চাকরি খুঁজে না পেয়ে ২০১৯ সালে করোনার সময় মায়ের কাছ থেকে নেওয়া ১০ হাজার টাকায় লাচ্ছা সেমাই বানিয়েছিলেন বগুড়ার এস এ জাহিদ। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর এক দিনেই অনলাইনে বিক্রি হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার সেমাই। প্রতিদিনের বাংলাদেশ জানিয়েছে, সেই ঘটনার পর কৃষিপণ্যের ব্যবসায় নেমে এখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়, কাজ করেন শতাধিক নারী-পুরুষ।
জয়পুরহাটে জন্ম নেওয়া জাহিদ বগুড়ায় বড় হয়েছেন; ২০১৪ সালে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি। বগুড়ার লাল মরিচ ও সরিষার তেলের চাহিদা কাজে লাগিয়ে প্রথমে অন্যদের কাছ থেকে পণ্য কিনে অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন, পরে নিজেই উৎপাদনে নামেন: সরিষার তেল, মরিচের গুঁড়া, ঘি ও নানা মসলা।
শাজাহানপুর উপজেলার নন্দকুলে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র। সেখানে পুকুরে দেশি মাছ চাষ হয়, পালন করা হয় গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি, উৎপাদন হয় দেশি শাকসবজি ও ফল। খামারের গোবর থেকে বানানো হয় জৈব সার। বিক্রির জন্য চালু করেছেন একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও 'ইনটেক এগ্রো' নামের মোবাইল অ্যাপ।
জাহিদ বলেন, 'আমি জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে এক মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আগে অন্যদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করতাম, এখন নিজেই উৎপাদন করছি। নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাবার ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।' সীমিত মুনাফায় বেশি বিক্রির নীতিতে চলেন তিনি; সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে মুনাফা থাকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবসে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সফল আত্মকর্মী শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম পুরস্কার পান জাহিদ। আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে নিজের উদ্যোগে এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করতে চান তিনি।
ছবি: Christopher Macsurak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)