যশোর জেলার ঝিকরগাছায় একটি পূর্ণাঙ্গ ও যুগোপযোগী ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালের মার্চে সারাবাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যশোর জেলার ঝিকরগাছায় ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন’ নামের এই প্রকল্পে ২০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রটি গড়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি তখন কোন পর্যায়ে ছিল
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানান, প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছিল এবং এর মধ্যেই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চে এটি ছিল একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প, যার অনুমোদনের কাজ তখনো চলছিল।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছিলেন, কেন্দ্রটির মাধ্যমে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে ফুল ও শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদের উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়ানো এবং ফুলজাতীয় পণ্য সংগ্রহের পরের ক্ষতি ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনা যাবে।

উদ্যোগের শুরু ২০১৮ সালে
ঝিকরগাছায় ফুল গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগ এর আগেই শুরু হয়েছিল। ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই দ্য এশিয়ান এজ পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পেয়েছে কমিশন। সেই প্রস্তাবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মাধ্যমে ১৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। দ্য ইনডিপেনডেন্টও ২০১৮ সালের জুলাইয়ে একই ব্যয়ের কথা লেখে। ২০২০ সালের মার্চের প্রতিবেদনে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
২০১৮ সালের প্রস্তাবে কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য বলা হয়েছিল প্রয়োজনীয় গবেষণার মাধ্যমে সারা বছর ফুলের উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখা এবং বাণিজ্যিক ফুলচাষিদের সহায়তা করা। এর মধ্যে ছিল নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ায় গবেষণার জন্য গ্রিনহাউস, আধুনিক সুবিধাসহ গবেষণা মাঠ, ফুলের ১০টি নতুন জাত ও ২০টি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, এবং প্রায় ১৩ হাজার মানুষকে ফুল উৎপাদন, গবেষণা ও ব্যবসায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য একটি প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স। এশিয়ান এজের প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, ফুল তোলা ও সংরক্ষণের পর্যায়ে উৎপাদনের ক্ষতি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

দেশের ফুল চাষে যশোরের অবস্থান
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি ফুল চাষের জন্য খুবই সহায়ক। ২০২০ সালের প্রতিবেদনের সময় দেশে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছিল, এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ৫০ হাজার কৃষক, আর প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ফুল বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে যশোরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফুল দেশের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান দিত। দেশের বাজারের পাশাপাশি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে ফুল রপ্তানির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল।
ঝিকরগাছা খুলনা বিভাগের যশোর জেলার একটি উপজেলা; গদখালী ও পানিশারা এর ১১টি ইউনিয়নের দুটি। উপজেলার সরকারি তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফুল, যেমন রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া ও জারবেরা, এবং সারা দেশের ফুলের চাহিদার সিংহভাগ উৎপাদিত হয় গদখালী ও পানিশারা ইউনিয়নে। এশিয়ান এজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশির দশকের শুরুতে সীমিত পরিসরে ঝিকরগাছায় বাণিজ্যিক ফুল চাষ শুরু হয়।

ফুল নিয়ে বারির গবেষণা
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কালের কণ্ঠকে জানিয়েছিল, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি ১০টি ফুলের ১৯টি জাত উদ্ভাবন করেছে। পাশাপাশি ফুল ও শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদের চাষ পদ্ধতি, ফুল সংগ্রহ প্রযুক্তি ও প্যাকেজিংসহ ২০টি কলাকৌশলও উদ্ভাবন করেছে বারি।
ছবি: SAIDUL HASAN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সারাবাংলা, কালের কণ্ঠ, দ্য এশিয়ান এজ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, ঝিকরগাছা উপজেলা তথ্য বাতায়ন, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)