বড়দের হাতে সকালের চায়ের কাপ দেখে শিশুরাও স্বাদ নিতে চায়। কিন্তু চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন শিশুর ঘুম, মনোযোগ ও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই বয়স, পরিমাণ আর সময় বিবেচনা করা দরকার, জানিয়েছে জাগো নিউজ।
ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক, যা চা-কফি ছাড়াও কোলা, চকলেট, কিছু এনার্জি ড্রিংক ও কিছু ওষুধে থাকে। এটি সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমায়, কিন্তু ক্যালসিয়াম বা আয়রনের মতো শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নয়। শিশুর ওজন কম বলে একই পরিমাণ ক্যাফেইন তার ওপর বেশি প্রভাব ফেলতে পারে; বেশি হলে অস্থিরতা, হাত কাঁপা, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, পেটের অস্বস্তি ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় দিনে সর্বোচ্চ ক্যাফেইনের সীমা চার থেকে ছয় বছর বয়সীদের জন্য ৪৫ মিলিগ্রাম, সাত থেকে নয় বছর বয়সীদের ৬২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম আর ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের ৮৫ মিলিগ্রাম। তবে এগুলোকে নিরাপদে পান করার লক্ষ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়; আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস শিশুদের ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।
এক কাপ চায়ে কয়েক দশ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে, কফিতে আরও অনেক বেশি; বড় মগ বা ঘন পানীয়তে মাত্রা আরও বাড়ে। ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থাকে, তাই বিকেল বা সন্ধ্যার চা-কফি রাতের ঘুম পিছিয়ে দিতে বা ঘুমের মান খারাপ করতে পারে। ঘুম কম হলে পড়াশোনায় মনোযোগ, খেলাধুলা আর মেজাজ সামলানো কঠিন হয়; পরীক্ষার আগে জেগে থাকতে কফিও ভালো কৌশল নয়। চা-কফি সরাসরি উচ্চতা কমায়, এমন সিদ্ধান্তের কারণ নেই, তবে নিয়মিত ঘুম নষ্ট হলে সামগ্রিক সুস্থতায় প্রভাব পড়তে পারে।
বিকল্প হিসেবে ছোট শিশুকে পানি ও বয়স অনুযায়ী দুধ দেওয়ার অভ্যাস গড়া ভালো; কিশোরদেরও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় দৈনন্দিন অভ্যাস না করাই শ্রেয়, আর এনার্জি ড্রিংক শিশু-কিশোরদের দেওয়া উচিত নয়। ভেষজ চায়ে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না, তবে লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি।
প্রতিবেদনটি টাইমস অব ইন্ডিয়া ও টাইম ম্যাগাজিনের তথ্য অবলম্বনে।
ছবি: Zubaeer Hasnat Naeem / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)