সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঝিনাইদহে অ্যাভোকাডো, লংগান ও আঙুরের পরীক্ষামূলক চাষে ভালো ফলন, আগ্রহী কৃষকেরা

ঝিনাইদহের কয়েকটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো অ্যাভোকাডো, লংগান ও আঙুরে ভালো ফলন পেয়ে কৃষকেরা বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকছিলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেলায় ২.২৫ হেক্টরে আঙুর, ২ হেক্টরে অ্যাভোকাডো ও ১ হেক্টরে রাম্বুটান চাষ হয়।

ঝিনাইদহে অ্যাভোকাডো, লংগান ও আঙুরের পরীক্ষামূলক চাষে ভালো ফলন, আগ্রহী কৃষকেরা
ফল

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহের কৃষকেরা অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, লংগান ও আঙুরের মতো বিদেশি ফল চাষ করছিলেন, যেসব ফল সাধারণত আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁদের কয়েকজন জানান, পরীক্ষামূলক এই আবাদ থেকে এখন বিক্রির মতো ফলন আসছে। জাগো নিউজ ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি ২০২৫ সালের ৪ জুলাই জানান, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ফল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য শহরে বিক্রি হচ্ছে, আর পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা কৃষকেরা বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় আঙুরের চাষ চোখে পড়ার মতো হয়েছিল। শখের বশে আঙুর লাগিয়ে ভালো ফলন পাওয়ার পর কৃষকেরা বাণিজ্যিক আবাদের কথা ভাবছিলেন, আর কেউ কেউ পতিত জমিতেও আঙুর ও অ্যাভোকাডোর বাম্পার ফলন পেয়েছিলেন। চাষিরা জানান, এসব বিদেশি ফল তাঁরা পরীক্ষামূলকভাবে লাগিয়েছিলেন; গাছে ভালো ফল আসায় সেই পরীক্ষা জেলার জন্য নতুন সম্ভাবনা হয়ে দেখা দেয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) জেলা কার্যালয় ২০২৪-২৫ মৌসুমের জমির হিসাব দেয়: রাম্বুটান ১ হেক্টর, অ্যাভোকাডো ২ হেক্টর এবং আঙুর ২ দশমিক ২৫ হেক্টর, যার সবটাই পরীক্ষামূলক চাষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ঝিনাইদহে ডিএইর উপপরিচালক বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলার মাটির একটি বিশেষ গুণ আছে এবং পরীক্ষামূলক আবাদ বাণিজ্যিক আবাদে রূপ নিচ্ছে।

কালীগঞ্জে অ্যাভোকাডো: প্রথম ফলনে লেগেছে পাঁচ বছর


প্রতিবেদনের প্রথম উদাহরণ কালীগঞ্জ উপজেলার চাচড়া গ্রামের। সেখানে কৃষি উদ্যোক্তা শাহিনুর রহমান ৩ বিঘা জমিতে অ্যাভোকাডো লাগিয়েছিলেন। চারা রোপণের প্রায় পাঁচ বছর পর তাঁর গাছে গাছে থোকায় থোকায় অ্যাভোকাডো ঝুলছিল।

শাহিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, '২০১৯ সালে থাইল্যান্ড থেকে একজন কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে অ্যাভোকাডোর চারা নিয়ে আসি। এরপর সেটি বাগানে রোপণ করি। প্রথমদিকে মানুষ আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। কিন্তু ৫ বছর পর আমার গাছে প্রথম ফল আসে। প্রথম বছর ফলের উৎপাদন কম ছিল। এ বছর দারুণ ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে প্রচুর অ্যাভোকাডো ধরেছে।'

ফলটির দুই রকম বাজারের কথা বলেন তিনি: 'স্থানীয় বাজারে অ্যাভোকাডোর চাহিদা বেশি না হলেও ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরের রেস্তোরাঁগুলোতে অ্যাভোকাডোর চাহিদা ব্যাপক। স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হয়। তবে ঢাকা-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে ঝিনাইদহের অ্যাভোকাডো কেজিপ্রতি গড়ে ৮০০ টাকা বিক্রি করা যায়।'

প্রথম ফলনের জন্য কয়েক বছর অপেক্ষা এই গাছের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক। উদ্যানতত্ত্ববিদ জুলিয়া এফ. মর্টন তাঁর আকরগ্রন্থ 'ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস'-এ (১৯৮৭) লিখেছেন, বীজের চারা থেকে অ্যাভোকাডো গাছে ফল আসতে চার-পাঁচ বছর লাগে এবং একটি গাছ ৫০ বছর বা তারও বেশি সময় ফল দিতে পারে। তাঁর ভাষ্যে, তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া এবং ভালো জাতের গুণ অটুট রাখার জন্য অঙ্গজ বংশবিস্তার, অর্থাৎ কলমের চারা অপরিহার্য।

অ্যাভোকাডো কী, পরাগায়ন কেন জরুরি


অ্যাভোকাডো (Persea americana) লরেল পরিবারের একটি চিরসবুজ গাছ। মর্টনের বর্ণনায়, ফলটির উৎপত্তি সম্ভবত দক্ষিণ মেক্সিকোতে; ইউরোপীয়দের আগমনের অনেক আগেই রিও গ্র্যান্ডে থেকে মধ্য পেরু পর্যন্ত এর চাষ হতো। ষোড়শ শতকের শেষ দিকে এটি ফিলিপাইনে এবং ১৮৯২ সালে ভারতে পৌঁছায়, যেখানে বিশেষ করে মাদ্রাজ ও ব্যাঙ্গালোরের আশপাশে এর চাষ হয়। ফলটি একটি বড় বীজওয়ালা বেরি জাতীয় ফল। গাছে ঝুলে থাকা অবস্থায় এটি পাকে না; পূর্ণবয়স্ক ও শক্ত অবস্থায় পাড়া হলে ঘরের তাপমাত্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহে পাকে।

মর্টন লিখেছেন, মাটির ব্যাপারে অ্যাভোকাডো গাছ বেশ সহনশীল; লাল এঁটেল মাটি, বেলে মাটি, ল্যাটেরাইট বা চুনাপাথরের মাটিতেও এটি জন্মায়, তবে সাধারণভাবে মাটির পিএইচ ৬ থেকে ৭ উপযোগী ধরা হয়। এর একটিই কড়া শর্ত: পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা। মাটিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, এমনকি সাময়িক জলাবদ্ধতাও গাছটি সহ্য করতে পারে না, আর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মাটির উপরিভাগ থেকে অন্তত ৩ ফুট (০.৯ মিটার) নিচে থাকা দরকার। জোরালো বাতাস ফুল শুকিয়ে দেয়, পরাগায়নে বাধা দেয় এবং ফল ঝরিয়ে দেয়; তাই খোলা জায়গায় বাতাস আটকানোর গাছের সারি লাগে।

অ্যাভোকাডোর সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা পরাগায়ন। মর্টন লিখেছেন, একা দাঁড়িয়ে থাকা অনেক গাছ পরাগায়নের অভাবে ফল দেয় না; তাই বাণিজ্যিক চাষিরা এমন জাত পাশাপাশি লাগান, যেগুলোর ফুল দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরাগ নেয় ও ছাড়ে, যাতে প্রতিটি গাছ উপযুক্ত সঙ্গী পায়। বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারাও একই পরামর্শ দিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে ডিএইর চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক বলেন, অ্যাভোকাডোর চারা চার থেকে ছয়টি করে একসঙ্গে লাগাতে হয়, না হলে পরাগায়নের সমস্যায় ফলন ভালো হয় না; বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে হলে একই জমিতে আটটির বেশি গাছ লাগানো ভালো।

২০১৮ সালের ওই প্রতিবেদনে দেশের প্রথম দিকের এক বাণিজ্যিক অ্যাভোকাডো চাষির কথাও ছিল। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুজরুক শোরকা গ্রামের এই কৃষক ২০০০ সালে কলম করা দুটি চারা লাগান এবং ২০০৬ সালে প্রথম ফল পান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই কর্মকর্তা জানান, আগের কয়েক বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ায় কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে অ্যাভোকাডো চাষ শুরু করেছেন। তিনি আরও জানান, ডিএইর 'বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরের নূরবাগ মডেল হর্টিকালচার সেন্টারে প্রায় ৫০০টি অ্যাভোকাডোর চারা উৎপাদন করা হচ্ছে, যা জেলা হর্টিকালচার সেন্টারগুলোর মাধ্যমে বিতরণের কথা।

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সেরদাংয়ে ফলসহ একটি রাম্বুটান গাছ (Nephelium lappaceum); এই অঞ্চলই ফলটির আদি আবাস। ছবি: Michael Hermann, CropsfortheFuture.org / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সেরদাংয়ে ফলসহ একটি রাম্বুটান গাছ (Nephelium lappaceum); এই অঞ্চলই ফলটির আদি আবাস। ছবি: Michael Hermann, CropsfortheFuture.org / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

লংগান বা কাঠলিচু, আর রাম্বুটানের পরিকল্পনা


কালীগঞ্জ উপজেলারই কৃষি উদ্যোক্তা ও স্কুলশিক্ষক হাফিজুর রহমান লাগিয়েছিলেন লংগান, স্থানীয়ভাবে যা কাঠলিচু নামে পরিচিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে মৌসুমে লংগান বিক্রি করে তিনি বেশ আয় করেন। হাফিজুর রহমান বলেন, 'লংগান বিদেশি ফল। এটি চাষে তেমন খরচ নেই। পরিচর্যা করলেই হয়। রাসায়নিক কিংবা কীটনাশকের ব্যবহার বেশি লাগে না। আগামীতে রাম্বুটানসহ আরও কয়েকটি বিদেশি ফল চাষের পরিকল্পনা নিয়েছি।'

লংগান (Dimocarpus longan) লিচু ও রাম্বুটানের মতোই সেপিনডেসি পরিবারের গাছ। মর্টন একে দক্ষিণ চীনের আদি গাছ বলে উল্লেখ করেছেন; সেই সঙ্গে ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছেন, উজান আসাম ও গারো পাহাড়ের বনেও এটি জন্মায় এবং বাংলায় শোভাবর্ধক ও ছায়াদানকারী গাছ হিসেবে এর চাষ হয়। ফলগুলো ঝুলন্ত থোকায় ধরে; গোলাকার, প্রায় ১.২৫ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার চওড়া, খোসা পাতলা ও হলদে-বাদামি, শাঁস স্বচ্ছ সাদা আর বীজ চকচকে কালো, তাতে একটি সাদা দাগ থাকে। এ কারণেই ইংরেজিতে একে 'ড্রাগনের চোখ' বলা হয়। মর্টনের বর্ণনায়, উর্বর বেলে দোআঁশ মাটিতে গাছটি সবচেয়ে ভালো হয়, পর্যাপ্ত পানি লাগে, অল্প সময়ের জলাবদ্ধতা সইতে পারে কিন্তু দীর্ঘ খরা নয়, আর সাধারণত লিচুর পরে ফল দেয়। লংগান বেশির ভাগ তাজা খাওয়া হয়; মর্টন লিখেছেন, চীনে উৎপাদনের বড় অংশ চিনির সিরায় টিনজাত করা হয় বা শুকানো হয়, আর শুকনো শাঁস দিয়ে একধরনের সতেজকারী পানীয় তৈরি হয়।

বাংলাদেশে ফলটি নিয়ে বহু বছর ধরে গবেষণা হয়েছে, এখানে এর আরেক নাম আঁশফল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চে লংগানের ১৫টি সম্ভাবনাময় লাইনের ওপর একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। গাজীপুরের জয়দেবপুরে বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল গবেষণা খামারে থাকা ১২ বছর বয়সী এসব গাছের মধ্যে ছিল অবমুক্ত দুটি জাত, বারি আঁশফল-১ ও বারি আঁশফল-২। সেরা লাইনে ফলের খাওয়ার উপযোগী অংশ ছিল ৭৬.৫৭ শতাংশ পর্যন্ত, বারি আঁশফল-১-এ ভিটামিন সি ছিল সবচেয়ে বেশি (প্রতি ১০০ গ্রামে ১৩.০০ মিলিগ্রাম), আর ফলের মানের দিক থেকে গবেষকেরা বারি আঁশফল-১, বারি আঁশফল-২ এবং আরও চারটি লাইনকে সেরা বলে উল্লেখ করেন।

ভিয়েতনামের ভিন লং প্রদেশের ত্রা ওনে একটি বাগানের লংগান গাছ; লংগান উৎপাদনে ভিয়েতনাম অন্যতম প্রধান দেশ। ছবি: Bùi Thụy Đào Nguyên / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ভিয়েতনামের ভিন লং প্রদেশের ত্রা ওনে একটি বাগানের লংগান গাছ; লংগান উৎপাদনে ভিয়েতনাম অন্যতম প্রধান দেশ। ছবি: Bùi Thụy Đào Nguyên / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

রাম্বুটান: আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলের ফল


হাফিজুর রহমান পরের ধাপে যে রাম্বুটান চাষের পরিকল্পনা করছিলেন, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরের কৃষকেরা তা আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছিলেন। এটিও লিচুর আত্মীয়। মালয় ভাষার 'রাম্বুত' শব্দের অর্থ চুল; ফলের লাল বা হলুদ খোসা নরম কাঁটার মতো চুলে ঢাকা থাকে বলে এই নাম। মর্টনের বর্ণনায়, এর আদি আবাস মালয়েশিয়া ও আশপাশের দ্বীপপুঞ্জ, আর গাছ ১৫ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়।

মর্টন লিখেছেন, রাম্বুটান আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছ, যেখানে বৃষ্টি সারা বছর ছড়িয়ে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুম তিন মাসের বেশি দীর্ঘ হয় না। জৈব পদার্থে সমৃদ্ধ গভীর এঁটেল দোআঁশ বা উর্বর বেলে দোআঁশ মাটি এবং ভালো নিষ্কাশন এর জন্য সবচেয়ে ভালো; ফুল ও ফল ধরার সময় জোরালো বাতাস থেকে আড়াল দরকার। বীজের চারায় ফল আসতে পাঁচ-ছয় বছর লাগে, আর এসব চারার অনেকগুলোই ফলহীন পুরুষ গাছ হয়; এ কারণে চাষিরা বীজ নয়, কলম বা চোখ কলমের মাধ্যমে রাম্বুটানের বংশবিস্তার করেন। পাড়া ফল দ্রুত নষ্ট হয়: মর্টনের হিসাবে প্রায় তিন দিনের মধ্যে বাজারে না পৌঁছালে ফল কুঁচকে যেতে শুরু করে। তিনি লিখেছেন, মালয় অঞ্চলে গাছটি সাধারণত বছরে দুবার ফল দেয়, প্রধান ফলন জুনে আর ছোট একটি ফলন ডিসেম্বরে; ফিলিপাইনে ফল পাকে জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে।

বাংলাদেশে রাম্বুটান নিয়ে পরীক্ষা চলছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে। দ্য ডেইলি স্টার ২০১৩ সালের ৭ মে জানায়, ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) জার্মপ্লাজম সেন্টার আগের কয়েক বছরে কৃষকদের জন্য চারটি বিদেশি ফলের জাত অবমুক্ত করেছে, যার একটি ইন্দোনেশিয়ার রাম্বুটান। কেন্দ্রের পরিচালক জানান, ১৯৯৯ সালে জাতগুলো সংগ্রহ করা হয়, ২০০৭ সাল থেকে চারা উৎপাদন শুরু হয় এবং উৎপাদিত ১০ হাজার চারার বেশির ভাগ কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্যে, এসব ফল মে থেকে নভেম্বরের মধ্যে পাকে, যখন বাজারে দেশি ফল কম থাকে।

তিন উপজেলায় ছড়াচ্ছে আঙুর


ঝিনাইদহের পরীক্ষামূলক আবাদের বড় অংশই ছিল আঙুর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মহেশপুর, হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় আঙুর চাষ বেড়েছে, আর সবুজ আঙুরের পাশাপাশি রঙিন আঙুরের চাষও হচ্ছে। সদর উপজেলার বেতাই গ্রামের আঙুরচাষি আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন এবং পরের বছর আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।

মহেশপুর উপজেলার আব্দুর রশিদ বড় একটি বাগানের কথা বলেন: 'আমি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে আঙুর চাষ করেছিলাম। বিদেশি আঙুরের অন্তত ১২টি জাতের চারা রোপণ করে বাগান গড়েছি। জাতের ভিন্নতা থাকায় আমার বাগানে খয়েরি, লাল ও সবুজ আঙুরের ভালো ফলন পেয়েছি। আঙুরের দামও ভালো পাওয়া গেছে। আঙুর চাষের পাশাপাশি মানসম্মত চারা উৎপাদনের লক্ষ্য আছে।'

ঝিনাইদহে আঙুর ২০২৫ সালে নতুন ছিল না, তবে শুরুটা হয়েছিল খুব ছোট পরিসরে। দ্য ডেইলি স্টার ২০২২ সালের ২৬ আগস্ট জানায়, মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামের এক চাষি প্রথমে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা নিম্নমানের চারায় ব্যর্থ হন, পরে ভারতের একটি সরবরাহকারীর কাছ থেকে আনা চারায় সফল হন; তিনি চাষ করেন ভারতীয় সবুজ জাত সোনাকা। ওই প্রতিবেদনে ঝিনাইদহে ডিএইর উপপরিচালক জানান, সে বছর জেলায় ০.১৫ হেক্টর জমিতে আঙুর চাষ হচ্ছে। যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের একজন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সোনাকাকে খুব ভালো মানের সবুজ আঙুর বলে বর্ণনা করেন, যা খুব মিষ্টি, তবে এতে কিছু ছোট বিচি থাকে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে এসে জেলা কার্যালয়ের হিসাবে পরীক্ষামূলক আঙুর চাষের জমি দাঁড়ায় ২.২৫ হেক্টরে।

চাষের আঙুর (Vitis vinifera) একটি কাষ্ঠল লতা, যার আদি আবাস ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মধ্য ইউরোপ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া। এর হাজার হাজার জাত আছে, তবে খাওয়ার আঙুর ও ওয়াইনের জন্য বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাত অল্প কয়েকটি। আঙুর তাজা খাওয়া হয়, শুকিয়ে কিশমিশও করা হয়। চাষের লতার ফুলে পুরুষ ও স্ত্রী দুই অংশই থাকে, ফলে একটি লতা নিজেই ফল ধরাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে লতায় ঝুলছে ক্রিমসন সিডলেস জাতের এক থোকা আঙুর; খাওয়ার এই জাতটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের কৃষি গবেষণা সার্ভিস (এআরএস) উদ্ভাবন করেছে। ছবি: Bob Nichols, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রে লতায় ঝুলছে ক্রিমসন সিডলেস জাতের এক থোকা আঙুর; খাওয়ার এই জাতটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের কৃষি গবেষণা সার্ভিস (এআরএস) উদ্ভাবন করেছে। ছবি: Bob Nichols, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

জেলা কৃষি কার্যালয়ের হিসাব


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য ডিএইর জেলা কার্যালয়ের হিসাব ছিল এ রকম:

  • রাম্বুটান: জেলায় ১ হেক্টর জমিতে, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর উপজেলার কৃষকেরা পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন।
  • অ্যাভোকাডো: জেলায় ২ হেক্টর জমিতে, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়; সবচেয়ে বেশি জমি কালীগঞ্জে, ১.৭৫ হেক্টর।
  • আঙুর: পাঁচ উপজেলায় ২ দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ; সদরে ০.৪৪ হেক্টর, কালীগঞ্জে ০.৫৫ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ০.৩১ হেক্টর, মহেশপুরে ০.৬৬ হেক্টর ও হরিণাকুণ্ডুতে ০.২৯ হেক্টর, সবই বিভিন্ন বিদেশি জাতের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্ঠী চন্দ্র রায় বলেন, 'ঝিনাইদহ জেলার প্রতিটি উপজেলার মাটির একটি বিশেষ গুণ আছে। এ মাটিতে নানা রকম বিদেশি ফলের আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকেরা চাষাবাদ শুরু করলেও সফলতা আসার পরে তা বাণিজ্যিক আবাদে রূপান্তরিত হচ্ছে। এটি আমাদের কৃষিতে এক দারুণ বিপ্লব বলা যায়। বিদেশি ফলের আবাদ বাড়লে ফলের আমদানি নির্ভরতা কমবে। বাঁচবে কৃষক, সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা।'

জমির পরিমাণ অবশ্য ছোট ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৩ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদনে ডিএইর হিসাব অনুযায়ী যে জেলায় ২০২৩ সালে ৮৪২ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফল চাষ হয়েছিল, সেখানে এই নতুন ফলগুলোর আবাদ ছিল মাত্র কয়েক হেক্টরে। তিনটি ফসলই জেলায় তখনো পরীক্ষামূলক চাষ হিসেবে গণ্য হচ্ছিল; জাত ও চারা বাছাইয়ের বিষয়ে কৃষকেরা উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শ নিতে পারেন।

ঝিনাইদহ: ছয় উপজেলা আর অনেক ফলবাগানের জেলা


বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের জেলা ঝিনাইদহের আয়তন ১৯৬৪.৭৭ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে কুষ্টিয়া, দক্ষিণে যশোর ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রাজবাড়ী ও মাগুরা এবং পশ্চিমে চুয়াডাঙ্গা ও পশ্চিমবঙ্গ। ছয়টি উপজেলা হলো ঝিনাইদহ সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু। প্রধান নদ-নদীর মধ্যে আছে গড়াই, কুমার, নবগঙ্গা, চিত্রা, ভৈরব, কপোতাক্ষ, বেতনা ও কালীগঙ্গা। ইংরেজ শাসনের শুরুতে এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হয়, ১৭৯৩ সালে তা থানায় এবং ১৮৬২ সালে মহকুমায় উন্নীত হয়; ১৯৮৪ সালে ঝিনাইদহ জেলা হয়। জেলার ৬৭ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।

প্রতিবেদনের অ্যাভোকাডো ও লংগান চাষি দুজনই কালীগঞ্জের। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ৩১০.১৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার উত্তরে ঝিনাইদহ সদর এবং দক্ষিণে যশোর সদর ও চৌগাছা; চিত্রা, ভৈরব ও বেগবতী এর প্রধান নদী। উপজেলার প্রধান ফলের তালিকায় আছে আম, কাঁঠাল, কলা, জাম, জামরুল, লিচু, পেয়ারা ও খেজুর, আর রপ্তানিপণ্যের মধ্যে কলা, পান, ডাল, খেজুরের গুড় ও সবজি।

ফলবাগানের অর্থনীতি এ জেলায় আগে থেকেই আছে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০২১ সালের মার্চে ডিএইর তথ্যের বরাতে জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলার ছয় উপজেলায় ২ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৩৭ হাজার ৯০২ টন; চাষ হয় হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালিসহ নানা জাত। ড্রাগন ফলের বিস্তার ছিল আরও দ্রুত: দ্য ডেইলি স্টার ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর ঝিনাইদহ ডিএইর বরাতে জানায়, ২০২১ সালে ১৫১ হেক্টর ও ২০২২ সালে ২০৩ হেক্টর থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে জেলার ছয় উপজেলায় ড্রাগন ফলের আবাদ দাঁড়িয়েছে ৮৪২ হেক্টরে, আর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুরে ড্রাগন ফলের একটি পাইকারি বাজার চালু হয়েছে।

ফল আমদানি ও নতুন ফল চাষে জাতীয় উদ্যোগ


সে সময় অ্যাভোকাডো ও রাম্বুটানও বাংলাদেশের আমদানি করা ফলের তালিকায় ছিল। বার্তা সংস্থা ইউএনবি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বরাতে জানায়, দেশের ব্যবসায়ীরা ২২টি দেশ থেকে ৩৮ রকমের ফল আমদানি করেন; মোট আমদানির ৯৫ শতাংশ আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর ও আনারস, আর বাকি ৫ শতাংশের মধ্যে আছে নাশপাতি, কিনু, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান ও কিউই। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফল আমদানি হয়েছে ৫৮ কোটি ৯০ লাখ কেজি, যেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ছিল ৮২ কোটি ২০ লাখ কেজি; এর মধ্যে আমদানি করা ফলে মোট শুল্ক ২০২১-২২ অর্থবছরের ৮৯.৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১৩.৮০ শতাংশ হয়। তখন ঢাকার বাজারে লাল ও কালো আঙুর বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।

বিদেশি ফল দেশেই উৎপাদন কয়েক বছর ধরেই সরকারি নীতির অংশ। প্রথম আলো ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবের বরাতে জানায়, এক যুগ আগে দেশে ৫৬ প্রজাতির ফলের চাষ হতো, তখন হচ্ছিল ৭২ প্রজাতির, আর আরও ১২ প্রজাতির ফল দেশের উপযোগী করতে গবেষণা চলছিল। পত্রিকাটি জানায়, ডিএইর বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প উন্নত জাতের চারা উৎপাদনে জোর দিচ্ছে, এবং ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, স্ট্রবেরিসহ বেশ কয়েকটি ফলের চাষ দ্রুত বাড়ছে। একই প্রতিবেদনে সে বছর দেশে ফল উৎপাদন ১ কোটি ২১ লাখ টন বলে উল্লেখ করা হয়।

ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ইউএনবি, বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ (বারি), জুলিয়া এফ. মর্টন: ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস (পারডু বিশ্ববিদ্যালয়), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)