কক্সবাজারের রামু উপজেলার পাহাড়ঘেরা ঈদগড় ইউনিয়নের মইত্তাতলী এলাকায় ২০২৫ সালের ১৭ জুন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি বসতবাড়িতে বন্যহাতি হামলা চালায়। এতে ওই এলাকার আমির হামজার দেড় বছরের ছেলে মারা যায় এবং তাঁর ১০ বছরের মেয়ে আহত হয়। জাগো নিউজ ২৪ ও প্রথম আলো ১৮ জুন এ খবর প্রকাশ করে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রাত একটার দিকে।
যেভাবে ঘটে হামলা
ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দিন জানান, রাতে বন্যহাতির একটি পাল এলাকায় ঢোকে। চলার পথে একটি হাতি আমির হামজার বাড়িতে হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যরা ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের দুই শিশু হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয় লোকজন হাতি তাড়িয়ে আহত শিশু দুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ছেলেটির অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বুধবার চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বন বিভাগের ভাষ্য ও ক্ষতিপূরণের বিধান
খবর পেয়ে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌকির হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রথম আলোর কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জাগো নিউজকে জানান, আবেদনের ভিত্তিতে বন বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় ২০২১ সালের মার্চে জারি হওয়া ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা-২০২১’ অনুযায়ী বাঘ, হাতি, কুমির বা ভাল্লুকের আক্রমণে কারও মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পায়। গুরুতর আহত হলে অনধিক এক লাখ টাকা এবং লোকালয়ে সম্পদের ক্ষতি হলে অনধিক ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ জন্য সরকারের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়; পরে সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ঠিক করে। বাংলা ট্রিবিউন ২০২১ সালের ২৫ মার্চ বিধিমালাটির এসব বিধান তুলে ধরে।

কক্সবাজারের বনে হাতির চলাচল ও খাদ্যসংকট
রামু কক্সবাজার জেলার একটি উপজেলা; আয়তন ৩৯১ দশমিক ৭১ বর্গকিলোমিটার। ঈদগড় এই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের একটি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৫।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল মেয়াদে বাংলাদেশে হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করতে একটি সমীক্ষা চালায়। ‘অ্যাটলাস: এলিফ্যান্ট রুটস অ্যান্ড করিডোরস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই সমীক্ষায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১২টি করিডোর শনাক্ত হয়, যার ৮টি কক্সবাজার অঞ্চলে। ঈদগড় সড়কের পাশের ভোমরিয়াঘোনা সংরক্ষিত বন এশীয় হাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের ক্ষেত্র। ২০২৫ সালের ৭ জুন প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বনের ভেতরে খাদ্যের উৎস কমে যাওয়ায় হাতির পাল প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে; এতে ফসল ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, কখনো কখনো প্রাণহানিও ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের তথ্য উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, একটি এশীয় হাতি প্রতিদিন প্রায় ১৫০ কেজি লতাপাতা, ঘাস, নলখাগড়া ও গাছের ছাল খায় এবং ১৪০ লিটার পানি পান করে। এশীয় হাতি (Elephas maximus) ১৯৮৬ সাল থেকে আইইউসিএনের লাল তালিকায় বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত।

ছবি: Rifatwm / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)