অপরিপক্ব কলা বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো, ইউরিয়া ফরমালডিহাইডের ড্রামে ভোজ্যতেল রাখা এবং ডাবসহ নিত্যপণ্য বিক্রিতে নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ৩৬টি দল পাইকারি ও খুচরা বাজার, ফলের আড়ত, ভোজ্যতেলের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান পরিদর্শন করে। ডাব-কলা বিক্রেতাসহ ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
কুমিল্লায় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়ার নেতৃত্বে আদর্শ সদর উপজেলার স্টেশন রোড ও রেইসকোর্স এলাকায় অভিযানে অপরিপক্ব কলা বিষাক্ত রাসায়নিকে পাকানোর দায়ে ‘হালিমের কলার আড়ত’কে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রাসায়নিকে পাকানো কলাগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
ঢাকায় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে কারওয়ান বাজারের ডাব ও কলার আড়তে অভিযানে কলা পাকানোর রাসায়নিক মজুত রাখায় একটি আড়তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়।
কারওয়ান বাজার ও কৃষি মার্কেটে খোলা ভোজ্যতেলের বাজারে অস্বাস্থ্যকর, অনিরাপদ ড্রামে তেল রাখা এবং লেবেল না থাকার দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স সততা স্টোরকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে ইউরিয়া ফরমালডিহাইডের ড্রামে রাখা আনুমানিক ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল জনসম্মুখে নষ্ট করা হয়; হেলাল জেনারেল স্টোরকে জরিমানা করা হয় ১০ হাজার টাকা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি সংস্থা মিলে এ অভিযান চালায়।
ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে সাদেক খান কৃষি মার্কেটের ডাবের আড়ত এবং কলেজ গেট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনের ডাবের দোকানে সরবরাহ, কেনাবেচার দাম, পাকা রসিদ ও মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। রসিদ না রাখা, ট্রেড লাইসেন্স না থাকা ও মূল্যতালিকা না টাঙানোর দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে ব্যবসায়ীদের ফল ও খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ দ্রব্য ব্যবহার না করতে, যৌক্তিক দামে বিক্রি, সঠিক ওজন ও রসিদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং মজুতদারি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করতে সতর্ক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
ক্রেতাদের প্রয়োজনের বেশি পণ্য কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখ এবং ওজন যাচাই করে রসিদ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়তি দাম, ভেজাল বা প্রতারণার অভিযোগ জানানো যাবে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের বিশেষ বাজার তদারকি চলবে।
প্রতিবেদনটি জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকের পাঠানো খবর অবলম্বনে লেখা।
ছবি: Kritzolina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); সদরঘাটের বাজারে কলা, প্রতীকী ছবি
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)