ইথিওপিয়ার মধ্য ইথিওপিয়া অঞ্চলের কেম্বাটা টেম্বারো জোনের কেদিদা গামেলা ওরেদার কৃষক আয়েলেচ তারেকেন মেকেবো ২০০৬ সালে একটিমাত্র দেশি গরু নিয়ে দুধের কাজ শুরু করেছিলেন। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাংক তাঁর গল্প প্রকাশ করে জানায়, তিন সন্তানের এই মা এখন একটি দুগ্ধ সমবায়ের সদস্য এবং দুধ বেচে নিয়মিত আয় করেন। বিশ্বব্যাংকের ভাষায়, গ্রামীণ ইথিওপিয়ায় গবাদিপশু খাদ্যের উৎস, আবার কাজ ও আয়েরও গুরুত্বপূর্ণ পথ। আয়েলেচ বিশ্বব্যাংককে বলেন, ‘শুধু একটি দেশি গরু দিয়ে শুরু করেছিলাম। কখনো ভাবিনি, এটা আমাকে এত দূর নিয়ে আসবে।’
জীবিকার খামার থেকে উন্নত দুগ্ধ-চর্চা
২০০৬ সালে আয়েলেচের পরিবার চলত জীবিকানির্বাহী কৃষিতে, সম্পদ ছিল সীমিত। দেশি গরুটির দুধ মূলত ঘরেই লাগত, সামান্য কিছু বিক্রি হতো আশপাশে। মোড় ঘোরে যখন বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ফিশারিজ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (এলএফএসডিপি) তাঁকে উন্নত দুগ্ধ-চর্চার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি কৃত্রিম প্রজনন ও সংকরায়ণের মতো কৌশল গ্রহণ করেন, ধীরে ধীরে তাঁর পশুর উৎপাদন বাড়ে এবং নিয়মিত আয় আসতে শুরু করে।
বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প তথ্য অনুযায়ী, এলএফএসডিপি ১৭ কোটি মার্কিন ডলারের প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের পর্ষদ এটি অনুমোদন করে ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর, বাস্তবায়ন করে ইথিওপিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পটি শেষ হয় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই। এর লক্ষ্য ছিল বাছাই করা মূল্যশৃঙ্খলে উৎপাদক ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের উৎপাদনশীলতা ও বাণিজ্যিকীকরণ বাড়ানো এবং প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের সেবা শক্তিশালী করা; প্রথম অংশের কাজ চলে ৫৮টি ওরেদায়।

দল থেকে সমবায়, সমবায় থেকে নিয়মিত আয়
২০২১ সালে একই স্বপ্ন দেখা ১২ জন প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলে আয়েলেচ গড়েন একটি ‘কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ’। প্রকল্প থেকে দলটি পায় নির্মাণসামগ্রী, উন্নত পশুখাদ্যের ঘাসের বীজ, পানির চৌবাচ্চা, দুধের ক্যান ও দানাদার খাদ্য। ২০২২ সালে এমন ১০টি দল একত্র হয়ে গড়ে ‘এনাত মিল্ক কালেকশন অ্যান্ড মার্কেটিং কো-অপারেটিভ’। সমবায়টি একটি দুধ সংগ্রহকেন্দ্র তৈরি করে এবং সেখানে রেফ্রিজারেটর, দুধের মান পরীক্ষার যন্ত্র, দুধের ক্যান ও একটি বাজাজ গাড়ি দেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাংক জানায়, আয়েলেচ এখন সমবায়ে দিনে প্রায় ২০ লিটার দুধ দেন, লিটারপ্রতি ৮০ বির দরে। প্রতি ১০ দিনে টাকা পান, প্রতি দফায় ১০ হাজার ৮০০ থেকে ১৪ হাজার ৪০০ বির। বছরে একবার সমবায় থেকে লভ্যাংশও পান; এ পর্যন্ত তিনবার লভ্যাংশ পেয়েছেন, প্রতিবার অন্তত ২৭ হাজার ৫০০ বির।

ইউনিয়নে প্রক্রিয়াজাতকরণ আর মূল্যশৃঙ্খলের কাজ
পরে সমবায়টি এলএফএসডিপির সহায়তা পাওয়া ‘সেদাল মাল্টিপারপাস পিএলসি ইউনিয়ন’-এর সদস্য হয়। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিয়ন শুরু করেছিল ১৭ হাজার ১০০ সদস্য নিয়ে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে, ইউনিয়নটি সদস্যদের কাছ থেকে দিনে ২ হাজার লিটারের বেশি দুধ সংগ্রহ করে; এর প্রায় ১ হাজার ৫০০ লিটার দিয়ে তৈরি হয় পনির, মাখন, দই ও হুইয়ের মতো পণ্য। ইউনিয়নের দৈনিক মোট আয় ১ লাখ ৯৫ হাজার বিরের বেশি, প্রায় ১ হাজার ২৬০ মার্কিন ডলার।
বিশ্বব্যাংকের মতে, এ ধরনের প্রকল্প দুগ্ধ মূল্যশৃঙ্খলের নানা ধাপে কাজ তৈরি করে: পশুর যত্ন ও দুধ সংগ্রহ থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও খুচরা বিক্রি পর্যন্ত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর তথ্যে, বিশ্বে প্রায় ১৫ কোটি পরিবার দুধ উৎপাদনে যুক্ত, আর বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশে দুধ উৎপাদন করেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। এফএও বলছে, এসব দেশে দুগ্ধ উৎপাদনশীলতা আটকে থাকে নিম্নমানের খাদ্য, রোগ, বাজার ও সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং পশুর কম দুধ দেওয়ার জিনগত ক্ষমতার কারণে। আয়েলেচের দল ও সমবায় যে সহায়তা পেয়েছে, তা ছিল এই বাধাগুলোর দিকেই।

ছবি: Niels Van Iperen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বিশ্বব্যাংক, বিশ্বব্যাংক প্রকল্প তথ্যভান্ডার (এলএফএসডিপি, P159382), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)