চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নে ডোমখালী বেড়িবাঁধের পাশে গড়ে ওঠা আরবিসি এগ্রো টুরিজম লিমিটেডের খামারের যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র পাঁচটি গরু দিয়ে। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই জানায়, খামারটিতে তখন তিন শতাধিক গরু ছিল; ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলিয়ে পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। সেবারের ঈদুল আজহায় খামারটি থেকে দুই শতাধিক গরু-মহিষ বিক্রি হয়।
মিরসরাই চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা; এর দক্ষিণ সীমা বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল। উপজেলার আয়তন ৪৮২ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১৬টি, সাহেরখালী তার একটি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী এখানে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৯৪ জন মানুষের বাস।
পাঁচটি গরু থেকে প্রায় ৫০০ পশু
খামারের স্বত্বাধিকারী ওই এলাকার বাসিন্দা শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০১২ সালে ৫টি গরু নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করেছি। এরপর ধীরে ধীরে পরিধি বাড়াতে থাকি। গরুর পাশাপাশি ছাগল, মহিষ, ভেড়া পালন শুরু করেছি।’ গরুর সংখ্যা ধাপে ধাপে ১০টি, ২৫টি করে বেড়ে তিন শতাধিকে পৌঁছায়।
প্রায় ২২ একর জায়গা নিয়ে খামারটি। গরু ও মহিষের পাশাপাশি এখানে ভেড়া, ছাগল, হাঁস, মুরগি ও কবুতর পালন করা হয়, মাছ চাষের জন্য আছে পুকুর। মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন লোক খামারে কাজ করেন। সেবারের ঈদুল আজহায় গরুর পাশাপাশি ২৫টি মহিষও বিক্রি হয়।
খামারের ম্যানেজার রাশেদ নুর জাগো নিউজকে জানান, খামারে শাহীওয়াল, জার্সি, ভুট্টি ও হাঁসা জাতের গরু রয়েছে। এর মধ্যে শাহীওয়াল ভারতীয় উপমহাদেশের একটি দেশি জেবু জাতের গরু, নাম এসেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সাহিওয়াল জেলা থেকে। দুধ, মাংস ও হালচাষ তিন কাজেই এ জাতের গরু পালন করা হয়; এটি গরম সহ্য করতে পারে, গায়ের রং লালচে বাদামি। ফ্রিজিয়ান ও জার্সির মতো ইউরোপীয় দুগ্ধ জাতের সঙ্গে সংকরায়ণে শাহীওয়াল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

নিজের জমির ঘাস আর খড়েই পশুর খাবার
গরু, মহিষসহ খামারের পশুদের জন্য নিজের জমিতে নেপিয়ার ঘাস ও ভুট্টা চাষ করা হয়। সঙ্গে প্রায় ৩ একর জমিতে চাষ করা ধানের খড়ও খাওয়ানো হয়। শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নিজের জমিতে উৎপাদিত খাবার খাওয়ানো হয় পশুগুলোকে। বাইরের কোনো খাবার প্রয়োজন হয় না।’
নেপিয়ার ঘাস, যার আরেক নাম হাতি ঘাস (বৈজ্ঞানিক নাম Cenchrus purpureus), আফ্রিকার উষ্ণমণ্ডলের বহুবর্ষজীবী ঘাস। পশুখাদ্যের তথ্যভান্ডার ফিডিপিডিয়ার বর্ণনায় এটি উষ্ণমণ্ডলের সবচেয়ে বেশি ফলনের পশুখাদ্য ঘাসগুলোর একটি; কেটে এনে গোয়ালে খাওয়ানোর পদ্ধতিতে ছোট ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের খামারেই এর ব্যাপক ব্যবহার। গাছ ৪ থেকে ৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং সাধারণত কাণ্ডের কাটিং দিয়ে লাগানো হয়।

জাগো নিউজের প্রতিবেদক সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখেন, একাধিক কর্মচারী গরুর পরিচর্যা করছেন। ছোট গরুগুলো একসঙ্গে রাখা হলেও বড় গরুগুলো আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়, মহিষ রাখা হয় আলাদা জায়গায়। কেউ গরুকে গোসল করাচ্ছিলেন, কেউ খাবার দিচ্ছিলেন, কেউ ময়লা পরিষ্কার করছিলেন।

উপজেলার বড় খামারগুলোর একটি
মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শুভ সূত্রধর জাগো নিউজকে বলেন, ‘মিরসরাই উপজেলায় ছোট বড় অনেক খামারি রয়েছে। তার মধ্যে আরবিসি এগ্রো খামার অন্যতম। স্বল্প সংখ্যক গরু দিয়ে শুরু করলেও এখন এটি উপজেলার অন্যতম একটি বড় খামারে পরিণত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে বিভিন্ন সময় তাদের সহযোগিতা করা হয়।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে দেশে গরু ছিল ২৫১ দশমিক ৭১ লাখ, ছাগল ২৭২ দশমিক ৯১ লাখ, ভেড়া ৩৯ দশমিক ৮১ লাখ এবং মহিষ ১৫ দশমিক ৩২ লাখ। একই অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ছিল ১৫৫ দশমিক ৩৮ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে চাহিদা ছিল ১৬২ দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। সাময়িক হিসাবে স্থির মূল্যে দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, আর কৃষি জিডিপিতে ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস), ফিডিপিডিয়া (ইনরায়ে, সিরাদ, এএফজেড ও এফএও), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)