাঁদপুর কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রজননের ভরা মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সে বছর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। চাঁদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুর রহমান পত্রিকাটিকে বলেন, "এ বছর ইলিশ আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।" কর্মকর্তারা এর কৃতিত্ব দেন আগের কয়েক বছরে নিষেধাজ্ঞার সফল বাস্তবায়নকে।

জেলেদের প্রণোদনা ও তার মূল্যায়ন


বিবিসি যে চাল-প্রণোদনার কথা বলেছিল, বাংলাদেশে সেটি নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের আয়ের ক্ষতি পোষানোর ব্যবস্থা। আইআইইডির ২০১৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২ লাখ পরিবারের প্রতিটিকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বরের গবেষণাপত্রে আইআইইডি জানায়, তখন ১৫টি জেলায় জেলেদের বছরে চার মাস পরিবারপ্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছিল, যার অর্থায়ন আসত আগে থেকে চালু ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচি থেকে। অভয়াশ্রমের আশপাশের কিছু জেলেকে বিকল্প আয়ের সহায়তাও (এআইজিএ) দেওয়া হতো, সঙ্গে চলত সচেতনতামূলক কার্যক্রম।

২০১৩ সালের প্রতিবেদনে আইআইইডির এসাম ইয়াসিন মোহাম্মদ এই ব্যবস্থাকে মৎস্য সংরক্ষণে সরাসরি প্রণোদনা দেওয়ার একটি বিরল উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। একই প্রতিবেদনে তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্তের মন্তব্য ছিল, প্রণোদনা ব্যবস্থা সামাজিক ও পরিবেশগত দুই লক্ষ্যই অর্জনে সাহায্য করতে পারে। সে সময় আইআইইডি, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে মিলে কাজটি করছিল, যার অর্থায়ন আসে যুক্তরাজ্যের ডারউইন ইনিশিয়েটিভ থেকে। ২০১৫-১৬ সালে আইআইইডির পরের প্রকল্পে আংশিক অর্থায়ন দেয় ইউএসএআইডি, ওয়ার্ল্ডফিশ পরিচালিত ইকোফিশ-বিডি প্রকল্পের মাধ্যমে, যার মনোযোগ ছিল পদ্মা-মেঘনা নদী-মোহনা বাস্তুতন্ত্রে।

তবে প্রণোদনা কতটা কাজ করছে, তা নিয়ে গবেষকেরা সতর্ক ছিলেন। ২০১৬ সালের নভেম্বরের গবেষণাপত্রে আইআইইডি বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলার ২১টি গ্রামের ৬০১টি জেলে পরিবারের মতামত জরিপ করে এবং রাডার ও ল্যান্ডস্যাট উপগ্রহচিত্রও বিশ্লেষণ করে। তাদের মূল পর্যবেক্ষণ ছিল:

  • ক্ষতিপূরণ জেলেদের জীবিকার উন্নতি ঘটিয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু তা নিয়ম মানতে উৎসাহ দিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়;
  • রাডারের তথ্যে অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা কমার পক্ষে প্রমাণ মিলেছে;
  • মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ইলিশের প্রাচুর্য বাড়াতে কিছুটা সাহায্য করে থাকতে পারে, তবে এলাকাভেদে জেলেদের অভিজ্ঞতা অনেক আলাদা, এবং কোথাও কোথাও আবাসস্থলের অবনতি ব্যবস্থাপনার সুফল ঢেকে দিচ্ছে;
  • অভয়াশ্রমের বাইরের কালীগঙ্গা ও পায়রার মতো ছোট নদীও মাছ ধরার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আইআইইডি চারটি সুপারিশ করে: জেলেদের প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো ও ন্যায্যভাবে এর আওতা বাড়ানো; অভয়াশ্রমগুলোর পরিবেশগত উপযোগিতা নতুন করে মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ পর্যবেক্ষণ চালু করা; ডিম ছাড়তে আসা মাছ রক্ষায় স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা পুরো নদীব্যবস্থায় আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা; এবং ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়কে যুক্ত করা। বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতাকেই আইআইইডি মিয়ানমারের জেলে সম্প্রদায়ের জন্য উপযোগী একটি মডেল খুঁজে বের করার কাজে লাগাতে চাইছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)

সূত্র: বিবিসি (বিবিসি বাংলা ও বিবিসি নিউজ, ১০ মে ২০১৭), বিওবিএলএমই, ওয়ার্ল্ডফিশ ও মিয়ানমার মৎস্য অধিদপ্তর (সেপ্টেম্বর ২০১৫), আইআইইডি (মে ২০১৩, জুন ২০১৫ ও নভেম্বর ২০১৬), ঢাকা ট্রিবিউন (১৭ জুলাই ২০১৬), দ্য ডেইলি স্টার (অক্টোবর ২০১৬), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)