সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৯°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৫৮%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

জলবায়ু সংকট মনেরও সংকট: সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অধ্যাপক-অভিভাবকের ভাবনা

ভারতের টেরি স্কুল অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের অধ্যাপক শ্রুতি শর্মা এক কলামে লিখেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তা কেড়ে নিচ্ছে, এর মানসিক বোঝা সবচেয়ে বেশি পড়ছে কম সামর্থ্যের মানুষের ওপর, আর জলবায়ু পরিকল্পনায় মনের সহনশীলতাকেও জায়গা দিতে হবে।

জলবায়ু সংকট মনেরও সংকট: সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অধ্যাপক-অভিভাবকের ভাবনা
মতামত

জলবায়ু পরিবর্তনের হিসাব সাধারণত হয় তাপমাত্রার ডিগ্রি, নির্গমন আর আর্থিক ক্ষতিতে। কিন্তু এর আরেকটি ক্ষতি মাপা কঠিন: ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের নিশ্চয়তা হারিয়ে যাওয়া। ভারতের টেরি স্কুল অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান শ্রুতি শর্মা ডাউন টু আর্থে লেখা এক কলামে এ কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন দুই জায়গা থেকে: জলবায়ু ঝুঁকি ও সহনশীলতার শিক্ষক হিসেবে, আবার একজন অভিভাবক হিসেবেও।

তাঁর লেখার শুরু একটি ছবি থেকে, যেখানে গর্ভাবস্থা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত জীবনের নানা পর্যায়ের মানুষকে ঘিরে আছে জলবায়ুর বিপদ: বাড়তি তাপমাত্রা, বায়ুদূষণ, বন্যা, খরা, ঝড়, দাবানল, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি আর লবণাক্ততা। শিশুর কাছে প্রচণ্ড গরম মানে নির্ঘুম রাত, স্কুলে বিঘ্ন বা বাইরে খেলতে না পারা; কিশোরের কাছে প্রশ্নটা দাঁড়ায়, কেমন ভবিষ্যতের দিকে সে বড় হচ্ছে। আর যে মা-বাবার কাছে আশা করা হয় তাঁরা ভবিষ্যৎকে নিরাপদ মনে করাবেন, তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রতিটি তাপপ্রবাহ বা বন্যাই কি সন্তানের জন্য স্বাভাবিক হয়ে যাবে?

শর্মা একটি বহুদেশীয় গবেষণার উল্লেখ করেছেন, যাতে ৪৪টি দেশের ৩৮৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৮৩.৫ শতাংশ আগের পাঁচ বছরে অন্তত একটি চরম জলবায়ু ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। এমন ঘটনার শিকার মানুষদের মধ্যে জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগ বেশি পাওয়া গেছে, আর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়াই ছিল সেই উদ্বেগের সবচেয়ে বড় পূর্বাভাসক।

তাঁর যুক্তি, এই মানসিক বোঝা সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। কোনো পরিবার বন্যাপ্রবণ এলাকা ছেড়ে যেতে পারে, কারও যাওয়ার জায়গা নেই; কেউ ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ বহন করতে পারে, কেউ বিদ্যুৎ বিল দিতেই হিমশিম খায়; কোনো শিক্ষার্থী মানসিক সহায়তা পায়, কেউ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাও পায় না। সে কারণেই তিনি জলবায়ু ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্নকে জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বলেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে পড়ানো হচ্ছে, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের সত্যটা জানাতে হবে, কিন্তু প্রতিটি আলোচনা যদি বিপর্যয়ে শেষ হয় আর ভয়ের পূর্বাভাসের সঙ্গে করণীয়ের পথ না দেখানো হয়, তরুণেরা নিজেদের কিছু করার সামর্থ্যে বিশ্বাস হারায়। তাঁর ভাষায়, আশা মানে বিজ্ঞানকে অস্বীকার করা নয়; ফল অনিশ্চিত হলেও নিজেদের সিদ্ধান্ত এখনো গুরুত্বপূর্ণ, এই বিশ্বাসই আশা।

শর্মা লিখেছেন, আমরা সহনশীল শহর, অবকাঠামো, কৃষি ও অর্থনীতির কথা বলি; হয়তো সহনশীল মনের কথাও বলা দরকার। সন্তানদের জন্য পরিষ্কার বাতাস, নিরাপদ পানি আর স্থিতিশীল প্রকৃতির পাশাপাশি রেখে যেতে হবে আশা করার, ঘুরে দাঁড়ানোর আর ঝুঁকি বোঝার সামর্থ্যও। মতামত লেখকের নিজস্ব।

ছবি: Takver / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

সূত্র: ডাউন টু আর্থ

ডাউন টু আর্থসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

মতামত: চীনা বালাইনাশক কোম্পানি মার্কিন কৃষকের দোরগোড়ায়, বিক্রেতারা কী করবেন

ক্রপলাইফে লেখা এক কলামে হুয়া চেং ও ডেভিড লি বলছেন, চীনা ফসল সুরক্ষা কোম্পানিগুলো মার্কিন কৃষকের কাছে পৌঁছানোর নতুন পথ পাচ্ছে, তবে স্থানীয় বিক্রেতাদের এমন কিছু শক্তি আছে যা কনটেইনারে করে পাঠানো যায় না।

ক্রপলাইফ১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

শীতে শিশুর রোটাভাইরাস ঝুঁকি, টিকা আছে, তবু সরকারি কর্মসূচিতে নেই: ফারিয়া এজাজের কলাম

আজকের পত্রিকায় ফারিয়া এজাজ লিখেছেন, আইসিডিডিআরবির হিসাবে দেশে বছরে আড়াই থেকে ৩ হাজার শিশু রোটাভাইরাসে মারা যায়; ১৩২টি দেশ টিকাটি জাতীয় কর্মসূচিতে নিলেও বাংলাদেশে এক ডোজের দাম ২,৯৯৩ টাকা, সরকারিভাবে দেওয়া হয় না।

আজকের পত্রিকা১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

নিঃসরণ ০.০৫ শতাংশ, ক্ষতি পাহাড়সম: নেপালের শিক্ষায় অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন চান রাকিব হোসেন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির পিএইচডি গবেষক রাকিব হোসেন লিখেছেন, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণে মাত্র ০.০৫ শতাংশ অবদানের নেপাল যেমন বারবার দুর্যোগের দাম দিচ্ছে, বাংলাদেশও তেমনি; তাই ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন দরকার।

ঢাকা পোস্ট১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)