দক্ষিণ হন্ডুরাসের চোলুতেকা বিভাগে শত শত গ্রামীণ নারী ফসলকে নিজের আয় ও পরিবারের সুযোগে বদলে নিয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢেঁড়স রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কাভেক্সা (CAVEXSA), কফি সমবায় কোকাসাম (COCASAM) ও আখচাষিদের সংগঠন উপ্রোকাসুর (UPROCASUR)-এর চার নারীর কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যেখানে নারীদের কৃষিকাজ বছরের পর বছর প্রায় চোখেই পড়ত না, সেখানে খেতে ও কারখানায় তাঁদের অংশগ্রহণ জীবিকা বদলাচ্ছে, ভাঙছে প্রচলিত ধারণা। চোলুতেকা হন্ডুরাসের সবচেয়ে দক্ষিণের বিভাগ, যার পূর্ব ও দক্ষিণে নিকারাগুয়া; কৃষি, মাছ ধরা, চিনি উৎপাদন ও চিংড়ি খামার এখানকার পরিচিত জীবিকা।
গৃহিণী থেকে ঢেঁড়স প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে
‘নারীরা সব পারে, যদি আমরা বিশ্বাস করি যে পারি,’ বলেন ঢেঁড়স উৎপাদক দেনিয়া কালদেরন। তিনি কাভেক্সার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য; বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ৬০০-র বেশি মানুষের নিয়োগদাতা। দেনিয়া বলেন, তিনি গৃহিণী ছিলেন এবং তা বলতে লজ্জা নেই। শুরুতে কৃষিকে পুরুষের ভারী কাজ মনে হয়েছিল; পরে তিনি উৎপাদন সামলানো, পোকামাকড় মোকাবিলা ও মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়া শেখেন। এখন নিজের জমি চাষ করেন, অন্যদের কাজ দেন। ‘ঢেঁড়সের কল্যাণেই স্পেনে বোনের কাছে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছি,’ বলেন তিনি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের আরেক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাভেক্সা শুরু হয়েছিল ক্ষুদ্র উৎপাদকদের সমিতি হিসেবে, যখন এক রপ্তানিকারক চাষিদের ফসল বদলাতে রাজি করিয়ে পরে ফসল কেনেনি। প্রতিষ্ঠানটি ২০০ মানজানা জমিতে ঢেঁড়স চাষ করে এবং যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালে দিনে একটি করে কনটেইনার রপ্তানি করে।

কফি সমবায়ে বস্তা ভরা থেকে ফর্কলিফট
চোলুতেকার সান মার্কোস দে কোলন পৌরসভায় সান মার্কেনিয়া কফি সমবায় (কোকাসাম) তাদের স্পেশালটি কফি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিয়েছে; ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী পুরো উৎপাদনই যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো বাজারে। সেলেনা মেরকাদো ২০০৮ সালে সমবায়ে এসে শুরু করেন বস্তা ভরা, চারা রোপণ ও নার্সারির কাজে। পরে তিনি উচ্চমানের কফি বাছাইয়ে দক্ষ হন, আর প্রতিবেদনের সময় পাঁচ বছর ধরে স্থায়ী কর্মী হিসেবে কারখানার ফর্কলিফট চালাচ্ছিলেন, যে কাজ কিছুদিন আগেও প্রায় শুধু পুরুষেরা করতেন। ‘শেখার অধিকার আমাদের সবার আছে,’ বলেন তিনি। ‘আগে কফি গায়ের জোরে তুলতে হতো; এখন কাজ দ্রুত ও নিরাপদ।’
কোকাসামের সহযোগী উৎপাদক ও তদারকি বোর্ডের সচিব মারিয়া রুতিলিয়া মেন্দোসা বলেন, ‘আগে আমরা উৎপাদন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে তুলে দিতাম। সংগঠিত হয়ে আমরা কফির অর্থনৈতিক মূল্য বাড়িয়েছি।’ তিনি নিজের খামারে কফির সঙ্গে যোগ করেছেন কৃষিপর্যটন ও হস্তশিল্প, আসছেন দেশি-বিদেশি পর্যটক।

অবসরের পর আখচাষিদের সংগঠনের সভাপতি
এভেনিলদা মোরান ২০১৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। আখ চাষের উপযোগী জমি থাকলেও কখনো কৃষিকাজ করেননি। এখন তিনি দক্ষিণ হন্ডুরাসের ছোট ও মাঝারি আখচাষিদের সংগঠন উপ্রোকাসুরের সভাপতি। ‘এটা মোটেও দ্রুত টাকা আয়ের প্রক্রিয়া ছিল না,’ বলেন তিনি। পর্ষদের অন্যদের সঙ্গে উৎপাদন, যন্ত্র চালনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁরা গড়ে তোলেন দেশের প্রথম গুঁড়া আখের শিল্পকারখানা। ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারখানাটি ২০০-র বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং মৌসুমে ১ হাজার পর্যন্ত মানুষের কাজ দেয়।

কমরুরাল টু প্রকল্প ও নারীর অংশগ্রহণ
তিন সংগঠনের ব্যবসা পরিকল্পনায় সহায়তা দিয়েছে কমরুরাল টু প্রকল্প, যা হন্ডুরাস সরকার বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহায়তায় বাস্তবায়ন করছে। বিশ্বব্যাংক ২০১৯ সালের জুনে প্রকল্পটির জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে; লক্ষ্য ছিল কৃষি ভ্যালু চেইনে বাজারে প্রবেশ ও জলবায়ু-সহনশীল চর্চা বাড়ানো। প্রকল্প নথিতে বলা হয়, যেসব উৎপাদক সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদে নারী আছেন, ব্যবসা পরিকল্পনা বাছাইয়ে তারা বাড়তি নম্বর পাবে।
মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমরুরাল টু গ্রামীণ উৎপাদক সংগঠনের ১৯টি ব্যবসা পরিকল্পনায় সহায়তা দিয়েছে, যাদের সদস্য ২ হাজার ৫০০-র বেশি, এক-তৃতীয়াংশ নারী। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ক্ষুদ্র কৃষি রূপান্তরের উদ্যোগ ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট’-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। বিশ্বব্যাংক মনে করিয়ে দেয়, হন্ডুরাসে নারীরা পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে থাকেন; ২০১৯ সালের প্রকল্প নথি অনুযায়ী শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ৪৭ শতাংশ, পুরুষের ৮৪ শতাংশ।
ছবি: Brbigam / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: বিশ্বব্যাংক (মূল প্রতিবেদন, মার্চ ২০২৬; ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন; কমরুরাল টু প্রকল্প নথি, জুন ২০১৯), সিসিএআরডিইএসএ, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)