ভোলার মেঘনা নদীতে ধরা পড়া ২ কেজি ৭৫ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর, বুধবার, প্রকাশ্য নিলামে ৮ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মৎস্যঘাটে আসলাম গোলদারের আড়তে মাছটি বিক্রি হয়। সর্বোচ্চ দাম হেঁকে সেটি কিনে নেন ওই ঘাটের আড়তদার মো. জসিম ব্যাপারী।
তুলাতুলি ও মদনপুরের মাঝে জালে ওঠে মাছটি
আড়তদার আসলাম গোলদার জানান, সেদিন সকালে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের একদল জেলে মেঘনায় ইলিশ ধরছিলেন। তুলাতুলি ও মদনপুরের মাঝামাঝি নদীতে তাঁদের জালে বড় ইলিশটি ওঠে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলেরা মাছটি আড়তে নিয়ে আসেন। স্থানীয়রা এমন বড় ইলিশকে ‘রাজা ইলিশ’ বলেন, আর সেদিন মাছটি দেখতে ঘাটে ভিড় জমে যায়।
এরপর তুলাতুলি ঘাটের আড়তদার, মাছ ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতাদের সামনে মাছটি প্রকাশ্য ডাকে, অর্থাৎ নিলামে তোলা হয়। জসিম ব্যাপারী জানান, বরিশাল ও ঢাকার পাইকারি আড়তে বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি, তাই তিনি এত দাম দিয়ে মাছটি কিনেছেন। সেখানে ইলিশটি ৯ হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রির আশা করছিলেন তিনি।

নিষেধাজ্ঞার পর এক মাসে প্রথম এত বড় ইলিশ
মা ইলিশ রক্ষায় ২০২৫ সালের ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবদর, বেতুয়া ও ইলিশা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্যে, এ সময় মেঘনার চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়ার ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে চাল পান।
তুলাতুলি ঘাটের আরেক আড়তদার কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই শীতের আমেজ শুরু হয়। তখন জালে পাঙাশ ও পোয়া মাছ উঠলেও ইলিশ তেমন পড়ছিল না। ২৫ অক্টোবরের পরের এক মাসে তুলাতুলি ঘাটে এত বড় ইলিশ সেবারই প্রথম আসে।

ডিম ছাড়তে সাগর থেকে নদীতে আসে ইলিশ
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, ইলিশ সারা বছরই ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীতে আসে, তবে সবচেয়ে বেশি ডিম ছাড়ে অক্টোবর ও নভেম্বরে। এই ইলিশটিও ডিম ছাড়তে সাগর থেকে নদীতে উঠে আসছিল, তখনই জেলেদের জালে ধরা পড়ে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাছটির বয়স অন্তত দুই বছর; এ থেকে জেলেদের বোঝা উচিত, জাটকা সংরক্ষণ কতটা জরুরি।
ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha) হেরিং গোত্রের মাছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি সাগর ও নদী দুই জায়গাতেই বাস করে এবং ডিম ছাড়তে নদীতে ঢোকে। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়। স্ত্রী ইলিশ পুরুষের চেয়ে বড় হয়, দৈর্ঘ্যে ৫৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত।
দেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ ভোলার আয়তন ৩ হাজার ৪০৩.৪৮ বর্গকিলোমিটার; এর পূর্বে মেঘনা, পশ্চিমে তেঁতুলিয়া আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। মৎস্য বিভাগের তথ্যে, জেলার সাত উপজেলার নদীগুলোতে নিবন্ধিত জেলে ১ লাখ ৭১ হাজার, তবে মাছ ধরে জীবিকা চালান প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। ২০২৫ সালে জেলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন।

ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)