অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সিএসআইআরও (CSIRO) খামারে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর প্রায় ৮০টি প্রযুক্তি মূল্যায়ন করে ২০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশটির কৃষি বিভাগের অনুরোধে করা এই মূল্যায়নে ছয়টি খাত দেখা হয়েছে: গরু-ভেড়ার মাংস, দুগ্ধ, মাঠফসল, উদ্যানফসল, শূকর ও পোলট্রি। খবরটি দিয়েছে বিফ সেন্ট্রাল।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খাদ্য সম্পূরক থেকে শুরু করে পরীক্ষাধীন মিথেনরোধী টিকা পর্যন্ত সম্ভাবনাময় বিকল্প বাড়ছে। কিন্তু কোনো প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা দিয়ে বোঝা যায় না কৃষক সেটি নেবেন কি না। খরচ, বিনিয়োগের ফেরত, ব্যবহারের সহজতা, পৌঁছানোর ব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বাজারমূল্যই গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি ঠিক করে।
বিস্তীর্ণ চারণভূমিতে চরা গরু-ভেড়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো পণ্যটি নিয়মিত ও কম খরচে পশুর কাছে পৌঁছানো এবং তা কাজ করছে কি না প্রমাণ করা। প্রতিবেদন সতর্ক করেছে, পৌঁছানো এবং পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাইয়ের সমাধান না হলে খুব কার্যকর মিথেনরোধী প্রযুক্তিও কেবল নিবিড় খামারেই আটকে থাকবে। অ্যাসপারাগোপসিস সামুদ্রিক শৈবাল বা রসুন ও লেবুজাতীয় নির্যাসের মতো বেশির ভাগ মিথেন প্রতিরোধক বর্তমান চারণ-অর্থনীতিতে বাড়তি দাম, ক্রয়চুক্তি, জ্বালানি আয় বা কার্বন ক্রেডিট ছাড়া নিজের খরচ তোলে না। অন্যদিকে পাল ব্যবস্থাপনা, চারণভিত্তিক উদ্ভিজ্জ যৌগ ও বাছাই প্রজননে লাভ ইতিবাচক বা প্রায় সমান।
গবাদিপশুর মিথেন কমানোর ১৯টি প্রযুক্তির মধ্যে আগামী ১০ বছরে বড় প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা দেখা গেছে কেবল দুটির: কম মিথেন নিঃসরণকারী পশুর বাছাই প্রজনন এবং মিথেন উৎপাদনকারী জীবাণুবিরোধী টিকা, যা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। প্রতিবেদনের যৌথ প্রধান লেখক ড. পিট লিথ (Peat Leith) বলেন, অস্ট্রেলিয়ার নানা ধরনের খামারব্যবস্থায় কোনো একক প্রযুক্তি নিঃসরণ কমাতে পারবে না। আরেক লেখক ড. মাইকেল বাটাগ্লিয়া (Michael Battaglia) বলেন, সমাধানকে বাস্তবসম্মত, বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় ও বাজারের কাছে মূল্যবান হতে হবে, তবেই উৎপাদক তা গ্রহণ করবেন।
প্রতিবেদন আরও বলছে, অর্থনীতির অন্য খাত নিঃসরণ কমালে জাতীয় নিঃসরণে কৃষির অংশ বাড়বে, আর ক্রেতা ও অর্থায়নকারীরা সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিবেদন নিয়মের কারণে খামারের চেয়ে দ্রুত এগোচ্ছে। ২০৩০ পর্যন্ত, ২০৩০-২০৩৫ এবং ২০৩৫-পরবর্তী, এই তিন ধাপে করণীয় প্রস্তাব করা হয়েছে; ২০৩০ পর্যন্ত মূল মনোযোগ বড় হ্রাসের চেয়ে ব্যবস্থা প্রস্তুত করায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন জন কনডন (Jon Condon)।
ছবি: Scott Bauer, USDA Agricultural Research Service / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: বিফ সেন্ট্রাল




মন্তব্য
(০)