Skip to content
দা এগ্রো নিউজদা এগ্রো নিউজকৃষি ও কৃষকের সংবাদ
সাবস্ক্রাইব

রূপচাঁদার নামে বিক্রি হচ্ছে রাক্ষুসে পিরানহা!

হাঙরের মতো দাঁতবিশিষ্ট দক্ষিণ আমেরিকার আক্রমণাত্মক এ রাক্ষুসে মাছ অবাধে বিক্রি হচ্ছে রৌমারির বাজারে

ঢাকা ট্রিবিউন২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ · ২ মিনিটের পড়া

হাঙরের মতো দাঁতবিশিষ্ট দক্ষিণ আমেরিকার আক্রমণাত্মক এ রাক্ষুসে মাছ অবাধে বিক্রি হচ্ছে রৌমারির বাজারে

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ। অসাধু কিছু মাছ ব্যবসায়ী ক্রেতাদের ধোঁকা দিয়ে রূপচাঁদা মাছের নাম করে এসব মাছ বিক্রি করছে। সম্প্রতি রৌমারীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

মাছ বিক্রেতা আব্দুল হালিম নামে জানান, “জামালপুরের মাছ ব্যাপারী চাঁদ মিয়া প্রতিদিন প্রায় ২শ’ কেজি পিরানহা মাছ রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়নের শিবেরডাঙ্গি এলাকায় এনে বিক্রি করেন। খুচরা বিক্রেতারা সেসব মাছ কিনে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন।” পিরানহা মাছ চাষ ও বিক্রি নিষিদ্ধ, বিষয়টি জানা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘“আমি মূর্খ মানুষ, এসব জানি না। মাছ হিসেবে জাইনা বিক্রি করি। আপনে কইলেন নিষিদ্ধ, আর কোনও দিন বিক্রি করুম না।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, “চাঁদ মিয়া নামে এক মাছ ব্যবসায়ী জামালপুরের শেরপুর এলাকার কালিবাড়ী নামক স্থান থেকে নিয়মিত পিরানহা মাছ নিয়ে এসে রৌমারীর বিভিন্ন বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। ওই বিক্রেতারা রূপচাঁদা মাছের নাম করে তা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন। এছাড়াও উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের একটি পুকুর লিজ নিয়ে সেখানে পিরানহা মাছ চাষ করছেন মোস্তফা নামে এক মৎস্যচাষী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভন্ন পুকুরে এ মাছের চাষ করছেন বলে জানান রফিকুল নামে আরেক মাছ বিক্রেতা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লিজ নেওয়া ওই পুকুরে পিরানহা মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন আরও বেশ কয়েকজন মাছ বিক্রেতা।

তবে পিরানহা মাছ চাষের কথা স্বীকার করলেও বর্তমানে তা আর পুকুরে নেই বলে জানান মৎস্যচাষী মোস্তফা। তিনি বলেন, “আগে কিছু পিরানহা চাষ করলেও নিষিদ্ধ হওয়ায় তা এখন তুলে ফেলছি।”

রৌমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুর রহমান পিরানহা মাছের বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ইতোমধ্যেই বাজারে অভিযান পরিচালনা শুরু করেছি।” ২ জুলাই রৌমারী বাজার থেকে ২০ কেজি পিরানহা মাছ জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে উপজেলায় এ মাছ চাষের বিষয়টি নাকচ করেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।

পিরানহা মাছ চাষ ও বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “পিরানহা মাছ চাষ, পরিবহণ ও বিক্রি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ এই মাছ চাষ কিংবা বিক্রি করেন তাহলে তিনি অপরাধ করছেন এবং তিনি শাস্তির আওতায় আসবেন। আমি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলবো।

তিনি বলেন, “রৌমারী এমনিতেই বন্যা প্রবণ এলাকা। পুকুরে এই মাছ হয়ে থাকলে তা যদি একবার আমাদের নদী নালা কিংবা জলাশয়ে প্রবেশ করে, তাহলে আমাদের জলজ বাস্তুসংস্থান মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন এলাকার রাক্ষুসে মাছ পিরানহা। হাঙ্গরের ন্যায় দাঁত বিশিষ্ট অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এ মাছ জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি মানুষকেও আক্রমণ করতে পারে। এর দলবদ্ধ আক্রমণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে সক্ষম।

ট্যাগ#রূপচাঁদা#পিরানহা
ঢাকা ট্রিবিউনদা এগ্রো নিউজ

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য

()
রূপচাঁদার নামে বিক্রি হচ্ছে রাক্ষুসে পিরানহা! | দা এগ্রো নিউজ