গাজীপুরের সালনায় অবস্থিত গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি), যার আগের নাম ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জানায় যে তাদের গবেষকেরা সয়াবিনের নতুন জাত ‘জিএইউ সয়াবিন ৬’ উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষায়, এটি দেশে প্রথমবারের মতো উদ্ভাবিত উচ্চ খরা সহনশীল সয়াবিনের ইনব্রিড জাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের কৃষিতত্ত্ববিদ প্রফেসর ড. এম এ মান্নানের নেতৃত্বে প্রায় এক দশকের গবেষণার ফল এই জাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এর মাধ্যমে গাকৃবির উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা ৯৪টিতে পৌঁছেছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ঘোষণা প্রকাশ করে। এরপর ১ মার্চ জাগো নিউজ গাজীপুর থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে জানানো হয়, জাতটি কীভাবে বাছাই করা হয়েছে, উপকূলীয় জেলাগুলোতে কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং শুকনা জমি ও মেঘনার চরাঞ্চলে এটি কী করতে পারে বলে উদ্ভাবকেরা মনে করেন।
২৫০টি জার্মপ্লাজম থেকে ‘জি০০০৫৬’
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাত উন্নয়নের কাজ শুরু হয় প্রায় ২৫০টি সয়াবিন জার্মপ্লাজম দিয়ে। এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল তিনটি উৎস থেকে: তাইওয়ানের এশিয়ান ভেজিটেবল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এবং দক্ষিণ কোরিয়া। গবেষকেরা তিন বছর ধরে এসব জার্মপ্লাজম কঠোরভাবে পরীক্ষা করেন। তাতে ‘জি০০০৫৬’ নামের জার্মপ্লাজমটি খরা সহনশীল হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপর সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সহায়তায় মেঘনা মোহনার তিন উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলায় পাঁচ বছর ধরে মাঠপর্যায়ে এর মূল্যায়ন চলে। এই মূল্যায়নের সাফল্যের ভিত্তিতে জাতীয় বীজ বোর্ড ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর জাতটির আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র দেয়।
দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জিএইউ সয়াবিন ৬-এর একটি খেতের ছবি প্রকাশ করে। ছবির বিবরণে পত্রিকাটিও জানায়, জাতীয় বীজ বোর্ড ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর জাতটি অনুমোদন করেছে। জাগো নিউজ ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস দুটিই জাতটিকে ইনব্রিড জাত বলেছে। একই ঘোষণা নিয়ে ইউএনবির ইংরেজি প্রতিবেদনে একে হাইব্রিড বলা হয়েছিল। তবে বাংলা প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিবরণ এসেছে এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ছবির বিবরণ, দুই জায়গাতেই ‘ইনব্রিড’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
যে জার্মপ্লাজম থেকে নতুন জাতটি এসেছে, সেটি আগেই কৃষিতত্ত্ব বিভাগের গবেষণার নথিতে জায়গা পেয়েছিল। বিভাগের গবেষণা সাফল্যবিষয়ক পাতায় বলা হয়েছে, বিভাগের সদস্যরা ধান, মুগ, ছোলা, সয়াবিন, ঝাড়শিম, অড়হর, সরগাম, মসুর, তুলা ও ফেলনের এক হাজারের বেশি জিনোটাইপ সংগ্রহ করে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততার বিপরীতে মূল্যায়ন করেছেন। সেখানে খরা সহনশীল হিসেবে পাওয়া জিনোটাইপগুলোর তালিকায় সয়াবিনের ‘জি০০০৫৬’ আছে। একই তালিকায় আছে ছোলার জাত বিইউ ছোলা ১, ঝাড়শিমের বিবি ০২৪, বিইউ সয়াবিন ২ ও বিইউ মুগ ২। বিভাগের অবমুক্ত জাতের তালিকাতেও জিএইউ সয়াবিন ৬-কে উচ্চফলনশীল, বড় দানার ও খরা সহনশীল সয়াবিন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
উদ্ভাবকদের ভাষায় জিএইউ সয়াবিন ৬-এর বৈশিষ্ট্য
প্রফেসর মান্নান জাগো নিউজকে জানান, মাটিতে ফিল্ড ক্যাপাসিটির মাত্র শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ আর্দ্রতা থাকে, এমন কঠিন খরা পরিস্থিতিতেও টিকে থেকে উচ্চ ফলন দেওয়ার বিরল সক্ষমতা আছে জাতটির। তাঁর মতে, কৃষির ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি ব্যতিক্রমী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ উপকূলীয় চরাঞ্চলে সয়াবিন চাষের যেসব সীমাবদ্ধতা আছে, এ জাত তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম।
তিনি জাতটির ফলনসংক্রান্ত যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলেন, সেগুলো হলো: প্রতিটি গাছে ৮০ থেকে ১০০টি ফল বা শুঁটি ধরে। দানা বড় হওয়ায় এক হাজার বীজের ওজন প্রায় ২৩০ গ্রাম। সাধারণ জাতের তুলনায় বেশি ফলন দেওয়ার সক্ষমতা থাকায় হেক্টরপ্রতি অনায়াসে ৩ দশমিক ২ থেকে ৩ দশমিক ৮ টন ফলন পাওয়া যায়। জাতটি তুলনামূলক কম সময়ে পাকে: তিন মাস থেকে তিন মাস ১০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়। তাঁর মতে, এতে অল্প সময়ে বেশি ফলন পেয়ে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন।
জাতটির আরেকটি বৈশিষ্ট্যের ওপর তিনি জোর দেন, তা হলো বীজে ট্রিপসিনের মাত্রা কম থাকা। প্রফেসর মান্নানের ভাষ্য, ট্রিপসিনের মাত্রা কম থাকায় পোলট্রি খাদ্যে ব্যবহার করলে প্রোটিন শোষণের হার বাড়ে, তাই জাতটি পোলট্রি শিল্পের জন্য বিশেষ উপযোগী। সাধারণভাবে সয়াবিনকে তিনি পুষ্টির শক্তিশালী ভান্ডার বলে বর্ণনা করেন। তাঁর হিসাবে, এতে আছে শতকরা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ উচ্চমানের প্রোটিন ও শতকরা ১৮ থেকে ২০ ভাগ তেল, আর আছে অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ।
সার্বিক বিষয়ে ড. মান্নান বলেন, ‘জিএইউ সয়াবিন ৬ জাতটি আমাদের দীর্ঘ নিরলস গবেষণা, মাঠের রোদ-বৃষ্টি আর কৃষকের স্বপ্নের সম্মিলিত ফসল। উপকূলীয় চরাঞ্চলের লবণাক্ততা, অনাবৃষ্টি ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার যে কঠিন বাস্তবতা; এই জাত সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ ফলপ্রসূ। খরাপ্রবণ জমিতে সয়াবিন চাষ এতদিন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ জাত সেই অনিশ্চয়তা ভেঙে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।’

‘ফিল্ড ক্যাপাসিটির ৫০ থেকে ৬০ ভাগ’ বলতে কী বোঝায়
ফিল্ড ক্যাপাসিটি মাটির আর্দ্রতা মাপার একটি প্রচলিত মানদণ্ড। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) তাদের সেচ পানি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালে বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করেছে: ভারী বৃষ্টি বা সেচের পর মাটির বড় ছিদ্রগুলোর পানি নিচের দিকে নেমে যায় এবং সেখানে বাতাস ঢোকে। এই নিষ্কাশন থেমে গেলে বড় ছিদ্রে বাতাস ও পানি দুটোই থাকে, আর ছোট ছিদ্রগুলো তখনো পানিতে ভরা থাকে। মাটির এই অবস্থাকেই ফিল্ড ক্যাপাসিটি বলা হয়। এফএওর ম্যানুয়াল অনুযায়ী, এ অবস্থায় মাটির পানি ও বাতাসের পরিমাণ ফসল বৃদ্ধির জন্য আদর্শ বলে বিবেচিত হয়।
গাছ পানি টেনে নিতে থাকলে এবং ওপরের মাটি শুকাতে থাকলে মাটি ধীরে ধীরে স্থায়ী নেতিয়ে পড়ার বিন্দুর (পার্মানেন্ট উইল্টিং পয়েন্ট) দিকে যায়। তখন যে পানি অবশিষ্ট থাকে, তা মাটি এত শক্তভাবে ধরে রাখে যে শিকড় আর তা টানতে পারে না। এফএওর ম্যানুয়াল অনুযায়ী, গাছের জন্য প্রাপ্য পানি হলো ফিল্ড ক্যাপাসিটিতে মাটিতে থাকা পানি থেকে স্থায়ী নেতিয়ে পড়ার বিন্দুতে অবশিষ্ট পানি বাদ দিলে যা থাকে। এই প্রাপ্য পানি মাটির বুনটের ওপর অনেকখানি নির্ভর করে: বেলে মাটিতে প্রতি মিটার গভীরতায় প্রায় ২৫ থেকে ১০০ মিলিমিটার, দোআঁশে ১০০ থেকে ১৭৫ এবং এঁটেল মাটিতে ১৭৫ থেকে ২৫০ মিলিমিটার। কাজেই মাটিতে ফিল্ড ক্যাপাসিটির মাত্র শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ আর্দ্রতা থাকা অবস্থায় যে সয়াবিন ফলন দিয়ে যায়, সেটি আদর্শ মাত্রার চেয়ে অনেক কম পানিতেও টিকে থাকতে পারে।
এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রকাশিত জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খরার সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে: স্বাভাবিক ফসল মৌসুমে সন্তোষজনক ফসল বৃদ্ধির জন্য যতটুকু আর্দ্রতা দরকার, মাটিতে তার চেয়ে কম আর্দ্রতা থাকার সময়কাল। বাংলাপিডিয়া জানায়, দেশের উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলোতে, বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা সাধারণ ঘটনা। তবে যেসব এলাকায় সাধারণত পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়, সেখানেও খরা দেখা দিতে পারে। খরার তীব্রতাভেদে বিভিন্ন ফসলের ফলন ১০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে বাংলাপিডিয়ার হিসাব। ফসল বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলোতে বিবেচনার সঙ্গে সীমিত সেচ দিলে এই ক্ষতি অনেকখানি কমানো যায়।
কম ট্রিপসিন আর পশুখাদ্য শিল্প
ট্রিপসিন হজমে সহায়ক একটি এনজাইম। কাঁচা সয়াবিনে এমন কিছু প্রোটিন থাকে, যা এই এনজাইমের কাজে বাধা দেয়। ক্রিস্টিনা টাকাচ ও তাঁর সহকর্মীদের একটি সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণা ২০২২ সালের জুনে জার্নাল অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়েছে, সয়াবিনের প্রধান প্রোটিয়েজ প্রতিরোধকগুলো কুনিৎস (কেটিআই) ও বোম্যান-বার্ক (বিবিআই) পরিবারের। লেখকদের মতে, এই পুষ্টিবিরোধী উপাদানগুলো খাদ্যের প্রোটিন হজম ও শোষণে বাধা দেয় এবং প্রাণীর বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। ইঁদুরজাতীয় প্রাণী ও পাখির ক্ষেত্রে কেটিআই ও বিবিআইয়ের কারণে অগ্ন্যাশয় বড় হয়ে যাওয়া এবং হজমের এনজাইম অতিরিক্ত নিঃসরণের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
একই গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব উপাদান নিষ্ক্রিয় করতে সাধারণত যে তাপ প্রয়োগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেমন গরম বাতাসে শুকানো বা ভাজা, তাতে ১০০ থেকে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট ধরে রাখতে হয়। কারণ ট্রিপসিন প্রতিরোধকগুলো তাপে সহজে নষ্ট হয় না। আবার দীর্ঘ সময় তাপ দেওয়ারও নিজস্ব অসুবিধা আছে। লেখকেরা লিখেছেন, কুনিৎস প্রতিরোধক কম থাকা সয়াবিন জাত ব্যবহার করলে তাপ প্রয়োগের খরচ বাঁচানো যায় এবং টেকসই উৎপাদনও বাড়ে। কম ট্রিপসিনের সয়াবিন পোলট্রি খাদ্যের জন্য বেশি উপযোগী, প্রফেসর মান্নানের এই বক্তব্যের পটভূমি এটিই।
দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের বেশির ভাগই যায় পশুখাদ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) বাংলাদেশবিষয়ক তেলবীজ ও তেলবীজজাত পণ্যের বার্ষিক প্রতিবেদন নিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ দ্য ডেইলি স্টার লেখে, সয়াবিন মিল দেশের পোলট্রি ও মাছের খাদ্যশিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান এবং মোট পশুখাদ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহার করে পোলট্রি খামার। পত্রিকাটির সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে উৎপাদিত সয়াবিন মূলত পশুখাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়; মান ও তেলের পরিমাণ কম হওয়ায় তা তেল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় না। দেশে উৎপাদিত সয়াবিন দিয়ে সয়ামিল ও ভোজ্যতেলের চাহিদার মাত্র ৭ শতাংশ মেটে। ২০২৪-২৫ বিপণন বছরে বাংলাদেশ ২২ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করে, যার অর্ধেক এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং এক-তৃতীয়াংশ ব্রাজিল থেকে। পোলট্রি, মৎস্য ও দুগ্ধ খাত সম্প্রসারণের ফলে ২০২৫-২৬ সালে পশুখাদ্য শিল্পে সয়াবিন মিলের ব্যবহার ২৯ লাখ টনে পৌঁছাবে বলে ইউএসডিএর প্রাক্কলন।
মেঘনা উপকূলের সয়াবিন অঞ্চল
বাংলাপিডিয়া জানায়, সয়াবিন (Glycine max) শিম পরিবারের একটি ঝোপালো উদ্ভিদ, যার উৎপত্তি সম্ভবত চীনে। পূর্ব এশিয়ায় এর কচি দানা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, আর পরিপক্ব দানা থেকে সয়া দুধ, দই ও সস তৈরি হয়। জ্ঞানকোষটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে সয়াবিন চাষ শুরু হয় ১৯৭৮ সালে, প্রধানত নোয়াখালী ও ফেনীতে। পরের দশকগুলোতে ফসলটি উপকূলে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (এসিআইএআর) একটি প্রকল্পের ২০২০ সালের আগস্টের প্রতিবেদনে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরকে দেশের প্রধান সয়াবিন চাষের এলাকা বলা হয়, যেখানে প্রতিবছর ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন হয়।
এর কেন্দ্র লক্ষ্মীপুর। ২০২৫ সালের মার্চে জেলাটি থেকে প্রথম আলো জানায়, কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ শতাংশ আসে লক্ষ্মীপুর থেকে, জেলাটি ‘সয়াল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং প্রায় দুই যুগ ধরে জেলার অনেক এলাকায় সয়াবিন চাষ হচ্ছে। সেই মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল, আর কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬৬০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করেন। সব ঠিক থাকলে অন্তত ৮৪ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের আশা করেছিলেন কর্মকর্তারা। কমলনগর, রামগতি, রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সয়াবিন হয়, যার মধ্যে আছে রায়পুরের মেঘনার চর ইন্দুরিয়া, চর জালিয়া, চর ঘাসিয়া, চর কাছিয়া ও কানিবগা।
প্রতিবেদনে মৌসুমের বিবরণও ছিল। আমন মৌসুম শেষে আগে যে জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, কৃষকেরা সেখানে সয়াবিন বোনেন। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি বপনের উপযুক্ত সময়, আর ফলন আসে মে মাসের দিকে। ডিএইর কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে বলেন, এলাকার দোআঁশ মাটি সয়াবিনের উপযোগী, শিমজাতীয় ফসল হওয়ায় সয়াবিনে খুব একটা সার লাগে না, আর চারা গজানোর ১৩০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে আসে। রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারে সয়াবিনের ৪৫ থেকে ৫০টি পাইকারি আড়ত আছে। সেখানকার এক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৭০ শতাংশের বেচাকেনা হয় এই বাজারে।
ডেইলি স্টারের ২০২৫ সালের মার্চের প্রতিবেদনে ইউএসডিএর যে সারসংক্ষেপ এসেছে, তাতে জাতীয় চিত্র পাওয়া যায়। ইউএসডিএ ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে বাংলাদেশের সয়াবিন উৎপাদন ১ দশমিক ৪৫ লাখ টন বলে প্রাক্কলন করে। ২০২৪-২৫ সালের জন্য ১ দশমিক ৫৫ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ সালের জন্য ১ দশমিক ৬০ লাখ টনের পূর্বাভাস দেয় সংস্থাটি। অনুকূল আবহাওয়া, বাজারে সহজ প্রবেশ ও বেশি লাভের কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে আবাদের জমি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। সেখানে আরও বলা হয়, আমন কাটার পর মাটিতে থেকে যাওয়া আর্দ্রতায় সয়াবিন বোনা হয় বলে কৃষকদের সাধারণত সেচ দিতে হয় না। এসিআইএআরের প্রতিবেদন যোগ করে, হাতে বীজ বুনলে বপনে দেরি হয়, আর এতে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায়ই হওয়া আগাম বর্ষার বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।

চরের জমি কেন কঠিন
বাংলাপিডিয়া জানায়, চর হলো নদী বা মোহনার পানি থেকে জেগে ওঠা ভূমি। নদীখাতের ভেতরে দ্বীপের মতো জেগে ওঠা বালুচর (দ্বীপচর) কিংবা নদীতীরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকা ভূমি (সংযুক্ত চর), দুটোই এর অন্তর্ভুক্ত। এসব জমিতে গাছপালা জন্মালে বাংলাদেশে সাধারণভাবে একে চর বলা হয়, এবং প্রায়ই তা বসতি ও চাষাবাদের নতুন সুযোগ তৈরি করে। জ্ঞানকোষটি দেশের চরগুলোকে পাঁচটি উপ-অঞ্চলে ভাগ করেছে: যমুনা, গঙ্গা, পদ্মা, উচ্চ মেঘনা ও নিম্ন মেঘনা। এই প্রতিবেদনের সয়াবিন জেলাগুলো নিম্ন মেঘনার অংশ।
চরের জমিতে চাষ কেন কঠিন, বাংলাপিডিয়া সে কারণও তুলে ধরেছে। দ্বীপচর ও সংযুক্ত চর দুটোই পাশের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে কম উৎপাদনশীল বলে দেখা যায়। এর প্রধান কারণ কিছু চরের তুলনামূলক প্রতিকূল মাটি এবং ভাঙন ও ঘন ঘন বন্যার অনিশ্চয়তা। নদীর পানি ও ভূগর্ভস্থ পানি প্রচুর থাকলেও উচ্চ মেঘনার চরগুলো ছাড়া অনেক চরেই সেচনির্ভর ফসল খুব কম। চরগুলো ভাঙন ও বন্যার প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, আর আগাম বন্যা মাঠের ফসলের ক্ষতি করতে পারে। উপকূলীয় চরাঞ্চলের লবণাক্ততা, অনাবৃষ্টি ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কথা বলতে গিয়ে প্রফেসর মান্নান এই বাস্তবতাকেই নির্দেশ করেছেন।
যে তিন জেলায় জিএইউ সয়াবিন ৬ মূল্যায়ন করা হয়েছে, তিনটিই এই উপকূলে। চট্টগ্রাম বিভাগের লক্ষ্মীপুরের আয়তন ১ হাজার ৪৪০ দশমিক ৩৯ বর্গকিলোমিটার, এর পশ্চিমে মেঘনা নদী। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে জেলাটির আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, যার হার ৪৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। ৩ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নোয়াখালীর দক্ষিণে মেঘনা মোহনা ও বঙ্গোপসাগর। বরিশাল বিভাগের ভোলার আয়তন ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৪৮ বর্গকিলোমিটার; এর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে মেঘনা নদী ও শাহবাজপুর চ্যানেল এবং পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদী।
সয়াবিন গবেষণার ধারাবাহিকতায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়
গাকৃবির শিকড় ১৯৮০ সালে। বাংলাপিডিয়া জানায়, সরকার ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৮৩ সালে একে ইনস্টিটিউট অব পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ ইন এগ্রিকালচারে (ইপসা) রূপান্তর করে। ইপসা ১৯৮৫ সাল থেকে জাপানের জাইকা এবং ১৯৮৬ সাল থেকে ইউএসএআইডির কারিগরি সহযোগিতা পায়। ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৬/১৯৯৮-এর মাধ্যমে ইপসাকে পুনর্নামকরণ করে গাজীপুরের সালনার ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ নং ৫-এর অধীনে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এর নাম গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
জাগো নিউজ জানায়, প্রফেসর মান্নানের গবেষণা দল এর আগেই লবণ ও জলাবদ্ধতা সহনশীল বৈশিষ্ট্যসহ আরও পাঁচটি উচ্চফলনশীল সয়াবিন জাত উদ্ভাবন করেছে। কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অবমুক্ত জাতের তালিকায় সেগুলোর বিবরণ আছে। অঞ্চল ও বপনের সময়ভেদে বিইউ সয়াবিন ১ অন্য জাতের চেয়ে অন্তত ১৫ দিন আগে পাকে, দানা গঠনের সময় খরায় ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে, গাছের উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪২ সেন্টিমিটার, প্রচলিত জাতের চেয়ে কম পানি ও সার লাগে এবং আখ, ভুট্টা, সূর্যমুখী, কলা বা পেঁপের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। বিইউ সয়াবিন ২ দক্ষিণাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসে অন্য জাতের চেয়ে অনেক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রবি মৌসুমে এর জীবনকাল ১০০ দিন, খরিফ মৌসুমে ৯০ দিন। এর ফুল সাদা, বীজ ডিম্বাকার, প্রতি হাজার বীজের ওজন ২২০ গ্রাম, আর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক ৫ টন।
তালিকায় বিইউ সয়াবিন ৩ ও বিইউ সয়াবিন ৪-কে লবণাক্ততা সহনশীল, উচ্চফলনশীল (হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক ০ থেকে ৩ দশমিক ৮ টন) ও বড় দানার জাত বলা হয়েছে। খরিফ-২ মৌসুমে এ দুটি পাকে যথাক্রমে ৮০ থেকে ৮৫ এবং ৮৫ থেকে ৯০ দিনে, আর রবি মৌসুমে ৯০ থেকে ৯৫ এবং ৯৫ থেকে ১০০ দিনে। বিইউ সয়াবিন ৫ জলাবদ্ধতা সহনশীল; মৌসুমভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ দিনে হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক ৫ টন ফলন দেয়। এই ধারায় যেসব প্রতিকূলতা মোকাবিলার জন্য জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, জিএইউ সয়াবিন ৬ তাতে যোগ করল খরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জিএইউ সয়াবিন ৬ বাংলাদেশের কৃষিতে একটি যুগান্তকারী অর্জন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ এবং কৃষকের জীবনে স্থিতিশীলতা আনয়নে এটি টেকসই কৃষির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।’ তিনি গবেষক দল, ল্যাব ও মাঠপর্যায়ের বিজ্ঞানীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় বীজ বোর্ড
জার্মপ্লাজমের একটি অংশ এসেছে এশিয়ান ভেজিটেবল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এভিআরডিসি) থেকে। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রের সদর দপ্তর তাইওয়ানের তাইনানের শানহুয়ায়; ২০০৮ সালে এর নতুন নাম হয় ওয়ার্ল্ড ভেজিটেবল সেন্টার। সবজির উৎপাদন ও খাওয়ার অভ্যাস বাড়িয়ে উন্নয়নশীল দেশে অপুষ্টি কমানো ও দারিদ্র্য দূর করা কেন্দ্রটির লক্ষ্য। আরেকটি অংশ এসেছে বারি থেকে। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, বারি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা ধান, পাট, আখ ও চা ছাড়া সব ফসল নিয়ে গবেষণা করে। এর কেন্দ্রীয় স্টেশন গাজীপুরের জয়দেবপুরে, আর এর ফসলভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আছে তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্র ও ডাল গবেষণা কেন্দ্র।
মাঠ পরীক্ষায় সহায়তাকারী সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা। এসিআইএআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি ২০১৮ সালের শুরু থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সয়াবিন চাষ প্রসারে কাজ করছে। ১৫ জন নেতৃস্থানীয় কৃষক ও পাঁচটি উৎপাদক কোম্পানির মাধ্যমে তারা ২৬ হাজার কৃষকের সঙ্গে কাজ করে এবং কারিগরি সহায়তা ও বাজার সংযোগ দেয়। মারডক বিশ্ববিদ্যালয় ও যন্ত্র নির্মাতা হক করপোরেশনের সঙ্গে মিলে তারা নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে দুই চাকার ট্রাক্টরচালিত ভার্সাটাইল মাল্টি-ক্রপ প্ল্যান্টার দিয়ে সয়াবিন বোনার পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালায়। যন্ত্রটি ব্যবহারকারী কৃষকেরা হেক্টরপ্রতি ১৬৫ অস্ট্রেলীয় ডলার খরচ সাশ্রয় এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় ৬০০ কেজি বেশি ফলনের কথা জানান। ২০২৫ সালের মে মাসে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, সলিডারিডাড উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নত বীজ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগের মাধ্যমে সয়াবিনচাষিদের সহায়তায় কাজ করছে এবং একটি দেশীয় খাদ্য উৎপাদকের সঙ্গে মিলে টফুসহ সয়াভিত্তিক খাবার বাজারে এনেছে।
জাতটি অনুমোদনকারী জাতীয় বীজ বোর্ড কাজ করে বীজ আইন, ২০১৮-এর অধীনে (২০১৮ সনের ৬ নং আইন, ২৮ জানুয়ারি ২০১৮)। আইনটি বীজ অধ্যাদেশ, ১৯৭৭ রহিত করে প্রণীত হয়। কোনো ফসল বা জাতের বীজ উৎপাদন, বিক্রয়, সংরক্ষণ, আমদানি, রপ্তানি, বিনিময় বা অন্যভাবে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং এর মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য আইনটি করা হয়েছে; ধারা ৮ অনুযায়ী বোর্ড নিবন্ধন সনদ দেয়। তিন বছরের বাছাই ও উপকূলে পাঁচ বছরের মাঠ পরীক্ষার পর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্রের মধ্য দিয়ে জিএইউ সয়াবিন ৬ জাত হিসেবে অবমুক্ত হয়।
ছবি: ইউনাইটেড সয়বিন বোর্ড / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ (১ মার্চ ২০২৬), ইউএনবি (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; ২৩ মে ২০২৫), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও এর কৃষিতত্ত্ব বিভাগ, প্রথম আলো (৫ মার্চ ২০২৫), দ্য ডেইলি স্টার (২৬ মার্চ ২০২৫, ইউএসডিএর তেলবীজবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন), এসিআইএআর সাউথ এশিয়া সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও (১২ আগস্ট ২০২০), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (সেচ পানি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল), জার্নাল অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (টাকাচ ও সহকর্মী, ২০২২), বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), বীজ আইন ২০১৮, উইকিপিডিয়া (ওয়ার্ল্ড ভেজিটেবল সেন্টার)




মন্তব্য
(০)