সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কৃষকের অ্যাপে আমন ধান কেনা: অনিয়ম ঠেকাতে নিবন্ধন, লটারি ও চেকে দাম

আমন ধান সংগ্রহে অনিয়ম ঠেকাতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে খাদ্য অধিদপ্তর ১৬টি জেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’ চালুর উদ্যোগ নেয়; নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে লটারি করে ঠিক হওয়ার কথা ছিল কার কাছ থেকে ধান কেনা হবে।

কৃষকের অ্যাপে আমন ধান কেনা: অনিয়ম ঠেকাতে নিবন্ধন, লটারি ও চেকে দাম
এগ্রোটেক

সরকারি আমন ধান সংগ্রহে অনিয়ম ও দালালের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে বাংলাদেশের খাদ্য বিভাগ ২০১৯ সালের আমন মৌসুমে বেশ কিছু জেলায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনার পদক্ষেপ নেয়। বিবিসি বাংলা ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর জানায়, ‘কৃষকের অ্যাপ’ নামের এই অ্যাপটি তৈরি করেছে কম্পিউটার কাউন্সিল, আর খাদ্য অধিদপ্তর এবার ১৬টি জেলায় এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে।

সেবারের আমন ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয় ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। এই মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে কেজিপ্রতি ২৬ টাকা দরে ছয় লাখ টন ধান এবং মিল থেকে কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে সাড়ে তিন লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোন জেলা থেকে কত ধান কেনা হবে, তার একটি তালিকাও করা হয়।

নিবন্ধন থেকে লটারি: অ্যাপে ধান বিক্রির ধাপ


খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বিবিসিকে জানান, তখন মূলত কৃষকদের নাম নিবন্ধনের কাজ চলছিল। কৃষকেরা ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারতেন। নিবন্ধন শেষে যাঁদের নাম অ্যাপে আসবে, তাঁরা ধান বিক্রির আবেদন করবেন এবং আবেদনে জানাবেন কোন জাতের ধান উৎপাদন করেছেন ও কতটা বিক্রি করতে চান।

এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে লটারি করে চূড়ান্ত করা হবে কাদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। কৃষককে ডিজিটালি জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায় ধান বিক্রি করতে হবে। সেখানেই দাম পরিশোধের জন্য তাঁকে একটি চেকের প্রিন্ট কপি দেওয়া হবে, যা ব্যাংকে দেখিয়ে তিনি টাকা তুলতে পারবেন। মহাপরিচালকের ভাষায়, “ফলে ধান ক্রয়ের সময় মধ্যসত্ত্বভোগী দালাল কিংবা কর্মকর্তাদের মধ্যেও যদি কোনো অসাধু ব্যক্তি থাকে তারা আর অনিয়মের সুযোগ পাবেনা।”

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী অ্যাপটির মূল সুবিধাগুলো ছিল এমন:

  • গুগল প্লে স্টোর থেকে যে কেউ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
  • এটি ব্যবহার করে কৃষক তাঁর উৎপাদিত ধান ও চাল সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।
  • মিলমালিক ও কৃষক মোবাইলে বার্তার মাধ্যমে ধান-চালের চাহিদা ও সরবরাহের তারিখ জানতে পারবেন।
  • ধান বিক্রির আবেদন ও আবেদনের অবস্থা দেখা যাবে।
  • কেউ হয়রানির শিকার হলে অভিযোগ করতে পারবেন।
বাংলাদেশে যন্ত্র দিয়ে ধান মাড়াই। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশে যন্ত্র দিয়ে ধান মাড়াই। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

যাঁদের ফোন নেই, তাঁদের জন্য ব্যবস্থা


মহাপরিচালক জানান, যে ১৬টি জেলায় অ্যাপটি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেখানকার কর্মকর্তা ও কৃষকদের সচেতন করতে ব্যাপক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। খাদ্য বিভাগের জেলা ও থানা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদেরও অ্যাপটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “কারও কাছে ফোন না থাকলেও বেশ কয়েকটি জায়গায় গিয়ে তারা নাম নিবন্ধন ও আবেদন করতে পারবেন। আর নিবন্ধন একজনের জন্য একবারই চূড়ান্ত। ওই নিবন্ধন নাম্বার দিয়েই তিনি প্রতিবছর ধান বিক্রয়সহ বেশ কিছু কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।”

এর আগে ২১ নভেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চলতি আমন মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ছয় লাখ টন ধান কিনবে, সুবিধাবঞ্চিত কৃষকেরা অগ্রাধিকার পাবেন এবং এ জন্য লটারি হবে। দ্য ডেইলি স্টার জানায়, মন্ত্রীর ভাষ্যমতে সরকারের সংগ্রহ ঘোষণার পর ধানের দাম মণপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছিল।

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি চালকলে ঢোকার অপেক্ষায় দুই চাকার ট্রাক্টরের ট্রেইলারে ৮০ কেজির ৭০ বস্তা ধান। ছবি: Scott E. Justice / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি চালকলে ঢোকার অপেক্ষায় দুই চাকার ট্রাক্টরের ট্রেইলারে ৮০ কেজির ৭০ বস্তা ধান। ছবি: Scott E. Justice / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

আমন মৌসুম ও সরকারি সংগ্রহের পটভূমি


বাংলাদেশে ধান হয় তিন মৌসুমে: আউশ, আমন ও বোরো। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি ডায়েরির শস্য পঞ্জিকা উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ২০১৯ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদন জানায়, আমন ধান রোপণ হয় জুলাই-আগস্টে, কাটা হয় নভেম্বর-ডিসেম্বরে। ওই প্রতিবেদনের প্রাক্কলনে ২০১৮-১৯ বিপণন বছরে আমন আবাদ হয় ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টরে, চাল উৎপাদন ১ কোটি ৩৫ লাখ টন। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী আগের মৌসুমে, ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত, খাদ্য মন্ত্রণালয় কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৬ টন আমন চাল সংগ্রহ করে।

ধান-চাল সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা খাদ্য অধিদপ্তর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা, দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনা তার মূল কাজ; এর সূচনা ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষের পর গঠিত খাদ্য বিভাগ থেকে। অ্যাপটির নির্মাতা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের হাওর এলাকায় মহিষের গাড়িতে ধান বহন। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশের হাওর এলাকায় মহিষের গাড়িতে ধান বহন। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: বিবিসি বাংলা, দ্য ডেইলি স্টার, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

শিকড়ের কাছে তরল সার পৌঁছাবে হালকা যন্ত্র, পরের লক্ষ্য সার দেওয়ার রোবট

নেদারল্যান্ডসের এক প্রদর্শনীতে দেখানো হালকা ডিস্ক যন্ত্রটি তরল সার সরাসরি মাটির ভেতরে দেয়। এর উদ্ভাবকেরা একে বিদ্যুৎচালিত এমন রোবটে রূপ দিতে চান, যা নিজেই ডকিং স্টেশনে গিয়ে ট্যাংক ভরে নেবে।

Future Farming১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

২০ নভেম্বরের আগে গম বুনুন: উত্তর প্রদেশে শূন্য চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিল ইরি ও সিমিট

খড় পোড়ানোর বিকল্প হিসেবে শূন্য চাষে গম বপন ও ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনায় পূর্ব উত্তর প্রদেশের ৬৩ জন কৃষক, যন্ত্রসেবাদাতা ও সম্প্রসারণকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইরি ও সিমিট।

IRRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)