সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

উৎপাদন বাড়িয়ে ইলিশকে সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে গবেষণার আহ্বান মন্ত্রীর

২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল ঢাকায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এক কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইলিশের স্বাদ অক্ষুণ্ন রেখে জাটকা ও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর উপায় খুঁজতে বিজ্ঞানীদের আহ্বান জানান, যাতে ইলিশ সাধারণ মানুষের নাগালে আসে।

উৎপাদন বাড়িয়ে ইলিশকে সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে গবেষণার আহ্বান মন্ত্রীর
মৎস্য

জাটকা, অর্থাৎ ইলিশের পোনা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দেশের বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল, বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে "ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়" শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কীভাবে জাটকার উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া যায় এবং ইলিশ মাছের ডিমের সঠিক পরিস্ফুটন ঘটিয়ে কীভাবে জাটকার সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব, এসব বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা জরুরি। উৎপাদন বাড়িয়ে এই মূল্যবান মাছকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে, বলেন তিনি।

জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। সপ্তাহটি ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পালিত হয়, এবারের প্রতিপাদ্য ছিল "জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী"। জাগো নিউজ ও রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের খবর অনুযায়ী, কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, আর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।

বিজ্ঞানী ও জেলেদের কাছে মন্ত্রীর প্রত্যাশা


মন্ত্রী গবেষকদের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট কাজ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা করতে হবে। এমন কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবন করা প্রয়োজন, যাতে ইলিশের স্বাভাবিক স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য নষ্ট না হয়, কিন্তু উৎপাদন বাড়ে এবং দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।

কর্মশালায় উপস্থিত জেলেদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জাল ও নদী আপনাদের। তাই জাটকা ধরা বন্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আপনারাই সরকারকে কার্যকর প্রস্তাবনা দিতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ইলিশ না পাওয়ার সমস্যা এখন পুরো দেশের, তাই উৎপাদন বাড়িয়ে এই মূল্যবান মাছকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

সপ্তাহজুড়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে এই বিষয়টি বারবার এসেছে। দৈনিক দেশ রূপান্তরের খবর অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেছিলেন, ইলিশ সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নদীগুলোতে চর পড়ার কারণে ইলিশের উৎপাদন কমে গেছে; উৎপাদন বাড়াতে হলে ওই জায়গাগুলো পরিষ্কার করতে হবে, আর ইলিশ যাতে ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে সে জন্য নদী ও খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া আছে।

কর্মশালার আগের দিন, ৭ এপ্রিল চাঁদপুর সদরের মোলহেডে, যেখানে পদ্মা ও মেঘনা মিলেছে, মন্ত্রী জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। বাসস জানায়, সেখানে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলার মাধ্যমে জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সবাইকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা মানে হাজার হাজার ভবিষ্যৎ মাছ ধ্বংস করা। জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্তত দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ছোট ইলিশ বড় হয়ে বেশি ওজনের হবে, যা ভবিষ্যতে বেশি লাভজনক হবে।

ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, যার অডিটোরিয়ামে ইলিশ গবেষণা কর্মশালা হয়। ছবিতে ভবনটি দেখা যাচ্ছে, অনুষ্ঠান নয়। ছবি: Md Joni Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, যার অডিটোরিয়ামে ইলিশ গবেষণা কর্মশালা হয়। ছবিতে ভবনটি দেখা যাচ্ছে, অনুষ্ঠান নয়। ছবি: Md Joni Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

প্রতিমন্ত্রীর হিসাব ও জেলেদের খাদ্য সহায়তা


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য এবং বিশ্বে মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাটকা ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। এর আওতায় প্রতি পরিবারকে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল এবং ১৬ কেজি আলু দেওয়া হচ্ছে, যার মোট মূল্য প্রায় ছয় হাজার টাকা। অতীতে জেলেরা এত পরিমাণ সহায়তা পায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও জেলেদের সহযোগিতা করে যাবেন; ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা যেন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন এবং আইন মেনে চলেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাটকা মৌসুমে জেলেদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলা খাদ্য সহায়তার বাইরে এই প্যাকেজ দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা ইউএনবির খবর অনুযায়ী, ৬ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার জেলে পরিবার চার মাস ধরে মাসে ৪০ কেজি করে চাল পায়, বছরে যার মোট পরিমাণ ৫৮ হাজার ৭২০ টন; আর প্রজনন মৌসুমে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৩১২টি পরিবার ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা পেয়েছে। তিনি বলেন, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় বিকল্প আয়ের জন্য জেলেদের প্রশিক্ষণ, উপকরণ, এমনকি বাছুরও দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব এবং মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. মোতালেব হোসেন। মন্ত্রণালয়, বিএফআরআই ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলে ও মৎস্যচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৬ সালের শুরুতে ইলিশ কেন নাগালের বাইরে


কর্মশালাটি এমন সময়ে হয়, যখন ইলিশের আহরণ কমছিল আর দাম বাড়ছিল। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার টন; এরপর তা বেড়ে ২০২২-২৩ সালে সর্বোচ্চে পৌঁছায় এবং পরে কমে যায়:

  • ২০১৭-১৮: ৫ লাখ ১৭ হাজার টন
  • ২০১৮-১৯: ৫ লাখ ৩২ হাজার টন
  • ২০১৯-২০: ৫ লাখ ৫০ হাজার টন
  • ২০২০-২১: ৫ লাখ ৬৫ হাজার টন
  • ২০২১-২২: ৫ লাখ ৬৬ হাজার টন
  • ২০২২-২৩: ৫ লাখ ৭১ হাজার টন
  • ২০২৩-২৪: ৫ লাখ ২৯ হাজার টন
  • ২০২৪-২৫: ৫ লাখ টন, গত আট বছরে সর্বনিম্ন

৬ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, নদী ভরাট, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ ও মৎস্য সম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির কারণে ইলিশ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার ও দেশ রূপান্তরের খবর অনুযায়ী, তিনি জানান, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ, জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ; বিশ্বের মোট ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এ দেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে, এবং ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। প্রায় ৬ লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে যুক্ত, আর ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ পরিবহন, বিক্রি, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মতো কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

ক্রেতারা এর প্রভাব দেখছিলেন বাজারে। কর্মশালার পাঁচ দিন আগে, ৩ এপ্রিল ঢাকার শান্তিনগর, মতিঝিল, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা ও কুড়িলের কাঁচাবাজার ঘুরে ইউএনবি দেখতে পায়, ৫০০ গ্রামের কম ওজনের যে ইলিশ আগে কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, তার দাম উঠেছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। বিক্রেতারা কয়েক দিনের সরবরাহ ঘাটতি এবং পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে চাহিদা বাড়াকে দায়ী করেন, আর বলেন এপ্রিলের শেষ দিকে সরবরাহ বাড়তে পারে।

মেঘনা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকা; এই নদীই দেশের ইলিশ আহরণ ও জাটকা অভয়াশ্রমের কেন্দ্র। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মেঘনা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকা; এই নদীই দেশের ইলিশ আহরণ ও জাটকা অভয়াশ্রমের কেন্দ্র। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ইলিশ গবেষণায় এ পর্যন্ত যা অর্জিত হয়েছে


কর্মশালার শিরোনামে অর্জিত সাফল্যের কথা ছিল, আর ২০২৬ সালের আগে বিএফআরআইয়ের ইলিশ গবেষণা কী দিয়েছে তা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব প্রকাশনাতেই আছে। ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত "ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কৌশল" শীর্ষক প্রযুক্তি নির্দেশিকায় বিএফআরআই জানায়, চাঁদপুরে তার নদী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ইলিশের ওপর গবেষণা চালিয়ে আসছে। এই গবেষণার মাধ্যমে জাটকার বিচরণক্ষেত্র ও ইলিশের প্রজননক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে, এবং জাটকার সর্বোচ্চ প্রাপ্যতার সময়কাল ও ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ণয় করা গেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণালব্ধ সুপারিশ মৎস্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করায় ২০০৩ সাল থেকে ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

নির্দেশিকায় ফলাফলগুলো দেওয়া হয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরের ফিশারিজ রিসোর্স সার্ভে সিস্টেমের তথ্য দিয়ে, যা ১৯৮৩-৮৪ সাল থেকে ইলিশ উৎপাদনের হিসাব রাখছে। ২০০১-০২ সালে আহরণ ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৫৯৩ টন, ২০০২-০৩ সালে তা নেমে আসে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২ টনে। জাটকা সংরক্ষণ শুরুর পর ২০০৩-০৪ সালে উৎপাদন দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩৯ টনে; অভয়াশ্রম যুক্ত হওয়ার পর ২০০৫-০৬ সালে ২ লাখ ৭৭ হাজার ১২৩ টন; আর প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণসহ ২০০৯-১০ সালে ৩ লাখ ১২ হাজার ৬১২ টন, যা ২০০১-০২ সালের চেয়ে ৪১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি।

একই নির্দেশিকার আরও কিছু তথ্য সরাসরি মন্ত্রীর ডিম ও জাটকা সংক্রান্ত প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত:

  • ইলিশ সাধারণত এক বছরের কিছু বেশি বয়সে পরিপক্ব হয়; আবহাওয়া ও অন্যান্য কারণে কখনো ৮ থেকে ১০ মাস বয়সেও পরিপক্ব হতে পারে।
  • একটি ইলিশে সর্বোচ্চ ২১ লাখ পর্যন্ত ডিম পাওয়া যায়; বড় মাছে বেশি ডিম, ছোট মাছে কম।
  • প্রধান প্রজনন মৌসুম সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৌসুম জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি; তবে ইলিশ সারা বছরই কমবেশি প্রজনন করে।
  • মেঘনায় কারেন্ট জাল দিয়ে পরীক্ষামূলক আহরণে প্রতি ১০০ মিটার জালে ঘণ্টায় ধরা জাটকার পরিমাণ ২০০৫ সালের ০.৯৪ কেজি থেকে ২০১০ সালে ২.৪৪ কেজিতে ওঠে, অর্থাৎ প্রায় ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি; এ সময় অভয়াশ্রমের সঙ্গে প্রধান প্রজনন এলাকায় ১০ দিনের নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হয়েছিল।
  • সমীক্ষায় প্রজননোত্তর, অর্থাৎ ডিম ছেড়ে দেওয়া ইলিশের হার ২০০২ সালের ০.৫০ শতাংশ থেকে ২০১০ সালে ৩৩.৬৯ শতাংশে ওঠে, যাকে বিএফআরআই প্রাকৃতিক প্রজননে বেশি সাফল্যের লক্ষণ হিসেবে দেখেছে।
  • জেনেটিক গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে ইলিশের একটি মাত্র মজুদ শনাক্ত হয়েছে; তাই ইনস্টিটিউট আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেছে।

প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা ডিমের হিসাবে কী দিতে পারে, বিএফআরআই তারও একটি হিসাব দিয়েছে। ২০১০ সালের মৌসুমে ১০ দিনের নিষেধাজ্ঞায় প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ইলিশ আহরণ থেকে রক্ষা পায় এবং সেগুলো থেকে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৯৯ কেজি ডিম উৎপাদিত হয় বলে ইনস্টিটিউট হিসাব করেছে। ডিম ফোটার হার ৫০ শতাংশ ও রেণুর বাঁচার হার ১০ শতাংশ ধরে, সে বছর প্রায় ২১ হাজার ১২ কোটি পোনা বা জাটকা ইলিশের মজুদে নতুনভাবে যুক্ত হবে বলে ইনস্টিটিউটের ধারণা।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি ভবন; ইনস্টিটিউটটি কর্মশালায় সভাপতিত্ব করে এবং চাঁদপুরের নদী কেন্দ্র থেকে ইলিশ গবেষণা চালায়। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি ভবন; ইনস্টিটিউটটি কর্মশালায় সভাপতিত্ব করে এবং চাঁদপুরের নদী কেন্দ্র থেকে ইলিশ গবেষণা চালায়। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ইলিশের ডিম থেকে যেভাবে জাটকা হয়


ইলিশ (Tenualosa ilisha) হেরিং গোত্রের মাছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। বাংলাপিডিয়া একে অ্যানাড্রোমাস মাছ হিসেবে বর্ণনা করেছে: প্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ সাগরে থাকে এবং ডিম ছাড়তে নদীর মিঠা পানিতে উজানে আসে। ডিম পানিতে ভেসে থাকে; ডিম ফুটে বের হওয়া পোনা কিছুদিন নদীর খাতে বড় হয়, তারপর খাবার ও বৃদ্ধির জন্য সাগরে নেমে যায় এবং পরিণত হয়ে আবার নদীতে ফিরে আসে। স্ত্রী ইলিশ পদ্মা, যমুনা ও মেঘনাসহ বড় নদীগুলোর উজানে ডিম ছাড়ে। ছয় থেকে দশ সপ্তাহে পোনা প্রায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হয়, তখন এদের জাটকা বলা হয় এবং এরা সাগরের দিকে নামতে শুরু করে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে, ইলিশ মূলত প্ল্যাঙ্কটনভোজী এবং লম্বায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যদিও সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটারের মাছ বেশি দেখা যায়; একটি বড় ইলিশের ওজন প্রায় আড়াই কেজি। ফিশবেস জানায়, ইলিশ প্রথম পরিপক্ব হয় গড়ে ৩১.৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যে, আর নদীর উজানে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে, সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার; তবে বাঁধ বা ব্যারাজ কখনো কখনো এই চলাচল আটকে দেয়।

ইলিশ খোলা নদীতে প্রজনন করে বলে বিএফআরআইয়ের নির্দেশিকা জাটকার সংখ্যাকে সরাসরি প্রজননক্ষম মাছ রক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেছে: প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষা করা গেলে প্রাকৃতিকভাবে সর্বোচ্চ পরিমাণ ডিম এবং পরে জাটকা পাওয়া যেতে পারে। ফিশবেস উল্লেখ করেছে, ভারতে ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন আংশিকভাবে সফল হয়েছে। বিএফআরআইয়ের নির্দেশিকায় চাঁদপুর কেন্দ্রে চলমান গবেষণার তালিকাও আছে: জাটকা ও ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ, সর্বোচ্চ সহনশীল উৎপাদন, ইলিশের মজুদের গতিবিদ্যা, নদ-নদীর ইকোলজি, এবং ইলিশের জীবনচক্র ও উৎপাদনশীলতার ওপর পরিবেশ ও জলবায়ুগত উপাদানের প্রভাব, যাতে বিচরণক্ষেত্র, প্রজননক্ষেত্র ও অভিপ্রয়াণ পথের পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়।

উৎপাদন বৃদ্ধির বাধাগুলোর কথাও নির্দেশিকায় সরাসরি বলা আছে: সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুমে অবাধে ইলিশ ধরায় প্রাকৃতিকভাবে ডিম ও পোনা উৎপাদন ব্যাহত হওয়া; ব্যাপক হারে জাটকা ধরায় বড় হওয়ার সুযোগ না দিয়েই মাছ ধরে ফেলা, অর্থাৎ গ্রোথ ওভারফিশিং; জীবনচক্রের প্রায় সব স্তরে আহরণজনিত মৃত্যু; এবং নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, পরিবেশগত পরিবর্তন ও দূষণে বিচরণ, প্রজনন ও চারণক্ষেত্র নষ্ট হওয়া। নির্দেশিকা বৃষ্টিপাত, পানিপ্রবাহ ও তলানি পড়াকে ইলিশ উৎপাদনের নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করেছে, ইলিশের প্রাপ্যতার সঙ্গে তলানি পড়ার জোরালো সম্পর্ক (r = ০.৯৮) পেয়েছে, এবং বলেছে ১৯৭৮ সালের পর থেকে ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের চলাচল ও আবাসস্থল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২৬ সালের এপ্রিলে যে নিয়ম বলবৎ ছিল


ইউএনবির খবর অনুযায়ী, কর্মশালার সময় জাটকা সুরক্ষা দাঁড়িয়ে ছিল কয়েকটি নিষেধাজ্ঞার ওপর, যা ৬ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় তুলে ধরে:

  • ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ;
  • সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ;
  • ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ;
  • ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রম এবং নির্দিষ্ট এলাকায় মৌসুমভিত্তিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা;
  • ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটারের একটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা;
  • জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প জীবিকার সহায়তা।

দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমের আট মাসের জাটকা নিষেধাজ্ঞা ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চলার কথা ছিল। এ সময় ২৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, কেনা, বেচা ও মজুত নিষিদ্ধ। ২০২৫ সালে সংশোধিত মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ অধ্যাদেশ এবং মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ওই মৌসুমের ২২ দিনের প্রজনন নিষেধাজ্ঞা, অর্থাৎ "মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫" চলেছিল ২০২৫ সালের ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর।

অভয়াশ্রম হলো নদীর এমন অংশ, যেখানে জাটকা জড়ো হওয়ার মাসগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। ২০১৮ সালের জুনে ষষ্ঠ অভয়াশ্রম ঘোষণার সময় ঢাকা ট্রিবিউন এগুলোর তালিকা দেয়: মেঘনার ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার; ভোলায় মেঘনা মোহনার শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার; ভোলায় তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার; পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার; শরীয়তপুরে নিম্ন পদ্মার ২০ কিলোমিটার; এবং বরিশালে হিজলা থেকে মেহেন্দিগঞ্জ পর্যন্ত মেঘনার ৮৩ কিলোমিটার। আন্ধারমানিক ছাড়া সব অভয়াশ্রমে বছরের প্রথম নিষেধাজ্ঞা মার্চ-এপ্রিলে, আর আন্ধারমানিকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি। বিএফআরআইয়ের নির্দেশিকা জানায়, মৎস্য অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের মধ্যে নিম্ন পদ্মার অভয়াশ্রমের সীমানা জিপিএস পয়েন্ট দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা আইন প্রয়োগ করতে পারেন।

ওই মৌসুমে অভিযানও জোরদার করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জেলার ৯৬টি উপজেলায় ৩০ দিনের "বিশেষ কম্বিং অপারেশন ২০২৬" এবং মার্চে ৭৯টি উপজেলায় ১৫ দিনের অভিযান চালানো হয়েছে; ইলিশ উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের বিরুদ্ধে অভিযান জুন পর্যন্ত চলবে। জালের সমস্যার মাত্রা বিএফআরআইয়ের নির্দেশিকায় আছে: ধরা পড়া জাটকার প্রায় ৫০ শতাংশ ধরা পড়ে জগৎ বেড় জালে, ৪০ শতাংশ কারেন্ট জালে, আর ১০ শতাংশ বেহুন্দিসহ অন্যান্য জালে।

চাঁদপুরের নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট। ছবিটি প্রেক্ষাপট হিসেবে দেওয়া, এই প্রতিবেদনের ঘটনার সময় তোলা নয়। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁদপুরের নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট। ছবিটি প্রেক্ষাপট হিসেবে দেওয়া, এই প্রতিবেদনের ঘটনার সময় তোলা নয়। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জেলে, গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান


জেলেদের কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়ার যে আহ্বান মন্ত্রী জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিষয়ে গবেষকদের অভিজ্ঞতাও সেদিকেই ইঙ্গিত করে। সিজিআইএআরের আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র ওয়ার্ল্ডফিশ ২০২৫ সালের এপ্রিলে জানায়, মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে তাদের ইকোফিশ প্রকল্পে জেলেরা স্থানীয়ভাবে গঠিত ইলিশ সংরক্ষণ দলের মাধ্যমে নিজেরাই নিয়ম মানা নিশ্চিত করেছেন, আর পাশাপাশি পেয়েছেন বিকল্প জীবিকার সহায়তা। সংস্থাটির হিসাবে, ইলিশের আহরণ বছরে ১০ থেকে ১১ শতাংশ হারে বেড়েছে, ধরা পড়া মাছের গড় আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, এবং প্রকল্প এলাকায় পরিবারের আয় বেড়েছে ৮৬.১৯ শতাংশ, তুলনামূলক এলাকায় যেখানে বৃদ্ধি ছিল ৫২.৬৬ শতাংশ। ওয়ার্ল্ডফিশ জানায়, এই কাজ মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা ১১ দিন থেকে ২২ দিনে বাড়ানো এবং ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটারের নিঝুম দ্বীপ সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণায় ভূমিকা রেখেছে।

বিএফআরআইয়ের নির্দেশিকাও নদীর বাস্তবতা থেকে একই কথা বলে: ইলিশ ও জাটকা আহরণে যুক্ত জেলেরা জীবিকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন এবং তাঁদের আর্থসামাজিক অবস্থাও সুসংহত নয়; তাই অভয়াশ্রম ও প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে জেলেরা নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন এবং ইলিশ উৎপাদন বাড়বে।

কর্মশালায় উপস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত বিএআরসি জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের শীর্ষ সংস্থা; এটি সিস্টেমের প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা সমন্বয় করে, অগ্রাধিকার ঠিক করে এবং গবেষণা কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে। এর অন্যতম প্রতিষ্ঠান বিএফআরআই ১৯৮৪ সালে মৎস্য গবেষণার পরিকল্পনা, সমন্বয় ও পরিচালনার জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৬ সালে কাজ শুরু করে। এর সদর দপ্তর ময়মনসিংহে; পুকুর, হ্যাচারি এবং নদী জরিপের জন্য গবেষণা জাহাজসহ চাঁদপুরের নদী কেন্দ্র এর ইলিশ গবেষণার মূল কেন্দ্র। মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলে মাঠপর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬ পালন করে দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায়; ছিল তিন দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম। ৬ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী সবাইকে জাটকা ধরা, কেনা, বেচা ও মজুত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

ছবি: Nahid Sultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দেশ রূপান্তর, দ্য ডেইলি স্টার, ইউএনবি, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ওয়ার্ল্ডফিশ, বাংলাপিডিয়া, ফিশবেস

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)