ভারতের উত্তরপ্রদেশে মাইক্রোঅ্যালজি (অণুশৈবাল) থেকে খাদ্য উপাদান তৈরির জন্য ৩ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার আলোকিত ফারমেন্টেশন কারখানা গড়ছে ইসরায়েলের বায়োটেক স্টার্টআপ ব্রেভেল (Brevel) ও ভারতের শিল্পগোষ্ঠী দ্য ওয়েভ গ্রুপ, জানিয়েছে গ্রিন কুইন। সমান অংশীদারত্বের কারখানাটির অর্থ দেবে দ্য ওয়েভ গ্রুপ; মোট বিনিয়োগ ১ থেকে দেড় কোটি ডলার, নির্মাণ শুরু এ বছরই, উৎপাদন ১৮ মাসের মধ্যে।
প্রচলিত ফারমেন্টেশনে অন্ধকারে কম খরচে মাইক্রোঅ্যালজি জন্মায়, কিন্তু আলোনির্ভর পুষ্টি উপাদান তৈরি হয় না। ব্রেভেলের পেটেন্ট করা পদ্ধতিতে ঘরের ভেতরের বায়োরিঅ্যাক্টরে চিনি দিয়ে ফারমেন্টেশনের সঙ্গে আলো যোগ করা হয়; ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাওয়ার জন্য নিরাপদ স্বীকৃত ক্লোরেলা পরিবারের একটি প্রজাতি জিন পরিবর্তন ছাড়াই ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েডসহ মূল্যবান যৌগ তৈরি করে।
প্রথম পণ্য পুরালিস, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ক্লোরোফিলসমৃদ্ধ গাঢ় সবুজ পাউডার, যা খাবার, পানীয় ও সম্পূরকে ব্যবহার হবে। উদ্ভিদকোষ কালচারে উপাদান বানানো প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কারখানা ব্যবহার করতে পারবে। কাছের চিনিকলগুলোর উপজাত দিয়ে চলবে বায়োরিঅ্যাক্টর; দুই প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রাথমিক পরীক্ষায় ফল চমৎকার।
দ্য ওয়েভ গ্রুপের চেয়ারম্যান মনপ্রীত সিং চাড্ডা বলেন, ব্রেভেলের আলোকিত ফারমেন্টেশন আর তাদের চিনি উৎপাদনের দক্ষতা মিলে জৈব উৎপাদনে নতুন যুগ আসছে। ২০১৭ সালে দুই ভাই ইদো ও মাতানকে নিয়ে ব্রেভেল প্রতিষ্ঠা করা প্রধান নির্বাহী ইয়োনাতান গোলান বলেন, এ অংশীদারত্বে পদ্ধতিটি শিল্পের মাত্রায় পৌঁছাবে।
২০২৪ সালে দক্ষিণ ইসরায়েলে ২৭ হাজার বর্গফুটের কারখানা চালু করে ব্রেভেল, যেখানে ৫০, ৫০০ ও ৫ হাজার লিটারের ফারমেন্টারে বছরে কয়েকশ টন উপাদান তৈরি হয়। ২০২৫ সালের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লাখ ডলারের সিড তহবিল তোলে, আর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদকোষ প্রতিষ্ঠান আয়ানা বায়োসহ কয়েকটি অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে। ভারতের চিনিকলের উপজাতের জন্য এ কারখানা খুলছে নতুন ব্যবহারের পথ।
ছবি: NEON_ja / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)