সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঈদের আগে গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতা কম, জমেনি বেচাকেনা

২০২৬ সালের ২৪ মে, ঈদুল আজহার আগে গাবতলী পশুর হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-ছাগল এলেও ক্রেতা ছিল কম; বিক্রেতারা কয়েক দিনে হাতে গোনা কয়েকটি পশু বিক্রি করতে পেরেছিলেন, আর ক্রেতারা দাম বেশি বলে অভিযোগ করেছিলেন।

ঈদের আগে গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতা কম, জমেনি বেচাকেনা
লাইভস্টক

২০২৬ সালের ২৪ মে রোববার সকালে রাজধানী ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে কোরবানির পশুর বেচাকেনা তখনও জমে ওঠেনি। পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা ছিল ২৮ মে। এর আগেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছিল, কিন্তু হাটে ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম। সেদিন সকালে হাট ঘুরে এ চিত্র দেখেছিলেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক।

জামালপুর, টঙ্গী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে কয়েক ডজন করে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতারা জানিয়েছিলেন, কয়েক দিনে তাঁরা একটি থেকে তিনটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। গ্রাম থেকে এবং নওগাঁ থেকে ছাগল নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরাও বিক্রি কম হওয়ার কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা এক ক্রেতা বলেছিলেন, বিক্রেতারা গরুর দাম অনেক বেশি চাইছেন। ছাগল বিক্রেতারা এর জন্য পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করেছিলেন।

সেই বছর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর জোগান ছিল সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে প্রায় ২২ লাখ বেশি। তবু হাটের শুরুর দিনগুলোতে বিক্রেতা ও ক্রেতার দামের হিসাবে বড় ফারাক ছিল, যা সেই সপ্তাহে অন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছিল।

গরু নিয়ে এসে অপেক্ষায় বিক্রেতারা


জামালপুরের জাকারিয়া ফার্ম থেকে ৮০টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছিলেন হৃদয়। তিনি জাগো নিউজকে বলেছিলেন, "গত বুধবার ৮০টা গরু নিয়ে হাটে এসেছি। আজ পর্যন্ত ২/৩টি গরু বিক্রি করতে পারছি। অল্প-স্বল্প ক্রেতা আছে। তবে অধিকাংশ ক্রেতা ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই করছেন। আশা করা যায় কাল থেকে ক্রেতার উপস্থিতি বাড়বে।"

টঙ্গীর সরকার ক্যাটেল ফার্ম থেকে ৪৮টি গরু নিয়ে এসেছিলেন মো. খবির হোসেন। তাঁর কথায়, "আজ দুইদিন হলো গরু নিয়ে ঢাকা এসেছি। দুইদিনে ১টা গরু বিক্রি করতে পারছি। এখনো হাট ভালো করে লাগেনি। ক্রেতা আছে খুব কম। আগামী ২ দিনের মধ্যে ক্রেতা বাড়বে।"

পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে ৩১টি গরু নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে হাটে এসেছিলেন মো. বরাত আলী সরকার। তিনি বলেছিলেন, "আমরা দুই ভাই মিলে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে ৩১টা গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু বাজারে কাস্টমার নামেনি। সকালেই গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতা গরু দেখে দামদরও করেনি।"

একই সপ্তাহে অন্য সংবাদমাধ্যমও গাবতলীতে প্রায় একই চিত্র দেখেছিল। দ্য ডেইলি অবজারভার ২৩ মে জানিয়েছিল, আগের দিন শুক্রবার গাবতলী, পোস্তগোলা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন মাঠসহ কয়েকটি হাটে ব্যবসায়ীরা ট্রাক থেকে পশু নামাচ্ছিলেন, খড় ও পানি খাওয়াচ্ছিলেন এবং প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচাতে পশুর গায়ে পানি ঢালছিলেন। প্রতিদিন ট্রাক ও ট্রলারে গরু, ছাগল ও মহিষ শহরে ঢুকলেও ক্রেতার প্রত্যাশিত ভিড় তখনও শুরু হয়নি বলে ব্যবসায়ীরা পত্রিকাটিকে বলেছিলেন। গাবতলীতে যশোর থেকে আসা এক ব্যবসায়ী জানিয়েছিলেন, খাদ্য, ওষুধ ও পরিবহনের খরচ বাড়ায় সে বছর গরু পালনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; ফরিদপুরের এক ব্যবসায়ী বলেছিলেন, পশুর খাবার, শ্রমিক ও থাকার খরচ প্রতিদিন বাড়ছে।

২৪ মে সকালের সংস্করণে একই পত্রিকা গাবতলীর আরেক ব্যবসায়ীর কথা লিখেছিল, যিনি আটটি গরু এনে তখন পর্যন্ত একটি বিক্রি করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চাপে আছেন এবং ন্যায্য দাম না পেলে অনেকে লোকসানে পড়বেন।

ক্রেতার অভিযোগ: দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে


বাড়িতে কোরবানির জন্য গরু কিনতে নারায়ণগঞ্জ থেকে গাবতলী হাটে এসেছিলেন মেজবাহ। তিনি জাগো নিউজকে বলেছিলেন, তিনি ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে একটি গরু কিনতে চান।

তাঁর অভিযোগ ছিল, বিক্রেতারা গরুর দাম অনেক বেশি চাইছেন। তিনি বলেছিলেন, "কেউ কেউ আবার ঠিকঠাক দাম চাচ্ছে। তবে অধিকাংশ বেশি চাওয়ার কারণে যারা কম দাম চাইছিল তারাও এখন বেশি চাচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে ঘুরছি গরু কেনার জন্য। কিন্তু দাম যেভাবে চাচ্ছে কেনা সম্ভব হচ্ছে না। যদি কিনতে না পারি তাহলে চলে যাবো। নারায়ণগঞ্জ গিয়ে সেখান থেকে কিনবো।"

ক্রেতাদের এই সতর্কতার কথা দ্য ডেইলি অবজারভারের ২৪ মের প্রতিবেদনেও ছিল। পত্রিকাটি লিখেছিল, ব্যবসায়ীরা পশুখাদ্য, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ বাড়ায় দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানাচ্ছিলেন, আর ক্রেতারা বলছিলেন পশুর দাম ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তেজগাঁও হাটের এক ক্রেতা দামকে "অনেক বেশি" বলেছিলেন এবং ঈদের কাছাকাছি সময়ে কেনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। অনেক ক্রেতা শেষ দিনগুলোতে দাম কমবে ভেবে অপেক্ষা করছিলেন। সকালের দিকে হাট ধীর থাকলেও বিকেলে তুলনামূলক বেশি লোক আসছিলেন, আর ব্যবসায়ীরা এই সময়টাকে বলছিলেন দাম যাচাইয়ের সময়।

চাহিদা কোন আকারের পশুর দিকে, সে বিষয়েও প্রতিবেদনগুলো একই কথা বলেছিল। অবজারভারের তথ্যে, তখন চাহিদা ছিল মূলত মাঝারি ও ছোট গরুর, বড় গরুর ক্রেতা ছিল কম। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ১৫ মে খামারিদের বরাতে জানিয়েছিল, সে বছর বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরে ছোট ও মাঝারি গরুর দিকে বাজারের ঝোঁক বেশি; ২০০ থেকে ৫০০ কেজি ওজনের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি এবং ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা বাজেটের ক্রেতারা হাটে নানা ধরনের গরু পাবেন বলে খামারিরা আশা করছিলেন।

এর আগের বছরগুলোতেও ঢাকার হাটে দাম নিয়ে ক্রেতাদের একই অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৪ জুন প্রথম আলো জানিয়েছিল, সরকারি হিসাবে চাহিদার চেয়ে পশু বেশি থাকলেও হাটে দাম চড়া ছিল, এবং হাটে যাওয়া ক্রেতাদের ধারণা ছিল দাম আগের বছরের চেয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি। সেবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, হাট পুরোপুরি জমে উঠলে যাঁরা বাড়তি দাম চাইছেন তাঁরাও দাম কমাবেন, কারণ প্রথম দিকে দাম ধরে রাখার একটা প্রবণতা থাকে।

ঈদুল আজহার আগে বাংলাদেশের একটি গরুর হাট, ২০২৪ সালের জুনে তোলা। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঈদুল আজহার আগে বাংলাদেশের একটি গরুর হাট, ২০২৪ সালের জুনে তোলা। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছাগলের হাটেও ধীর গতি


গাবতলীর ছাগলের অংশেও সেদিন বেচাকেনা ছিল কম। ছাগল বিক্রেতা মো. ফারুক জাগো নিউজকে বলেছিলেন, "আমরা গ্রামের থেকে ছাগল কিনে ঢাকা নিয়ে আসি। এখানে এখন ১২০-১২৫ টার মতো ছাগল আছে। আজ পর্যন্ত ১০-১১ টা ছাগল বিক্রি করেছি। বাজার খুব একটা ভালো না। গতবারের তুলনায় এবার বাজার কম, দাম কম।" তিনি জানিয়েছিলেন, হাটে মাঝারি আকারের ছাগলের চাহিদা বেশি।

নওগাঁ থেকে ১৪০টি ছাগল নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন মালু ব্যাপারী। তিনি বলেছিলেন, "বেচাকেনা সেভাবে দেখছি না। আজকে মাত্র ১৫টা ছাগল বিক্রি করেছি। কোরবানির ঈদে যেমন বেচাকেনা হয় সেভাবে এখনও শুরু হয়নি। আশা করা যায় কাল থেকে ঈদের বিক্রি শুরু হয়ে যাবে। আর তো সময় নেই।"

ক্রেতাদের বলা দাম আর বিক্রেতাদের চাওয়া দামের মধ্যে মিল নেই কেন, জানতে চাইলে তিনি পশুখাদ্যের দামের কথা বলেছিলেন: "পশু খাবারের দাম অনেক বেড়েছে। যার কারণে ছাগলও বেশি দামে কিনতে হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা এসে যে দাম বলছে সে দামে আমরা ছাগল কিনতেও পারিনি। এই ছাগলটা আমার কিনে আনা ১৭ হাজার টাকা দিয়ে। কিন্তু ক্রেতা এসে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বলেছে। পরে ঘুরে চলে গেছে। এই দামে ছাগল বেচতে পারবো বলেন?"

সে বছর দেশে কোরবানিযোগ্য ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ছিল ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি, যা গরু-মহিষের (৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি) চেয়েও বেশি; ৩ মে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য তুলে ধরে এ হিসাব দিয়েছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বাংলাদেশের ছাগলের বড় অংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে, দেশের মোট ছাগলের ৯০ শতাংশের বেশি এই জাতের, বাকিগুলো যমুনাপারি ও এর সংকর। জাতটির রং প্রধানত কালো, তবে বাদামি, ধূসর ও সাদাও দেখা যায়; লোম ছোট, নরম ও চকচকে, পা খাটো। বাংলাপিডিয়া জানায়, প্রাপ্তবয়স্ক ছাগলের গড় উচ্চতা প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার, পাঁঠার ওজন ১৬ থেকে ১৮ কেজি আর ছাগীর ১২ থেকে ১৪ কেজি। প্রথম বাচ্চা দেয় প্রায় ১২ মাস বয়সে, আর ছাগী বছরে দুবার বা দুই বছরে তিনবার বাচ্চা দেয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে জাতটি পাওয়া যায়।

উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ অনুযায়ী, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস ও চামড়া উচ্চমানের, এবং চামড়া ও বেশি বাচ্চা দেওয়ার জন্যই জাতটি পছন্দের; তবে এর দুধ উৎপাদন কম। খাবারের চাহিদা কম ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে জাতটি জনপ্রিয়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এর জিনোম বিন্যাস করেছেন।

ঈদুল আজহার আগে ঢাকায় বিক্রির জন্য আনা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: Ragib Hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঈদুল আজহার আগে ঢাকায় বিক্রির জন্য আনা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: Ragib Hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

গাবতলী: ঢাকার একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় সারা বছর বসে এমন একটি স্থায়ী পশুর হাট আছে, সেটি গাবতলী গবাদিপশুর হাট, প্রথম আলো ২০২৬ সালের ২০ মে এ কথা উল্লেখ করেছিল। সে বছর এ হাটের ইজারা পেয়েছিল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের জুনে ঢাকা ট্রিবিউন ও ইউএনবি গাবতলীকে শহরের একমাত্র স্থায়ী হাট বলে উল্লেখ করেছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে ইউএনবির বরাতে ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছিল, ডিএনসিসি গাবতলীর স্থায়ী হাটের পাশাপাশি অস্থায়ী হাট বসায়, আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্থায়ী হাট সারুলিয়ায়।

২০ মে ডিএনসিসির নগরভবনে হাটের ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় সভায় ইজারাদারদের আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সভায় ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছিলেন, পশুর হাটের জন্য প্রায় ৩৯টি শর্ত দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও ব্যত্যয় হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে হাট বসানোর নিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে বেচাকেনা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে সে বছর রেললাইন, উড়ালসড়ক বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের আশপাশে কোনো হাট বসতে দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। প্রতিটি হাটে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিদিনের বর্জ্য জমা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। সেদিন পর্যন্ত ডিএনসিসি এলাকায় ১০টি অস্থায়ী হাটের ইজারাপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছিল এবং আরও একটি হাটের দরপত্র খোলা হয়েছিল।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২১ মে জানিয়েছিল, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১১টি এবং উত্তর সিটিতে ১২টি অস্থায়ী হাটের প্রস্তুতি চলছে, এর বাইরে গাবতলীর স্থায়ী হাট। দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল, এসব হাটে পাঁচ দিন ধরে কেনাবেচা চলবে। গাবতলীসহ বিভিন্ন হাটে তখন বাঁশের খুঁটি পুঁতে অস্থায়ী ঘেরা ও শামিয়ানা তৈরি হচ্ছিল, ট্রাকভর্তি গরু নামছিল, আর বেপারিরা ভালো জায়গা নিশ্চিত করতে আগেভাগে চলে এসেছিলেন। ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, যত্রতত্র বা সড়কের ওপর কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না। ৩ মের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় অবশ্য রাজধানীতে উত্তরে ১৬টি ও দক্ষিণে ১১টি মিলিয়ে মোট ২৭টি হাট নির্ধারণের কথা বলেছিল।

বাংলা ট্রিবিউন ২১ মে গাবতলীর ছবিসহ প্রতিবেদনে লিখেছিল, রাজধানীর অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী এই হাটে পুরোদমে গবাদিপশু আসতে শুরু করেছে; দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা ট্রাক ও জলপথে পশু আনছেন এবং অনেকে আগেই হাটে জায়গা নিয়ে নিয়েছেন।

আগের বছরের অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে ধরা আছে। ২০২৪ সালের ঈদের আগে প্রথম আলোর দুই প্রতিবেদক গাবতলী, হাজারীবাগ, দিয়াবাড়ি ও মেরাদিয়া হাট ঘুরে দেখেছিলেন যে গাবতলীতেই ক্রেতার ভিড় ও বিক্রি সবচেয়ে বেশি। সেবার হাটের বেশির ভাগ অংশে শামিয়ানা টাঙানো হয়েছিল, প্রচণ্ড গরমের কারণে ওপরে ফ্যান লাগানো হয়েছিল, আর গরু-ছাগলের পাশাপাশি উট, দুম্বা, মহিষ ও ভেড়াও উঠেছিল। হাট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন, সেদিন গাবতলীতে বেশি বিক্রি হওয়া গরুর দাম ছিল এক থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে।

ঢাকার গাবতলী বালুঘাটে তুরাগ নদীর তীর, ২০২০ সালের জুনে তোলা। ছবি: Rohan ultimate / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার গাবতলী বালুঘাটে তুরাগ নদীর তীর, ২০২০ সালের জুনে তোলা। ছবি: Rohan ultimate / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা ও জোগান


২০২৬ সালের ৩ মে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সে বছর কোরবানির জন্য পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি, আর দেশে প্রাপ্যতা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। ফলে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। প্রাপ্য পশুর মধ্যে ছিল ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া এবং উট ও দুম্বার মতো অন্যান্য প্রজাতির ৫ হাজার ৬৫৫টি প্রাণী।

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে সেদিন আগের বছরের তুলনাও ছিল। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি; শুরুতে ২০ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি উদ্বৃত্তের হিসাব করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু, ফলে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৩৩ লাখ ১০ হাজার।

কোরবানির পশুর সংখ্যা কয়েক বছর ধরেই এক কোটির কাছাকাছি ছিল। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রথম আলো ২০২৪ সালের জুনে জানিয়েছিল, ২০১৯ সালে দেশে ১ কোটি ৬ লাখ ১৪ হাজার ২৮১টি পশু কোরবানি হয়েছিল। করোনার সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর ২০২০ সালে সংখ্যাটি কমে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩ এবং ২০২১ সালে ৯০ লাখ ৯৩ হাজারের কিছু বেশিতে নামে। ২০২২ সালে কোরবানি হয়েছিল ৯৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬৭২টি, আর ২০২৩ সালে ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি পশু।

দেশে মোট উদ্বৃত্ত থাকলেও সব অঞ্চলের ছবি একরকম ছিল না। বাংলা ট্রিবিউনের বরাতে ঢাকা ট্রিবিউন ২২ মে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছিল, ঢাকায় কোরবানির পশুর চাহিদা ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৯টি হলেও প্রাপ্যতা ছিল ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪২টি। চট্টগ্রামেও প্রায় ৫০ হাজার পশুর ঘাটতি ছিল। বিপরীতে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগে বড় উদ্বৃত্ত ছিল; শুধু রাজশাহী বিভাগেই চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৯ লাখ পশু বেশি ছিল। এ কারণে রাজধানীর হাটের বড় অংশ পশু উত্তরাঞ্চল থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছিল। অধিদপ্তরের উপপরিচালক (খামার) মো. শরিফুল হক বলেছিলেন, সে বছর পশুর কোনো ঘাটতি নেই।

যেসব জেলা থেকে ঢাকার হাটে পশু আসে


গাবতলীর বিক্রেতারা যে জেলাগুলো থেকে এসেছিলেন, সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল উদ্বৃত্ত পশুর জেলা। দ্য ডেইলি অবজারভারের ২৪ মের প্রতিবেদনে ঢাকার হাটে নিয়মিত পশু আসার জেলা হিসেবে কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, ঝিনাইদহ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাম ছিল।

জামালপুর: দৈনিক ইত্তেফাক ১৬ মে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বরাতে জানিয়েছিল, জামালপুরে প্রায় ১২ হাজার খামারির কাছে কোরবানির জন্য ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত ছিল, যেখানে জেলার চাহিদা প্রায় ৮২ হাজার। চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি প্রায় ২৫ হাজার পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রির কথা ছিল। খামারিরা খড়, ঘাস, ভুসি ও ভুট্টা খাইয়ে গরু প্রস্তুত করছিলেন; একজন খামারি জানিয়েছিলেন, গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। অনলাইনে ছবি ও ওজন দিয়ে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে গরু বিক্রির কথাও বলেছিলেন এক খামারি।

সিরাজগঞ্জ: বাসসের ১৪ মের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি, আর স্থানীয় চাহিদা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৬টি; চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। এর মধ্যে গরু ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৪টি, ছাগল ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০টি এবং ভেড়া ৪৭ হাজার ৭২৪টি; শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও সদর উপজেলায় পশু উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বাসসকে বলেছিলেন, জেলার ৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউন ১২ মে জানিয়েছিল, উদ্বৃত্ত পশু ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করা হবে।

পাবনা: আগের বছর, ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বরাতে জানিয়েছিল, পাবনার নয় উপজেলায় ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২০৪টি পশু প্রস্তুত, জেলার চাহিদা ৩ লাখ ১২ হাজার ৮২৬টি এবং উদ্বৃত্ত ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৮টি। তখনকার হিসাবে গরু ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৪টি, মহিষ ৮ হাজার ৪৮০টি, ছাগল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৬১১টি ও ভেড়া ৬৮ হাজার ২৯২টি। পত্রিকাটি লিখেছিল, প্রতি বছর পাবনা থেকে বিপুল সংখ্যক গরু ঢাকা ও চট্টগ্রামে যায়।

নওগাঁ: বাসস ১২ মে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বরাতে জানিয়েছিল, নওগাঁর প্রায় ৩৮ হাজার ৯০৯ জন ছোট-বড় খামারি প্রায় ৮ লাখ কোরবানির পশু লালন-পালন করেছেন, যার মধ্যে ষাঁড়, বলদ, গাভি, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া ছিল। জেলার আনুমানিক চাহিদা ৩ লাখ ৮৭ হাজার, আর ৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ অন্য জেলায় পাঠানোর কথা ছিল। খামারে দেশি জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল গরু পালন করা হচ্ছিল।

খাদ্য ও পরিবহন খরচের চাপ


গাবতলীর ছাগল ব্যবসায়ী যে খাদ্যের দামের কথা বলেছিলেন, তা সে মৌসুমের বহু জেলার খামারির অভিযোগ ছিল। নওগাঁর খামারিরা বাসসকে বলেছিলেন, তিন মাসে দানাদার খাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়েছে। একজন খামারি জানিয়েছিলেন, আগে ১ হাজার ৮০০ টাকার ৫০ কেজির বস্তা তখন ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, আর ৮০০ টাকার খাদ্যের দাম উঠেছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকায়। নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, দানাদার খাদ্যের বেশির ভাগ উপাদান আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে; নিয়মিত কৃমিনাশক ও টিকা সরকারি দরে দেওয়া হচ্ছিল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের এক খামারি ১৫ মে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, আগে ৪০ টাকার খাদ্য তখন ৬০ টাকা এবং ২০ টাকার পণ্য ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের এক খামারিও ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, খাদ্যের দাম বাড়তে থাকায় গরু পালনের খরচও বাড়ছে এবং এর প্রভাব ঈদের দামে পড়তে পারে।

তবে খরচ নিয়ে সব খামারির অভিজ্ঞতা একরকম ছিল না। ঢাকার উত্তরখান এলাকার এক খামারি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, খাদ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ অনেক বেড়েছে; পশুর দাম আগের বছরের কাছাকাছি, ছোট গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় সেগুলোর দাম চড়া আর বড় গরু তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নিলয় হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সে বছর বড় গরুর চাহিদা কমেছে এবং খাদ্য ও পরিবহন খরচ বাড়ায় বড় খামারিদের ঝুঁকি বেড়েছে। ঢাকা ট্রিবিউন ২২ মে এসব বক্তব্য প্রকাশ করেছিল।

খাদ্যের দাম নিয়ে খামারিদের উদ্বেগ আগের বছরগুলোতেও ছিল। ২০২৪ সালের ১৯ মে প্রথম আলো জানিয়েছিল, সে বছরের শুরুতে প্রতি কেজি গমের ভুসি ছিল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, তখন তা ৫২ থেকে ৫৫ টাকা; বুটের খোসা ৫২ থেকে ৫৩ টাকা থেকে বেড়ে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুনে খামারিরা পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, পশুখাদ্যের দাম আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সেবার বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যে জীবিত গরু আকারভেদে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, আর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জীবিত অবস্থার ওজনের প্রায় ৫৫ শতাংশ কোরবানির পর মাংস ও হাড় হিসেবে পাওয়া যায়।

হাটে চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও জাল নোট শনাক্তের ব্যবস্থা


৩ মের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে, আর রাজধানীর হাটগুলোতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর থাকবে এবং হাট ও ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রয়োজনে সাদা পোশাকেও, সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে বলে তিনি বলেছিলেন। দেশীয় খামারিদের স্বার্থে সীমান্তবর্তী পশুর হাট বন্ধের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অনলাইনে পশু কেনার ক্ষেত্রে কোনো খাজনা বা হাসিল না নেওয়ার কথা এবং চামড়া নষ্ট না হওয়ার জন্য কসাই ও কর্মীদের প্রশিক্ষণের কথাও জানানো হয়েছিল।

২৩ মে, অর্থাৎ জাগো নিউজের প্রতিবেদনের আগের দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন করেছিলেন। বাসস জানিয়েছিল, তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সে বছর হাটে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যসেবার জন্য মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে অসুস্থ পশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, জ্বর পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা ছিল এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ক্রেতাদের চোরাইপথে আনা পশু নয়, বৈধ উৎস থেকে কোরবানির পশু কেনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রায় ১ কোটি ১ লাখ চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ পশু প্রস্তুত থাকায় বাইরে থেকে আমদানির প্রয়োজন নেই বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতির কথাও তিনি বলেছিলেন। পরিদর্শনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৪ মে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মন্ত্রী বলেছিলেন, দেশীয় খামারিদের পালন করা পশু দিয়েই কোরবানি হবে, এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউন এ খবর দিয়েছিল।

হাটে লেনদেনের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ মে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ১০টি নির্দেশনা দিয়েছিল, দেশ রূপান্তর জানিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল:

  • ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত হাটে হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন দিয়ে অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিনামূল্যে নোট যাচাইয়ের সেবা দেওয়া;
  • যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয় নেই, সেখানকার অনুমোদিত হাটে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব বণ্টনের ভার সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখাগুলোকে দেওয়া;
  • বুথে নোট কাউন্টিং মেশিন দিয়ে নগদ টাকা গোনার সুবিধা দেওয়া এবং ব্যাংকের নামসহ 'জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ' লেখা ব্যানার টাঙানো;
  • ঈদ শেষ হওয়ার পরের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্দেশনা পরিপালনের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো।

ঈদুল আজহা ও কোরবানির পশু


২০২৬ সালের ১৮ মে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় দেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। বাসস জানিয়েছিল, সে হিসাবে ২৮ মে বৃহস্পতিবার জিলহজের ১০ তারিখ হওয়ায় ওইদিন বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান স্পারসোর পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোরবানি বা উদহিয়া হলো ঈদুল আজহায় গবাদিপশু উৎসর্গ করার ইবাদত। উইকিপিডিয়ার কোরবানি বিষয়ক নিবন্ধে বলা হয়েছে, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া যায়; শাফেয়ি মাজহাবে ১৩ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় আছে। উট, গরু, ভেড়া ও ছাগল কোরবানি করা যায়, তবে পশুকে সুস্থ ও রোগমুক্ত হতে হয়; অন্ধ, এক চোখ কানা বা লেজ ও কানের অংশ না থাকা পশু গ্রহণযোগ্য নয়। উট ও গরুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারেন। মাংস সাধারণত তিন ভাগ করা হয়: এক ভাগ কোরবানিদাতার, এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের এবং এক ভাগ গরিবদের জন্য।

এই উৎসব নবী ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতিবাহী। নিবন্ধটি অনুযায়ী, তিনি স্বপ্নে পুত্র ইসমাইলকে উৎসর্গ করার আদেশ পেয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে থামিয়ে তার বদলে কোরবানির জন্য একটি মেষ দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী গাবতলী পরিদর্শনের সময়ও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, কোরবানি দেওয়া হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাই তা যেন সহিহভাবে ও হালাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, দৈনিক ইত্তেফাক, দেশ রূপান্তর, দ্য ডেইলি অবজারভার, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ইউএনবি, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)