বরগুনার তালতলী উপকূলের বঙ্গোপসাগরে ২০২৬ সালের ৭ জুলাই, মঙ্গলবার, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এফবি মহিমা নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইঞ্জিন বিকল হওয়া আরেকটি ট্রলারের জেলেদের সাহায্য করে তীরে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারে থাকা ১৮ জেলের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়; নিখোঁজ ছিলেন তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের দুই জেলে কালাম ও শহীদ। ৮ জুলাই, বুধবার দুপুরে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।
বিকল ট্রলারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা
ট্রলারের মালিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জাগো নিউজ জানায়, ৭ জুলাই ভোর রাতে তালতলীর ফকিরহাট এলাকার সকিনা ঘাট থেকে ১০ থেকে ১৫টি ট্রলার একসঙ্গে ইলিশ ধরতে সাগরে যায়। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে একটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। সাহায্য করতে এফবি মহিমা সেখানে গেলে বিকল ট্রলারের পাঁচ জেলে এতে ওঠেন এবং জাল তুলতে সেখানে থেকে যান। উত্তাল ঢেউ আর খারাপ আবহাওয়ায় বিকল ট্রলারসহ বাকি সব ট্রলার নিরাপদে ফিরে এলেও এফবি মহিমা ফেরেনি। তীরে ফেরা জেলেরা ট্রলারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পান।
অন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিবরণ কিছুটা আলাদা ছিল। দেশ রূপান্তর ও দৈনিক ইনকিলাব জানায়, তপন জমাদার ও আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন দুটি ট্রলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাত ৮টার দিকে ডুবে যায়; একটি ডুবে যাওয়ার পর তার জেলেরা অন্যটিতে উঠলে সেটিও উত্তাল ঢেউয়ে ডুবে যায়।
সব প্রতিবেদনেই বলা হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাগরে ভাসতে থাকা জেলেদের অন্য মাছ ধরার ট্রলার উদ্ধার করে। জাগো নিউজের হিসাবে একটি ট্রলার ১২ জনকে এবং আরেকটি ট্রলার ৪ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পটুয়াখালীর মহিপুরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

বৈরী আবহাওয়ায় আটকে ছিল তল্লাশি
দুর্ঘটনার আগের দিন, ৬ জুলাই, আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলে। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওড়িশা ও দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় থাকা মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা ছিল, এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছিল।
বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, 'আমাদের পক্ষ থেকে নিখোঁজ জেলেদের খোঁজার জন্য দুটি ট্রলার প্রস্তুত করেছি। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই মুহূর্তে সাগরে কোনো ট্রলার পাঠানো যাচ্ছে না।'
ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, 'সাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হওয়া ১৮ জেলের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ দুই জেলের বিষয়ে কোস্ট গার্ডকে অবগত করা হয়েছে। তারা জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।' দেশ রূপান্তর ও ইনকিলাবের প্রতিবেদনে তালতলী কোস্টগার্ডের কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে তল্লাশি শুরু করা যায়নি; আবহাওয়া ভালো হলে অভিযান চলবে।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ মৌসুম
দুর্ঘটনাটি ঘটে সাগরে মাছ ধরার মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর। বাসস জানায়, প্রজনন, উৎপাদন ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রেখেছিল। নিষেধাজ্ঞার পর জুলাইয়ে বর্ষার উত্তাল সাগরেই উপকূলের জেলেরা ইলিশ ধরতে নামেন।

ছবি: Shafiul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দেশ রূপান্তর, দৈনিক ইনকিলাব, খবর সংযোগ, বাসস





মন্তব্য
(০)