রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বসা কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ২০২৬ সালের ৩ জুন, বুধবার, ডিএনসিসির এক অফিস আদেশে কমিটি গঠন করা হয় এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
অফিস আদেশে যা বলা হয়েছিল
অফিস আদেশ অনুযায়ী, দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউবাজার এলাকার খালি জায়গা থেকে মেট্রোরেলের পাশে ১৮ নম্বর সেক্টরের সি ব্লকের খালি মাঠ পর্যন্ত অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালনা করা হয়। হাট চলার সময় উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের নিচে রাস্তার আশপাশে ময়লা আবর্জনা জমে যায়, গাছপালা ভাঙে এবং পশুবাহী যানবাহন চলাচলের কারণেও ক্ষতি হয়। এই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করাই ছিল কমিটির কাজ।
কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা। সদস্য করা হয় অঞ্চল-৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং অঞ্চল-৬ এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে। প্রয়োজনে কমিটি যেকোনো সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে বলে আদেশে জানানো হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আদেশটি জারি করেন ডিএনসিসির সচিব মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান।

ঈদের আগে মেট্রো স্টেশনের নিচে পশু রাখা নিয়ে বিতর্ক
সেবার বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয় ২৮ মে, আর সরকার ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিয়াবাড়িতে বসেছিল সে বছর রাজধানীর সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট। ব্যবসায়ীরা মূল সড়কে ও মেট্রো স্টেশনের নিচে পশু বেঁধে রাখায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। ২৬ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগ অভিযান চালিয়ে স্টেশনের নিচ থেকে পশু সরিয়ে দেয় এবং হাটের ইজারাদারকে ডেকে সতর্ক করে। নির্দেশনা না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানার কথাও জানায় পুলিশ।

ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, ২৭ মে হাট পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মেট্রো স্টেশনের নিচে বা আশপাশে কোনো জায়গা ইজারা দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য ছিল, দুই দিন আগের ভারী বৃষ্টির সময় ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে স্টেশনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নিজে উপস্থিত থেকে পশু নির্ধারিত সীমানার ভেতরে সরিয়ে নেন বলেও জানানো হয়।

ছবি: Serajus Salekin Himel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ডেইলি স্টার




মন্তব্য
(০)