সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

চিরিরবন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ছাদে ২৮ প্রজাতির ফলের বাগান

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দোতলার ছাদে টবে মাল্টা, কমলা, কামরাঙা, ড্রাগন, লটকনসহ ২৮ প্রজাতির ফলের গাছের বাগান গড়ে উঠেছে বলে ২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়। উপজেলা কৃষি অফিস ছাদ কৃষিতে সহযোগিতার কথা বলেছে।

চিরিরবন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ছাদে ২৮ প্রজাতির ফলের বাগান
ছাদকৃষি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দোতলার ছাদে টবে গড়ে উঠেছে ২৮ প্রজাতির ফলের গাছের একটি বাগান। উপজেলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত এই অফিসের ছাদে বাগানটি গড়ে তুলেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম.জি.এম সরোয়ার হোসেন। ২০২০ সালের ২১ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিন বাগানটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পত্রিকাটি জানায়, প্রায় দুই বছর আগে শখের বশে তিনি নিজের কর্মস্থলের ছাদে এই ছাদ কৃষির কাজ শুরু করেন, আর সেখানে তখন মাল্টা, কমলা, আম, কামরাঙা, ডালিম, ড্রাগন, লটকনসহ নানা ফলের গাছ শোভা পাচ্ছিল।

প্রতিবেদনে বাগানটিকে দৃষ্টিনন্দন বলে বর্ণনা করা হয়। পত্রিকাটির ভাষ্য ছিল, শহরে বসবাসকারী মানুষ নিজেদের ভবনের ছাদে অল্প জায়গায় ফল ও সবজি উৎপাদন করে প্রতিদিন বিষমুক্ত ফল ও সবজি খেতে পারেন; এতে দেশের উৎপাদন বাড়াতে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজেদের চাহিদাও মেটে। চিরিরবন্দর শিক্ষা অফিসের ছাদের বাগানটি এই ভাবনাকেই উৎসাহিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ছাদে কোন কোন ফলের গাছ


বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিসের ছাদে টবে যেসব গাছ ছিল তার মধ্যে রয়েছে:

  • নাগপুরি কমলা
  • ভুটানি আপেল
  • বারি-১ জাতের মাল্টা
  • আম
  • কামরাঙা
  • আঙুর
  • থাই আমড়া
  • সফেদা
  • কদবেল
  • থাইল্যান্ডের মিষ্টি তেঁতুল
  • বেদানা ও ডালিম
  • চেরি ফল
  • থাই সেভেন পেয়ারা
  • ড্রাগন ফল
  • লটকন
  • আপেল কুল
  • হাইব্রিড নারিকেল
  • নাশপাতি
  • লেবু
  • পুদিনা ও সাদা এলাচ

সব মিলিয়ে ছাদে ২৮ প্রজাতির ফলের গাছ ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মতিউর রহমান নিউটন পত্রিকাটিকে জানান, ছাদের ওপরে সারিবদ্ধভাবে বড় ফুলের টবে মাটি ভরাট করে প্রতিটি টবে একটি করে ফলের গাছ লাগানো হয়েছে।

তালিকায় দেশি ফলের পাশাপাশি এমন কয়েকটি ফলও আছে, যেগুলো বাংলাদেশে সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানি হয় বা দেশে সীমিত পরিসরে চাষ হয়। বাংলাপিডিয়ার ফল বিষয়ক ভুক্তিতে বলা হয়েছে, দেশে সাধারণত আমদানি করা ফলের মধ্যে রয়েছে কমলা, আপেল, ডালিম, আঙুর, খেজুর ও ম্যান্ডারিন। চিরিরবন্দরের ছাদে এসব ফলের কয়েকটির গাছও টবে রাখা হয়েছিল।

দুই বছরে যেভাবে গড়ে উঠল বাগান


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এম.জি.এম সরোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব অর্থায়নে ও নিজের পরিচর্যায় বাগানটি গড়ে তোলেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি উপজেলা কমপ্লেক্সে শিক্ষা অফিসের দ্বিতীয় তলার ছাদে শখের বশে কাজটি শুরু করেন। তিনি পত্রিকাটিকে জানান, শুরুতে মাল্টা, কমলা ও আমের চারা দিয়ে বাগান শুরু করেছিলেন। বছর শেষে বাগান থেকে মিষ্টি ও সুস্বাদু মাল্টা ও আম পেয়েছিলেন।

প্রথম ফলন পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তিনি কামরাঙা, ডালিম, সফেদা, লেবু, জলপাই, পেয়ারা, বরই ও আমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপণ করেন। এভাবে ধাপে ধাপে বাগানে গাছের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বাড়ে। অবসর সময়ে তিনি বাগানে সময় কাটান, আর এ কাজে অফিসের সহকর্মীরা তাঁকে সহযোগিতা করেন বলে সহকারী শিক্ষা অফিসার মতিউর রহমান নিউটন জানান।

বাগানটি একটি সরকারি অফিস ভবনের ছাদে, অর্থাৎ যে জায়গাটি সাধারণত খালি পড়ে থাকে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা ছিল, শহর বা উপজেলা সদরের যে কোনো ভবনের ছাদে এভাবে অল্প জায়গায় ফলের গাছ লাগানো সম্ভব, এবং একজন কর্মকর্তা দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি অবসর সময় দিয়ে তা দুই বছরের মধ্যে ফলনশীল বাগানে পরিণত করেছেন।

কৃষি অফিস যা বলেছে


চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানায়, শহরে বসবাসকারী মানুষ তাদের ভবনের ছাদে স্বল্প পরিসরে ফল ও সবজি উৎপাদন করে প্রতিদিন বিষমুক্ত ফল ও সবজি খেতে পারেন। এতে নিজেদের চাহিদা মেটে, পাশাপাশি উদ্বৃত্ত ফল ও সবজি বিক্রিও করা যায়। কৃষি অফিস আরও জানায়, ছাদ কৃষিতে যে ধরনের সহযোগিতা লাগবে, কৃষি বিভাগ তা দেবে।

উপজেলা কৃষি অফিস কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের দপ্তর। ছাদে বা টবে কোন জাতের গাছ লাগানো যাবে, মাটি কীভাবে তৈরি করতে হবে, কতটুকু সার দিতে হবে বা রোগবালাই দেখা দিলে কী করতে হবে, এসব বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস বা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

চিরিরবন্দর: দিনাজপুরের কৃষিনির্ভর উপজেলা


বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চিরিরবন্দর উপজেলার আয়তন ৩১২.৬৯ বর্গকিলোমিটার। এর অবস্থান ২৫°৩১´ থেকে ২৫°৪৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৪২´ থেকে ৮৮°৫৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। উপজেলাটির উত্তরে খানসামা ও সৈয়দপুর উপজেলা, দক্ষিণে ফুলবাড়ী উপজেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, পূর্বে পার্বতীপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে দিনাজপুর সদর উপজেলা। প্রধান নদী ছোট যমুনা ও আত্রাই। চিরিরবন্দর থানা গঠিত হয় ১৯১৪ সালে, আর থানাটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয় ১৯৮৪ সালে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ২,৯২,৫০০; এর মধ্যে পুরুষ ১,৪৬,৬১৯ এবং মহিলা ১,৪৫,৮৮১। মুসলিম ২,২২,৪০৮, হিন্দু ৬৭,০৩৭, খ্রিস্টান ৭০৬ এবং অন্যান্য ২,৩৪৯ জন। এখানে সাঁওতাল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। উপজেলায় ইউনিয়ন ১২টি, মৌজা ১৪২টি। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৩৫ জন, আর গড় শিক্ষার হার ৫২.৯ শতাংশ। উপজেলায় কলেজ ৯টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭৭টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮৩টি এবং মাদ্রাসা ৩৯টি রয়েছে বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ আছে।

চিরিরবন্দর মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে এখানকার জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, ৭০.৪৩ শতাংশ; এরপর ব্যবসা ১২.৪৭ শতাংশ। কৃষিজমির মালিক পরিবার ৫০.০৪ শতাংশ, ভূমিহীন ৪৯.৯৬ শতাংশ। প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, আখ, আলু, ডাল ও তৈলবীজ; আর প্রধান ফল লিচু, আম, কলা ও কাঁঠাল। আউশ ধান, পান ও তামাক এখানে বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসল। উপজেলায় হাটবাজার ৫৩টি; রানী বন্দর হাট, ভূষিবন্দর হাট, চাম্পাতলী হাট ও চিরিরবন্দর হাট উল্লেখযোগ্য। প্রধান রপ্তানিদ্রব্য ধান, চাল ও তাঁতের কাপড়।

এ উপজেলার ইতিহাসে কৃষকের আন্দোলনও জড়িয়ে আছে। বাংলাপিডিয়া জানায়, ১৯৪৭ সালের ৪ জানুয়ারি তেভাগা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ সৈন্যদের গুলিতে বর্গাদার সমির উদ্দিন ও সাঁওতাল শিবুরাম মাঝি নিহত হন।

চিরিরবন্দর যে জেলার অংশ, সেই দিনাজপুর রংপুর বিভাগের একটি জেলা। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জেলাটির আয়তন ৩,৪৪৪.৩০ বর্গকিলোমিটার, উপজেলা ১৩টি, আর ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ২৯,৯০,১২৮। দিনাজপুর জেলা গঠিত হয় ১৭৮৬ সালে, এর পূর্বনাম ছিল ঘোড়াঘাট জেলা। জেলার প্রধান নদী যমুনা, তুলসীগঙ্গা, পুনর্ভবা ও আত্রাই, আর জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, ৬৩.৯০ শতাংশ। ফলের ক্ষেত্রে দিনাজপুরের পরিচিতি লিচুর জন্য: বাংলাপিডিয়ার ফল বিষয়ক ভুক্তিতে বলা হয়েছে, লিচু দেশের প্রায় সর্বত্র জন্মালেও উন্নতমানের ফল উৎপন্ন হয় দিনাজপুর, রাজশাহী, যশোর ও খুলনা অঞ্চলে।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর রেলস্টেশন, ২০১৫ সালের অক্টোবরে তোলা। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর রেলস্টেশন, ২০১৫ সালের অক্টোবরে তোলা। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভূমিকা


বাগানটি যে দপ্তরের ছাদে, সেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও তদারকির দায়িত্বে থাকে। বাংলাপিডিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক ভুক্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৮৩ সালে মহকুমা বিলোপ করে থানাকে উপজেলা পর্যায়ে উন্নীত করার পর প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপজেলা পর্যায়ে ন্যস্ত করা হয়। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে (১৯৮০ থেকে ১৯৮৫) একটি স্বতন্ত্র প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

একই ভুক্তি অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে জাতীয় সংসদ প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক আইন পাস করে, আর ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশের ৬৮টি থানায় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয়। ১৯৯২ সালের আগস্টে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ গঠিত হয়। চিরিরবন্দরের মতো একটি উপজেলায় এই অফিসই উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগের কেন্দ্র; ফলে অফিসের ছাদে ফলের বাগান বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অফিসে আসা মানুষদের চোখে পড়ার মতো একটি দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

বাগানের কয়েকটি ফলের পরিচয়


বারি মাল্টা-১


বাগানের শুরুর গাছগুলোর একটি ছিল বারি-১ জাতের মাল্টা। দ্য ডেইলি স্টারের ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সিলেটের জৈন্তাপুরে অবস্থিত সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে বহু বছরের গবেষণার পর ২০০৫ সালে জাতটি উদ্ভাবিত হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জাতীয় বীজ বোর্ড কৃষকদের মধ্যে এর চারা বিতরণের অনুমোদন দেয়। কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. খলিলুর রহমান ভূঁইয়া তখন জানান, ওই প্রতিবেদনের আগের বছর প্রথমবারের মতো সিলেট ও মৌলভীবাজারে ১,০০০টি চারা বিতরণ করা হয়েছিল, আর ২০০৯ সালে চাষিদের ২,০০০টি চারা সরবরাহ করা হয়।

ওই বিজ্ঞানীর ভাষ্যে, কেন্দ্রে উৎপাদিত মাল্টা খুব মিষ্টি, এর উজ্জ্বল হলুদ রং ও আকার আকর্ষণীয়, আর প্রতিটি ফলের ওজন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। গড়ে একটি গাছে প্রায় একশটি ফল ধরে। সে সময় গাজীপুর, খাগড়াছড়ি ও পঞ্চগড়েও জাতটির চাষ হচ্ছিল। মাঠে চারা রোপণের জন্য তিনি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে এক মিটার গর্ত তৈরির কথা বলেন; চারা রোপণের অন্তত ১৫ দিন আগে গর্তে প্রায় ১৫ কেজি গোবর ও ২০০ গ্রাম টিএসপি সার দিতে হয়, আর চারা রোপণের সবচেয়ে উপযোগী সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট। এই মাত্রা মাঠের গর্তের জন্য; টবে বা ছাদে লাগালে মাত্রা ঠিক করতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের গাছে বারি মাল্টা-১, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের গাছে বারি মাল্টা-১, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কমলা


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কমলা লেবুজাতীয় ফল, Rutaceae গোত্রের Citrus গণভুক্ত। এর আদি জন্মস্থান সম্ভবত চীন, যেখানে প্রায় চার হাজার বছর আগে কমলার চাষ শুরু হয়। বাংলাদেশে সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রংপুর ও পঞ্চগড় জেলায় সীমিত পরিমাণে কমলার চাষ হয়; ২০০৫-০৬ সালে দেশে ১,০০০ মেট্রিক টন কমলা উৎপাদিত হয়। কমলার চাষ মূলত অঙ্গজ কলম ও কুঁড়ি সংযোজনের মাধ্যমে হয়, আর চারা লাগানোর চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ফলন শুরু হয়। বারি উদ্ভাবিত বারি কমলালেবু-১ জাতের পূর্ণবয়স্ক গাছ ৩০০ থেকে ৪০০টি ফল দিতে পারে, প্রতিটি ফলের গড় ওজন ১৯০ গ্রাম।

কামরাঙা


কামরাঙা টক-মিষ্টি স্বাদের ফল, বৈজ্ঞানিক নাম Averrhoa carambola। বাংলাপিডিয়া জানায়, কামরাঙা সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (মালয় উপদ্বীপ থেকে ইন্দোনেশিয়া) উৎপন্ন। বাংলাদেশে বেশির ভাগ কামরাঙা বরিশাল বিভাগে ফলে, তবে অন্যান্য এলাকায়ও এর চাষ বাড়ছে। গাছ মাঝারি আকারের, প্রায় ১২ মিটার উঁচু ও চিরসবুজ; চারা লাগানোর তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ফলন শুরু হয়। ফলে পাঁচটি লম্বা শিরা থাকে এবং আড়াআড়ি কাটলে তারার মতো দেখায়, তাই ইংরেজিতে একে স্টারফ্রুট বলে। ফলটিতে নানা খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। দেশে দুই ধরনের কামরাঙা দেখা যায়: একটি টক, যাতে অক্সালিক এসিড বেশি থাকায় কাঁচা খাওয়ার উপযোগী নয় তবে জ্যাম, জেলি, আচার ও শরবত তৈরি হয়; অন্যটি মিষ্টি বা টক-মিষ্টি, যা তাজা খাওয়া যায়।

পাকা কামরাঙা: পাশ থেকে, ওপর থেকে এবং আড়াআড়ি কাটা অবস্থায় তারার মতো আকার। ছবি: SMasters / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
পাকা কামরাঙা: পাশ থেকে, ওপর থেকে এবং আড়াআড়ি কাটা অবস্থায় তারার মতো আকার। ছবি: SMasters / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

পেয়ারা ও কুল


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পেয়ারার আদি জন্মস্থান আমেরিকার নিরক্ষীয় অঞ্চল। গাছের জন্য সর্বোত্তম তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে পরিণত গাছ ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও বেঁচে থাকতে পারে। পেয়ারা ভিটামিন সি ও পেকটিনের অন্যতম উৎস; প্রতি ১০০ গ্রামে ২৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। আশির দশকে থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি জাত দেশে কাজী পেয়ারা নামে পরিচিতি পায়, যার গড় ওজন প্রায় ৫০০ গ্রাম। বীজ থেকে জন্মানো গাছে মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে না এবং ফল ধরতে দেরি হয়; গুটিকলম, জোড়কলম ও কুঁড়ি সংযোজনের মাধ্যমে সহজেই পেয়ারার বংশবিস্তার করা যায়।

কুল বা বরইয়ের বেলায় বাংলাপিডিয়া বলছে, বাংলাদেশে যে কুলের চাষ হয় তা Zizyphus mauritiana প্রজাতির। নামকরা জাতের মধ্যে রয়েছে বাউ কুল-১ ও ২, বারি কুল-১, ২ ও ৩, আর স্থানীয় জাতের মধ্যে আপেল কুল ও নারিকেলী কুল। আপেল কুল দেখতে আপেলের মতো, খেতে মচমচে ও কষহীন, প্রচুর ফলনশীল ও দ্রুতবর্ধনশীল, আর বোঁটা শক্ত বলে সহজে ঝরে পড়ে না। কুলগাছ খরা সহ্য করতে পারে এবং যে কোনো ধরনের মাটিতে চাষ করা যায়।

লেবু, জলপাই ও অন্যান্য


বাংলাপিডিয়ার তথ্যে, লেবু দেশের সর্বত্র জন্মালেও বাণিজ্যিক উৎপাদন সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ; প্রধানত জোড়কলম ও কলম থেকে বসতবাড়ির আশেপাশে বা বাগানে এর চাষ হয়। বারি উদ্ভাবিত বারি লেবু-১ জাতের ফল বড়, ওজন প্রায় ২৬০ গ্রাম, আর গাছপ্রতি বছরে ৬২ থেকে ১০০টি ফল হয়। বাংলাদেশের জলপাই (Elaeocarpus floribundus) টক ফলের জন্য সমাদৃত, এর আচার সুস্বাদু; এটি ভূমধ্যসাগরীয় তেলের জলপাই থেকে আলাদা গাছ।

সফেদা আমেরিকার উষ্ণমণ্ডল থেকে আসা ফল, বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চলে এর ব্যাপক চাষ হয়, আর পেঁপে, নারিকেল ও কলার মতো সফেদাও সারা বছর পাওয়া যায়। লটকন দেশে বন্য ও চাষকৃত উভয় অবস্থায় পাওয়া অপ্রধান ফলের একটি; ইংরেজিতে বার্মিজ গ্রেপ নামে পরিচিত এই গাছ (Baccaurea ramiflora) চিরসবুজ। ড্রাগন ফল ক্যাকটাস গোত্রের Selenicereus গণের কয়েকটি প্রজাতির ফল, যার আদি নিবাস দক্ষিণ মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল। কদবেল বা কতবেল (Feronia limonia) এবং আমড়াও দেশের অপ্রধান ফলের তালিকায় রয়েছে।

দেশে ফলের উৎপাদন ও পুষ্টির চাহিদা


বাংলাপিডিয়ার ফল বিষয়ক ভুক্তিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০০৭ থেকে কয়েকটি প্রধান ফলের চাষের এলাকা ও উৎপাদন দেওয়া আছে। সেই হিসাবে আমের চাষ হতো ২৫ হাজার হেক্টরে, উৎপাদন ৬ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন; কলার ৫৪ হাজার হেক্টরে, উৎপাদন ৮ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন; পেয়ারার ৬ হাজার হেক্টরে, উৎপাদন ১ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন; লিচুর ২ হাজার হেক্টরে, উৎপাদন ৪৪ হাজার মেট্রিক টন; কুলের ৪ হাজার হেক্টরে, উৎপাদন ১৫ হাজার মেট্রিক টন; আর লেবু ও কাগজিলেবুর ২ হাজার হেক্টরে, উৎপাদন ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। কমলার চাষ হতো মাত্র অর্ধ হাজার হেক্টরে, উৎপাদন ১ হাজার মেট্রিক টন।

একই ভুক্তিতে বলা হয়েছে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য দৈনিক মাথাপিছু অন্তত ৮৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন, অথচ দেশে দৈনিক গড় প্রাপ্যতা মাত্র ৩৫ গ্রাম, এবং এর বণ্টনও সুষম নয়। দেশের ফল উৎপাদন মৌসুমভিত্তিক: বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে মোট ফল উৎপাদনের শতকরা ৫৪ ভাগ উৎপাদিত ও বাজারজাত হয়, বাকি ৪৬ ভাগ হয় বছরের অবশিষ্ট আট মাসে। বছরের অন্য সময়ের ফলের মধ্যে রয়েছে কুল, আমড়া, আমলকী, বেল, সফেদা, জলপাই, ডালিম ও কামরাঙা। বাংলাপিডিয়ার মতে, মিশ্র ফল বাগান করে সারা বছর ফলজ পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। চিরিরবন্দরের ছাদের বাগানে ঠিক এ রকম বিভিন্ন মৌসুমের ফলের গাছ একসঙ্গে রাখা হয়েছিল।

বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, ফল উৎপাদন বাড়ানোর একটি প্রধান সমস্যা মাঠপর্যায়ে উন্নত জাতের অভাব। বারি থেকে ৪০টি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯টি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২টি উন্নত জাতের ফল উদ্ভাবিত হলেও এগুলোর অধিকাংশ কৃষক পর্যায়ে তেমন ছড়ায়নি। অনেক ফলগাছের অঙ্গজ প্রজনন সম্ভব, আর এভাবে বংশবিস্তার করলে মাতৃগাছের গুণাবলি অপরিবর্তিত থাকে; তাই চাষিদের অঙ্গজ কলম সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ছাদে টবের বাগানেও সাধারণত নার্সারির কলমের চারাই ব্যবহার করা হয়। বাংলাপিডিয়ার নার্সারি বিষয়ক ভুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ দেশের বিভিন্ন স্থানে নার্সারি প্রতিষ্ঠা করেছে, আর আম, সফেদা, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, নারিকেল, কুল ও আমড়া নার্সারির প্রধান ফলগাছ।

ছাদ কৃষি নিয়ে গবেষণা ও জাতীয় কৃষিনীতি


ছাদে বাগান করা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়, তবে অন্তত ২০০৪ সাল থেকে গবেষকেরা এ নিয়ে লিখছেন। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক উদ্যানতত্ত্ব বিজ্ঞান সমিতির (আইএসএইচএস) সাময়িকী অ্যাক্টা হর্টিকালচারিতে প্রকাশিত কে.এম. শরিফুল ইসলামের এক গবেষণায় ঢাকাকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে ছাদ বাগানকে নগর কৃষির কৌশল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটিতে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশের শহরগুলোতে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, নিম্ন আয়ের ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে; নগর কৃষি খাদ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে এবং শহরের ক্রেতার কাছে পৌঁছানো পচনশীল খাদ্যের মান উন্নত করে খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখে। গবেষকের পর্যবেক্ষণ ছিল, ঢাকায় বহু বছর ধরে নানা রূপে ছাদ বাগান চর্চা হলেও একে নগর কৃষির সঙ্গে যুক্ত করতে সরকার, কমিউনিটি সংগঠন বা নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছিল না বললেই চলে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জার্নাল অব আরবান ম্যানেজমেন্টে প্রকাশিত মাস্তুরা সাফায়েত, মো. ফকরুল আরেফিন ও মো. মুসলেহ উদ্দিন হাসানের এক গবেষণায় ঢাকার মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাদ কৃষির চর্চা ও চ্যালেঞ্জ খতিয়ে দেখা হয়। গবেষকেরা দুজন ছাদ কৃষকের সাক্ষাৎকার নেন এবং ছাদ কৃষি করেন না এমন ৬০ জনের ওপর জরিপ চালান। ফলাফলে দেখা যায়, ছাদ কৃষি বায়ুর মান উন্নত করে ও বায়ুমণ্ডলে কার্বন কমিয়ে পরিবেশের উপকার করতে পারে, আর বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার খরচ কমিয়ে সমাজেরও উপকার করতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মানুষ ছাদ কৃষি করতে আগ্রহী ছিলেন এবং ছাদের অন্তত ৫০ শতাংশ জায়গা এ কাজে দিতে রাজি ছিলেন।

সরকারি নীতিতেও ছাদ কৃষি জায়গা পেয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮-এর বিশেষায়িত কৃষি অধ্যায়ে প্রথম বিষয়টিই ছাদ কৃষি। নীতিতে ছাদ কৃষি বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দেওয়া, সরকারি ও বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে ছাদ কৃষির প্রযুক্তি ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং ছাদ কৃষিকে মূলধারার কৃষির অন্তর্ভুক্ত করে বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। একই নীতির গবেষণা অংশে বসতবাড়ি ও ছাদের মতো কৃষি-সংশ্লিষ্ট জায়গায় উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণার কথাও রয়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিস ছাদ কৃষিতে সহযোগিতার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা এই নীতির সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ।

ছবি: Wiki Ruhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি), দ্য ডেইলি স্টার, অ্যাক্টা হর্টিকালচারি (আইএসএইচএস), জার্নাল অব আরবান ম্যানেজমেন্ট, জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮ (কৃষি মন্ত্রণালয়)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ছাদকৃষি

সম্পর্কিত খবর

ছাদকৃষি

ইউটিউব দেখে ছাদে আর আঙিনায় ড্রাগন, বছরে লাখ টাকা লাভ মতলবের বিদেশফেরত হানিফের

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে বাড়ির ১,৪০০ বর্গফুট ছাদে ও সাড়ে ৬ শতক আঙিনায় ২০২৪ সালে ড্রাগন লাগিয়েছিলেন ৬২ বছরের আবু হানিফ; এখন বছরে লাখ টাকার বেশি লাভ করছেন, এবার ইজারা নিয়েছেন আরও ৬০ শতক জমি।

প্রথম আলো১২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ছাদকৃষি

ছাদের জলাধারে দুই হাজার ঝিনুকে মুক্তা চাষ, অভয়নগরের কলেজছাত্রের উদ্যোগ

যশোরের অভয়নগরের কলেজছাত্র আব্দুর রহমান ২০২১ সালে ফেসবুক দেখে মুক্তা চাষ শুরু করেন; এখন ছাদের কৃত্রিম জলাধারে দুই হাজার আর বোনের বাড়ির পুকুরে সাড়ে তিন হাজার ঝিনুক আছে তাঁর।

কৃষি সময়১২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ছাদকৃষি

প্রবাস থেকে ফিরে মুন্সিগঞ্জে ছাদকৃষি গড়লেন এক উদ্যোক্তা

প্রবাসজীবন শেষ করে দেশে ফিরে মুন্সিগঞ্জের এক উদ্যোক্তা নিজের ভবনের ছাদে গড়ে তুলেছেন ফল-ফসলের বাগান; তাঁকে নিয়ে শাইখ সিরাজের ভিডিও প্রতিবেদন।

শাইখ সিরাজ৯ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও

মন্তব্য

(০)