সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের জমিতে আম, কাজুবাদাম ও কফির বাগান

বেশি লাভ, বাজারের চাহিদা ও সরকারি সহায়তায় বান্দরবানের পাহাড়ি কৃষকেরা জুম কমিয়ে ফলবাগানে ঝুঁকছিলেন; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে সদর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফলবাগান ছিল ৫ হাজার ৩০২ হেক্টরে, জুম ১৫৫ হেক্টরে।

বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের জমিতে আম, কাজুবাদাম ও কফির বাগান
ফল

বান্দরবানের পাহাড়ে যেখানে একসময় জুম চাষের জন্য ঢাল পরিষ্কার করা হতো, সেখানে এখন সারি সারি আম, কাজুবাদাম, কফি, বরই, মাল্টা ও ড্রাগন ফলের গাছ। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ২৭ জুন এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, বেশি লাভ, বাজারে বাড়তে থাকা চাহিদা ও সরকারি সহায়তার কারণে জেলার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অনেক কৃষক জুম কমিয়ে বাণিজ্যিক ফল চাষে ঝুঁকছিলেন।

জুম কী, কেন সরে আসছিলেন কৃষকেরা


জুম পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রচলিত স্থানান্তরিত চাষ, যাতে বন কেটে পুড়িয়ে জমি তৈরি করা হয়। সাধারণত জানুয়ারিতে জঙ্গল কাটা হয়, শুকানোর পর মার্চ-এপ্রিলে পোড়ানো হয় এবং মে মাসের দিকে গর্ত করে একই জমিতে ধান, মিষ্টিকুমড়া, তুলা, তিল ও ভুট্টাসহ নানা ফসলের বীজ বোনা হয়। চাষের পর জমি পতিত রেখে উর্বরতা ফেরানোর সময় দেওয়া হয়; সেই বিরতি প্রথাগত দশ বছর থেকে কমে দুই-তিন বছরে নেমেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ছোট বিরতির এই জুম ভূমিক্ষয়, মাটির অবনতি ও বন উজাড় বাড়িয়েছে বলে বিবেচিত।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, জুম প্রকৃতিনির্ভর বলে প্রায়ই কাঙ্ক্ষিত ফলন মেলে না, অথচ একবার দাঁড় করানো ফলবাগান বছরের পর বছর আয় দেয়।

বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার একটি; আয়তন ৪,৪৭৯.০৩ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮১ হাজার ১০৬। প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলার সাত উপজেলা, সদর, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড় ও সমতলে তখন কাজুবাদাম, কফি, আম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, মাল্টা, কমলা, লেবু ও পেয়ারার বাগান চোখে পড়ত।

সদর উপজেলায় ফলবাগানের আয়তন বেড়েছে প্রতিবছর


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য উদ্ধৃত করে জাগো নিউজ জানায়, বান্দরবান সদর উপজেলায় অর্থবছরভিত্তিক জুম ও ফলবাগানের আয়তন ছিল এ রকম:

  • ২০২১-২২: জুম ১৭২ হেক্টর, ফলবাগান ৪,৫৮৩ হেক্টর
  • ২০২২-২৩: জুম ১৬৩ হেক্টর, ফলবাগান ৪,৯৮৪ হেক্টর
  • ২০২৩-২৪: জুম ১৪০ হেক্টর, ফলবাগান ৫,০০৭ হেক্টর
  • ২০২৪-২৫: জুম ১৪৫ হেক্টর, ফলবাগান ৫,১১৪ হেক্টর
  • ২০২৫-২৬: জুম ১৫৫ হেক্টর, ফলবাগান ৫,৩০২ হেক্টর

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, "বান্দরবানের পাহাড়ি জলবায়ু ও মাটি বিভিন্ন ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের চারা বিতরণ এবং নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ফল উৎপাদন ও চাষের পরিধি প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে।" তিনি জানান, জুমচাষিদের পরামর্শের পাশাপাশি প্রণোদনা সহায়তাও দেওয়া হয়। জেলা ডিএইর উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী কাজু, কফি, আম, বরই ও অ্যাভোকাডোর মতো উচ্চমূল্যের ফলের পাশাপাশি ড্রাগন ফল, মাল্টা ও কমলার আবাদও দ্রুত বাড়ছিল, আর এসব ফল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য অঞ্চলেও যাচ্ছিল। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জুম থেকে ফলভিত্তিক কৃষিতে এই রূপান্তর আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ের মাটির ক্ষয় রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখছিল।

গাছে কফির ফল (ভারতের কেরালার ওয়েনাড)। বান্দরবানের বাগানে চন্দ্রগিরি জাতের কফিও লাগানো হয়েছে। ছবি: Satheesan.vn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
গাছে কফির ফল (ভারতের কেরালার ওয়েনাড)। বান্দরবানের বাগানে চন্দ্রগিরি জাতের কফিও লাগানো হয়েছে। ছবি: Satheesan.vn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

চাষিদের অভিজ্ঞতা


চিম্বুকের ১২ মাইল এলাকার চাষি ঙই ম্রো জানান, তিন বছর আগে তিনি সেখানে ১০ একর জমিতে জুম করেছিলেন। তাতে ৩০০ আঁড়ি (প্রতি আঁড়িতে ১০ কেজি) ধানের সঙ্গে অন্যান্য সাথী ফসল মিলত, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। পরে ওই জমির ৩ একরে তিনি আম, জাম্বুরা ও চন্দ্রগিরি জাতের কফি লাগান। এখন এসব ফল বিক্রি করে বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়। ছবি: Sabilaenun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়। ছবি: Sabilaenun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সদর উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা দিপ্তিময় তঞ্চঙ্গ্যা জানান, যে পৈতৃক জমিতে আগে শুধু জুম হতো, দুই বছর আগে তার পাঁচ একরে তিনি বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি জাতের ৯৫০টি বরইয়ের কলম চারা লাগান। কলমের চারা হওয়ায় প্রথম বছরেই ফল আসে; সে বছর আড়াই লাখ টাকা খরচ করে তিনি ৬ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেন। পরের বছর আরও ৮৫০টি বলসুন্দরী চারা লাগান। ওই পাঁচ একরে এখন ১ হাজার ৮০০-র বেশি বরইগাছ রয়েছে।

বলিপাড়া ইউনিয়নের বাজেরুং ত্রিপুরা আগে শুধু জুম করতেন। তিনি জানান, জুমের একাংশে লাগানো ৮০০ কাজুবাদাম গাছ থেকে এক বছর ২০ মণ এবং পরের বছর ৪০ মণ কাজুবাদাম বিক্রি করেছেন।

থানচি উপজেলা সদরের দিংতে পাড়ার রিংয়িং ম্রো ২০১০ সালে জুমের ৫ একর জমিতে প্রায় দেড় হাজার কাজুবাদাম গাছ লাগান। ২০২৬ সালে ওই বাগান থেকে প্রায় ১৫০ মণ কাজুবাদাম বিক্রি করেছেন বলে তিনি জানান। এখন তিনি জুমের পাশাপাশি ফলবাগানও করছেন।

কাজুবাদামের (Anacardium occidentale) আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডল। প্রচলিত জাতের গাছে রোপণের তিন বছর পর ফলন শুরু হয়, আর বামন জাত প্রথম বছরের পর থেকেই ফল দেয়।

দীপ্ত এগ্রোর মালিক ইফতেখার সেলিম অগ্নি জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়া এলাকায় ১০০ একর জমি ইজারা নিয়ে তিনি মাল্টা, কমলা, অ্যাভোকাডো, বারোমাসি সজনে, কাজুবাদাম ও চুইঝালসহ নানা ফসল লাগিয়েছেন। চার বছর আগে লাগানো এসব গাছের বেশির ভাগে ফল ধরতে শুরু করেছে।

গাছে ঝুলছে কাজুবাদাম ও কাজু আপেল (ভারতের কান্নুর)। ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
গাছে ঝুলছে কাজুবাদাম ও কাজু আপেল (ভারতের কান্নুর)। ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ছবি: MOHAMMAD SHAJAHAN Bangladesh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, উইকিপিডিয়া (জুম চাষ, বান্দরবান জেলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কাজুবাদাম)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)