সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

খাল খনন-কৃষক কার্ড-ডাটাবেজ নিয়ে কৃষকের পাশে সরকার

ছয় মাস বা ১৮০ দিন পার করে ফেললো তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশ গঠনে বিভিন্ন খাতে নানান উদ্যোগ নিয়েছে তারা। অন্যান্য খাতের মতো কৃষিখাত ও কৃষকের জন্যও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ উল্লেখ করার মতো।

ছয় মাস বা ১৮০ দিন পার করে ফেললো তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশ গঠনে বিভিন্ন খাতে নানান উদ্যোগ নিয়েছে তারা। অন্যান্য খাতের মতো কৃষিখাত ও কৃষকের জন্যও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ উল্লেখ করার মতো।

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কৃষককে সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আনা, কৃষির অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদন বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা।

এর মধ্যে সরকার কৃষক কার্ড প্রবর্তন শুরু করেছে। কৃষকের ডাটাবেজ তৈরি, খাল খনন ও পুনঃখনন এবং বৃক্ষরোপণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। পাশাপাশি শস্যবিমার খসড়া, কীটনাশক ব্যবহারে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ, সার নীতিমালা সংশোধন এবং উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে নতুন প্রকল্প চালু করেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ১৮০ দিনের হিসাবে সবচেয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির একটি খাল খনন ও পুনঃখনন। এ সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খনন বা পুনঃখনন শেষ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

অন্যদিকে কৃষক কার্ডের কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর আওতায় প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সারাদেশের প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে মন্ত্রণালয় সূত্রে।

সরকারের অন্যতম বড় কৃষি উদ্যোগ 'কৃষক কার্ড'। এর মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কৃষকের জমি, উৎপাদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কৃষি উপকরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচ সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এরই মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রাক-পাইলট পর্যায়ে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। ক্রমান্বয়ে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

কৃষির জন্য সেচের পানি নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা কমানো এবং পানি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে খাল খনন ও পুনঃখননকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

জাতীয় পর্যায়ে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষিখাতে ৬ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ১৮০ দিনের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার। এর বিপরীতে এরই মধ্যে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি কাজের গতি আরও বাড়াতে খাল খনন ও পুনঃখননের জন্য পৃথক একটি প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে এ সময়ের মধ্যে।

এসব বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নুরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, '১৮০ দিনে বেশিরভাগ উদ্যোগ বাস্তবায়ন পর্যায়ে, খাল খননে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়েছে। এছাড়া চারা রোপণসহ কৃষকদের সহায়তায় আমরা নানান উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছি।'

কৃষির পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ুর বিষয়টিও অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে রেখেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রথম ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে পাঁচ বছরে মোট ৩ কোটি চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

১৮০ দিনে কৃষিখাতের নীতিগত কাঠামোতেও কয়েকটি পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে শস্যবিমার একটি খসড়া প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই বা অন্যান্য কারণে ফসলের ক্ষতি কমাতে কৃষকের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ক্ষতি কমানোর বিষয়েও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোর ক্ষেত্রে নীতি তৈরি করবেন।

কৃষিখাতে সরকারের আন্তরিকতার প্রকাশ শুরু থেকেই দেখা গেছে। নতুন সরকার হিসেবে কৃষক সহায়তার কার্যক্রমগুলো সন্তোষজনক মনে হয়েছে। কথাটি এখন খুবই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- সরকার জনগণের জন্য ভালো কাজ করতে চায়, এটি মানুষ অনুধাবন করছে। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক।- ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কৃষি অর্থনীতিবিদ

এছাড়া 'সার ডিলার নিয়োগ ও সার ডিলার সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫ (সংশোধিত)' করা হয়েছে। সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং কৃষকের কাছে নির্ধারিত দামে সার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

কৃষির বৈচিত্র্য বাড়াতে উত্তরাঞ্চলে উচ্চমূল্যের বা 'হাই ভ্যালু ক্রপ' উৎপাদনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য পৃথক হাই ভ্যালু ক্রপ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

ধান ও প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বেশি দামের সবজি, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ফসলের বহুমুখীকরণ আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৃষকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগও সরকারের কৃষি কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই।

এরই অংশ হিসেবে গত পাঁচ মাসে সাত লাখের বেশি কৃষকের ৬০০ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)।

পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটে। পেঁয়াজ, মরিচ, আমন, গ্রীষ্মকালীন সবজি এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এই সময়ে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ারফ্লো মেশিন এবং সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের অগ্রগতি হয়েছে।

কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই জায়গায় কৃষিপণ্য ওয়াশিং, প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হলে রপ্তানিকারকদের সময় ও খরচ কমতে পারে।

এরই মধ্যে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় উদ্বোধন করা হয়েছে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) প্ল্যান্ট, যেখানে কোনো ধরনের রাসায়নিক ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের পণ্য শোধন করা যাচ্ছে।

কৃষিখাত নিয়ে সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, 'কৃষিখাতে সরকারের আন্তরিকতার প্রকাশ শুরু থেকেই দেখা গেছে। নতুন সরকার হিসেবে কৃষক সহায়তার কার্যক্রমগুলো সন্তোষজনক মনে হয়েছে।'

'কথাটি এখন খুবই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- সরকার জনগণের জন্য ভালো কাজ করতে চায়, এটি মানুষ অনুধাবন করছে। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক।'

তিনি বলেন, 'তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ছোট কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ ও আসল মওকুফ করেছে। এটি ছোট কৃষকদের জন্য বড় সহায়তা।'

ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, 'এছাড়া এ বছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ যদি সঠিকভাবে ও প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা যায়, তাহলে তারা উপকৃত হবেন, কৃষকের পুঁজি সম্প্রসারিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে কৃষির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।'

আমরা সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পুনঃখনন, কৃষিঋণ মওকুফ, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার (সুনির্দিষ্ট কৃষি), বাণিজ্যিক কৃষি ও কৃষির যান্ত্রিকীকরণ- নির্বাচনি ইশতেহারে কৃষি নিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।- সেলিম খান, সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়

তিনি বলেন, 'দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৃষক কার্ড। ধাপে ধাপে চার বছরে এই কার্ড সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে এবং সব কৃষককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যারা কৃষক কার্ড পাচ্ছেন, তাদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কারণ, কার্ডের মাধ্যমে তারা নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এসবে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে- সরকার তাদের কথা ভাবছে এবং তাদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।'

'আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেচব্যবস্থা। বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে অনেক এলাকায় পানি উত্তোলন নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে সারফেস ওয়াটার বা ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে খাল খনন ও পুনঃখনন, নদী পুনঃখননসহ সরকারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।' যোগ করেন এই কৃষি অর্থনীতিবিদ।

এসব বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম খান জাগো নিউজকে বলেন, 'আমরা সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পুনঃখনন, কৃষিঋণ মওকুফ, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার (সুনির্দিষ্ট কৃষি), বাণিজ্যিক কৃষি ও কৃষির যান্ত্রিকীকরণ- নির্বাচনি ইশতেহারে কৃষি নিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।'

তিনি বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম ১৮০ দিনের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, আমরা তা পূরণ করেছি। এখন আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনি ইশতেহারের বাকি বিষয়গুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।'

সেলিম খান আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে চান। সে লক্ষ্যেই নির্বাচনি ইশতেহারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, তা সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।'

কৃষি সচিব বলেন, 'কৃষক ও কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য আমাদের রয়েছে। এজন্য কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার (সুনির্দিষ্ট কৃষি), আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং ক্রপিং জোনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।'

'একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এসব সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সবমিলিয়ে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বাণিজ্যিকভাবে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।' যোগ করেন কৃষি সচিব সেলিম খান।

এনএইচ/ইএ/এমএমএআর/ এমএফএ

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জমির সিদ্ধান্তের ভার পেয়ে তুলার ফলন সাত গুণ করলেন মহারাষ্ট্রের সুনীতা

একসময় দিনমজুরি করা, পরিবারের ১২ একর জমি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার না থাকা মহারাষ্ট্রের পাচোদ গ্রামের সুনীতা নেহারে এখন খামার চালান; মাটি ও পানি সংরক্ষণে একরপ্রতি তুলার ফলন প্রায় ১ থেকে বাড়িয়েছেন ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টালে।

ডাউন টু আর্থ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)