দক্ষিণাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী, সারা বছর চাষ করা যায় এমন উচ্চফলনশীল মিষ্টি কুমড়ার একটি নতুন হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা। পটুয়াখালীর লেবুখালীতে বারির আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে পাঁচ বছরের গবেষণায় এ সাফল্য এসেছে। জাতটিকে ‘বারি হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া ৪’ নামে অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সমস্যাটা ছিল সাধারণ মিষ্টি কুমড়ার পাতলা শাঁস আর বড় বীজগহ্বর। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাসিরা আক্তার জানান, ২০২০ সালে কাজ শুরুর সময় লক্ষ্য ছিল এমন জাত, যাতে ফল বেশি ধরবে কিন্তু প্রতিটি কুমড়া তুলনামূলক ছোট হবে। নতুন জাতে বীজের গহ্বর ছোট রেখে শাঁস উল্লেখযোগ্যভাবে পুরু ও স্বাদ মিষ্টি করা হয়েছে।
পদ্ধতি হিসেবে ছয়টি প্রজনন লাইন নিয়ে হাফ ডায়ালিল পদ্ধতিতে ১৫টি সংকরায়ন করা হয়, যার ১৪টিতে সফল বীজ মেলে। পরের বছর মাঠে ফলের সংখ্যা, মিষ্টতা ও আকার দেখে ‘বি ক্রস ই’ ও ‘বি ক্রস ডি’ লাইন বাছাই করা হয়। প্রচলিত বাণিজ্যিক জাত ‘সুইটি’র সঙ্গে তুলনায় নতুন লাইনটি মাঠে অনেক বেশি ফলন দিয়েছে। এরপর তিন বছর সারা দেশে আঞ্চলিক ট্রায়ালে সফল হওয়ার পর ‘বি ক্রস ই’ লাইনটিই অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।
পরিবারের চাহিদা মাথায় রেখে প্রতিটি কুমড়ার গড় ওজন রাখা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার কেজি, যা সাধারণ ক্রেতার কাছে জনপ্রিয় হবে বলে গবেষকদের ধারণা।
কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, জাতটি অবমুক্ত হলে সবজি চাষে বড় পরিবর্তন আসবে; বিশেষ করে গ্রীষ্মে বাজারে সবজির সরবরাহ যখন কম থাকে, তখন এই কুমড়া চাষ করে কৃষক বাড়তি লাভ করতে পারবেন। কৃষকের কাছে বীজ পৌঁছাতে গবেষণা কেন্দ্রে মাচা তৈরি করে বীজ উৎপাদনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে; অনুমোদন মিললে দ্রুতই মাঠে বীজ সরবরাহ করা যাবে বলে আশা।
প্রতিবেদনের তথ্য: কৃষি ডেস্ক, দিনাজপুর টিভি
ছবি: BotBln / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)