শিশুর জন্মের আগেই মস্তিষ্কে অতিরিক্ত তরল জমতে শুরু করলে সেই অবস্থাকে বলা হয় জন্মগত হাইড্রোসেফালাস। মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (সিএসএফ) চলাচলের পথে বাধা পড়লে কিংবা এই তরল ঠিকমতো শোষিত না হলে তা মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল বা প্রকোষ্ঠে জমে যায়। বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ।
তাঁর ব্যাখ্যায়, এ রোগের পেছনে থাকতে পারে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা, জিনগত ত্রুটি বা গর্ভাবস্থায় কোনো সংক্রমণ। একটি বড় কারণ অ্যাকুয়েডাক্টাল স্টেনোসিস, যাতে মস্তিষ্কের ভেতরে সিএসএফ চলাচলের একটি সরু পথ সংকুচিত হয়ে যায়।
গর্ভাবস্থায় মায়ের টক্সোপ্লাজমোসিস, রুবেলা, সাইটোমেগালো ভাইরাস বা সিফিলিসের মতো সংক্রমণও শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
জন্মের পর কয়েকটি লক্ষণে নজর রাখতে বলেছেন এই চিকিৎসক: নবজাতকের মাথার নরম অংশ বা ফন্টানেল ফুলে ওঠা, মাথার ত্বকের নিচের শিরা স্পষ্ট হয়ে ওঠা এবং চোখ নিচের দিকে স্থির হয়ে থাকা, যাকে ‘সেটিং সান সাইন’ বলা হয়।
অনেক ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থাতেই আলট্রাসনোগ্রাফিতে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল বড় হয়ে যাওয়া ধরা পড়ে। জন্মের পর শারীরিক পরীক্ষা ও মাথার পরিধি মাপার পাশাপাশি প্রয়োজনমতো আলট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়।
চিকিৎসার প্রচলিত পথগুলোর একটি শান্ট সার্জারি। কিছু ক্ষেত্রে এন্ডোস্কপিক থার্ড ভেন্ট্রিকুলোস্টমি (ইটিভি) করা যায়। কোন পদ্ধতি কোন শিশুর জন্য উপযুক্ত, তা ঠিক করেন নিউরোসার্জন। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াই নিরাপদ।
ছবি: Cerevisae / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)