সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত কৃষক-খামারিদের বীজ, সার ও টিকা দেওয়ার কথা জানালেন কৃষিমন্ত্রী

২০২৬ সালের ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের বীজ, সার ও গবাদিপশুর টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার সব গবাদিপশুকে ক্ষুরা রোগের টিকা দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত কৃষক-খামারিদের বীজ, সার ও টিকা দেওয়ার কথা জানালেন কৃষিমন্ত্রী
মৎস্য

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে বীজ, সার, গবাদিপশুর টিকাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই, শনিবার, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাগো নিউজের চট্টগ্রাম প্রতিবেদক সভার খবরটি প্রকাশ করেন।

বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ক্ষতি


দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১৭ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে সরকারি প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, টানা আট দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ২৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিভাগের ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫ জন কৃষক।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যে, ৩১৮টি ইউনিয়নের ২৩ হাজার ৬১০টি পুকুর ও জলাশয় এবং ৭৮৯টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে যায়; মৎস্য খাতে ক্ষতি ২১০ কোটি ১০ লাখ টাকা। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ৪৫টি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বন্যায় মারা যায় ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি ও ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস। তলিয়ে যায় চারণভূমি, নষ্ট হয় খড়, ঘাস ও পশুখাদ্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১১ জুলাইয়ের টানা বর্ষণে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, ফলের বাগান, মরিচখেত ও পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বণিক বার্তার ১৭ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে ডিএই চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে কৃষিতে প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতির কথা জানান।

কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের একটি চিংড়ি ঘের, ২০২৫ সালে তোলা। ছবি: HMsayed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের একটি চিংড়ি ঘের, ২০২৫ সালে তোলা। ছবি: HMsayed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

বীজ, চারা ও গোখাদ্য সহায়তা


রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, সভার আগের দিন ১৭ জুলাই মন্ত্রী চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ধানবীজ, মৎস্যচাষিদের মধ্যে পুকুর পুনর্বাসনের উপকরণ ও খামারিদের মধ্যে গোখাদ্য বিতরণ করেন এবং গবাদিপশুর এফএমডি ও পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি বলেন, বন্যাকবলিত পাঁচ জেলার কৃষকদের বিনামূল্যে ধানবীজ ও চারা দেওয়া হবে। যাদের জমি তখনো পানির নিচে, তাদের জন্য কৃষকের জমি ভাড়া নিয়ে বিকল্প বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, যার চারা ১৫ থেকে ২০ দিন পর বিতরণ করা হবে। গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দের কথাও তিনি জানান।

বাংলাদেশের একটি গ্রামে বীজতলা থেকে রোপণের জন্য ধানের চারা তুলছেন কৃষকেরা। ছবি: MdRamjanAliWiki / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
বাংলাদেশের একটি গ্রামে বীজতলা থেকে রোপণের জন্য ধানের চারা তুলছেন কৃষকেরা। ছবি: MdRamjanAliWiki / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

১৫ দিনে সব গবাদিপশুকে ক্ষুরা রোগের টিকা


সার্কিট হাউজের সভায় মন্ত্রী বলেন, বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার শতভাগ গবাদিপশুকে ক্ষুরা রোগ (এফএমডি) প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা হবে। ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেগুলোকেও আবার টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর ভাষায়, একটি গবাদিপশু মারা গেলে একজন খামারি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, সে কথা মাথায় রেখেই টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউওএএইচ) তথ্যে, ক্ষুরা রোগ গরু, শূকর, ভেড়া, ছাগলসহ দুই খুরবিশিষ্ট প্রাণীর মারাত্মক ও অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত পশুর নিঃসরণ, নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া কণা এবং দূষিত খাদ্য, পানি, সরঞ্জাম ও যানবাহনের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। প্রাপ্তবয়স্ক পশুর মৃত্যুহার সাধারণত ১ থেকে ৫ শতাংশ হলেও বাছুরের মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি, আর আক্রান্ত পশুর উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়। রোগটি সহজে মানুষে ছড়ায় না।

ঢাকার একটি খামারে গোয়ালঘরের পাশে দুটি গরু। ছবি: Khaleq / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
ঢাকার একটি খামারে গোয়ালঘরের পাশে দুটি গরু। ছবি: Khaleq / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সহায়তা বিতরণে অনিয়মে কঠোর অবস্থানের কথা


মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং কেউ বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বীজ ও টিকা বিতরণে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'; অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহায়তা বিতরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ও বরদাশত করা হবে না বলে তিনি জানান।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, ডিএই চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ বিভাগ ও জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: Department of Foreign Affairs and Trade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বণিক বার্তা, বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)