সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কৃষির আধুনিকায়নে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার

দেশের কৃষিকে দীর্ঘমেয়াদে আধুনিক ও টেকসই করতে ২৫ বছরের একটি মহাপরিকল্পনার কাজ শেষ পর্যায়ে, ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত খসড়া তৈরি হবে বলে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় এক সম্মেলনে জানান কৃষি সচিব।

কৃষির আধুনিকায়নে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার
এগ্রোটেক

দেশের কৃষিকে দীর্ঘমেয়াদে আধুনিক ও টেকসই রূপ দিতে কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ বছরের একটি মহাপরিকল্পনা তৈরির শেষ পর্যায়ে ছিল বলে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, ঢাকায় জানান কৃষি সচিব। ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও প্রযুক্তির অগ্রগতি, সবকিছু মিলিয়ে এই সমন্বিত কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল; তিনি জানান, ডিসেম্বরেই এর চূড়ান্ত খসড়া তৈরি হয়ে যাবে।

'কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের (বিএজেএফ) আয়োজনে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্মেলনটি শুরু হয়। প্রথম দিনের বিষয়বস্তু ছিল 'কৃষির রূপান্তর: দেশীয় উপযোগী কৃষিযন্ত্র ও কৃষিপণ্য রপ্তানির চ্যালেঞ্জ'। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একজন পরিচালকও সেদিন কৃষিযন্ত্র, গ্রামীণ অর্থায়ন, ধানের ফলন ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি নিয়ে কথা বলেন।

২৫ বছরের পরিকল্পনায় যা থাকছিল


সচিব জানান, ১৩টি মূল খাত এবং এর অধীন অসংখ্য উপখাতকে সামনে রেখে পরিকল্পনাটি সাজানো হচ্ছে। কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৭টি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্যও আলাদা ২৫ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে কয়েকটি পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পও নেওয়া হবে। তবে প্রতিটি প্রকল্পই বিশদ গবেষণা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

একই বক্তব্য নিয়ে জাগো নিউজের ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঠামোটি তৈরি করা হচ্ছে ভবিষ্যতের ঝুঁকি, জলবায়ুর অনিশ্চয়তা, যান্ত্রিকীকরণের ঘাটতি এবং বিশ্ববাজারের চাহিদা মাথায় রেখে। ১৭টি প্রতিষ্ঠানের আলাদা রোডম্যাপের উদ্দেশ্য তাদের উদ্ভাবন, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারকে এক সূত্রে গাঁথা।

পরিকল্পনাটির কাজ চলছিল কয়েক মাস ধরে। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) আয়োজিত এক সেমিনারে একই সচিব বলেছিলেন, এই প্রথম কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ বছর মেয়াদি একটি কর্মকৌশল প্রণয়নে কাজ করছে, যার লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সেদিন আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকার কৃষি খাতে ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ দেবে এবং প্রকৃত উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য যাঁদের সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের খুঁজে বের করে সহায়তার চেষ্টা করা হবে।

তারও আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) বিএজেএফ সদস্যদের জন্য কৃষি সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে সচিব বলেছিলেন, ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কৃষি প্রকল্পে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি তখন জানান, অপ্রয়োজনীয় ধানের জাত উদ্ভাবন বন্ধ করা হচ্ছে; গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কৃষকের উপকারে আসে এমন বীজ যেন সত্যিই তাঁদের কাছে পৌঁছায়, কারণ মাঠে ভালো ফল না দিলে শুধু জাতের সংখ্যা বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই।

আয়োজক ও সম্মেলনের স্থান


বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কৃষি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংগঠনটি পিআইবিতে কৃষি সাংবাদিকতা নিয়ে দুই দিনের একটি কর্মশালা করে, যাতে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকার কেআইবি সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়, যাতে আছেন জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদক ও সম্পাদকেরা।

সম্মেলনের স্থানটি সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের (সিরডাপ)। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিরডাপ একটি আঞ্চলিক, আন্তঃসরকার ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এর কাজ ১৫টি সদস্য দেশে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়া ও শক্তিশালী করা; দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ফিজি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। সংস্থাটির সদর দপ্তর ঢাকার তোপখানা রোডের চামেলী হাউসে।

সারের খরচ সাশ্রয় ও যান্ত্রিকীকরণের টাকা


সার ব্যবস্থাপনা সংস্কার নিয়ে সচিব বলেন, 'আমরা এমন একটি নীতি প্রণয়ন করছি যাতে প্রতি বছর দুই-তিন হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়। চলতি বছর সাশ্রয় হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের ৬০০ কোটি টাকা ফেরত গেছে সরকারের কোষাগারে। ২০ কোটি দিয়ে পুরো প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়েছে।' তাঁর বক্তব্যের প্রতিবেদনগুলোতে প্রকল্পটির নাম বা এই হিসাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিল না।

সারে সাশ্রয়ের কথা তিনি আগেও বলেছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি জানান, সার মজুতের সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বন্ধ বা পরিত্যক্ত পাটকলগুলোকে সারের গুদামে রূপান্তর করা হবে; নতুন গুদাম নির্মাণের পাশাপাশি বিকল্প সম্ভাব্য জায়গাও খোঁজা হচ্ছে, আর সার মজুতের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্প তখন চলমান। তাঁর ভাষ্য ছিল, এতে বিশ্ববাজার থেকে কম দামে সার কেনা যাবে এবং দেশের বছরে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।

সচিবের এই হিসাবের পাশে ছিল বছরে বড় অঙ্কের ভর্তুকি। ২০২৫ সালের ২ জুন উপস্থাপিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অর্থ উপদেষ্টা কৃষিতে ১৭ হাজার ২৪১ কোটি টাকার ভর্তুকির প্রস্তাব করেন; ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ৫৮ কোটি টাকা, বাজেটের সংক্ষিপ্তসারের বরাতে জানায় বাংলাদেশ টাইমস। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদনের জন্য সারসহ অন্যান্য উপকরণে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং সারের মজুত বা বাফার স্টক বাড়ানো হয়েছে। আমদানি করা ও দেশে উৎপাদিত, দুই ধরনের সারের ভর্তুকির অর্থ ছাড় দ্রুত করে বকেয়া পরিশোধের কথাও বলা হয় বক্তৃতায়।

ভর্তুকিতে কৃষিযন্ত্র দেওয়ার কাজটি ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্পের বিষয়। ২০২০ সালের জুলাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়, যাকে তখন কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প বলা হয়েছিল। এর আওতায় কৃষকেরা কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার থ্রেশার, ড্রায়ার, পাওয়ার উইডার, পাওয়ার স্প্রেয়ার, পটেটো ডিগার ও মেইজ শেলার কেনায় সহায়তা পান। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর ও দক্ষিণের উপকূলীয় এলাকার কৃষক যন্ত্রের দামের ৩০ শতাংশ দেবেন, বাকি ৭০ শতাংশ দেবে সরকার; অন্য এলাকায় অর্ধেক দাম দেবেন কৃষক, অর্ধেক সরকার। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের জুনে, এর মধ্যে ৫১ হাজার ৩০০টি যন্ত্র কেনায় সহায়তা এবং ৯ হাজার মেকানিক ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। দ্য ডেইলি স্টার তখন জানায়, প্রকল্প অনুমোদনের সময় দেশে চারা রোপণ ও ফসল কাটার ৯৯ শতাংশ কাজই হাতে করা হতো।

'কৃষক কি ন্যায্য দাম পাবেন না?'


এরপর দামের প্রসঙ্গে আসেন সচিব। তিনি বলেন, 'সবজির দাম কেজি ১০০ টাকা হলে কেউ কথা বলেন না, কিন্তু পেঁয়াজের দাম ১০০ হলেই আলোচনার ঝড় ওঠে। কৃষক কি ন্যায্য দাম পাবেন না?' আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা ও পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে আলুর দাম না পেয়ে এক কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনায় তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেন। জাগো নিউজের ইংরেজি সংস্করণ জানায়, অধিবেশনের সমাপনীতে তিনি বলেন, কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত না করে টেকসই কৃষি অর্থনীতি হবে না, এবং তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচিব যখন কথা বলছিলেন, তখন পেঁয়াজের দাম চড়া। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রথম আলো জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, এক মাস আগেও যা ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনা অনুযায়ী, নভেম্বরে পেঁয়াজের গড় দাম ২০২৩ সালে ছিল কেজি ১১৫ টাকা, ২০২৪ সালে ১৩০ টাকা, আর ২০২৫ সালের নভেম্বরে তখন পর্যন্ত ১০৫ টাকা। কমিশন দেখেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, কিন্তু সংরক্ষণের সমস্যা ও অন্যান্য ক্ষতির কারণে বাজারে আসে প্রায় ৩৩ লাখ টন। আগের অর্থবছরে আমদানি হয় ৪ লাখ ৮৩ হাজার টন পেঁয়াজ, যার ৯৯ শতাংশই ভারত থেকে; আমদানিতে শুল্ক ছিল ১০ শতাংশ। পেঁয়াজ রাখার কোনো সরকারি হিমাগার না থাকায় কৃষক নিজের ঘরেই পেঁয়াজ রাখেন; কমিশন সরকারি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে। ৯ নভেম্বর দ্য ডেইলি স্টার জানায়, বাজার স্থিতিশীল করতে কমিশন সরকারকে আমদানির অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা পেঁয়াজ, ২০১৮ সালে তোলা। ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা পেঁয়াজ, ২০১৮ সালে তোলা। ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

আদায় আমদানিনির্ভরতা আরও বেশি। ২০২৪ সালের জুনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে আদার বার্ষিক চাহিদা ৩ লাখ টনের বেশি, অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন হয় প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন; ফলে চাহিদার ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ আদা আমদানি করতে হয় চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে। একই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে ৭ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আদা উৎপাদন হয়েছিল ৪২ হাজার ৬৮০ টন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, মসলা গবেষণা কেন্দ্র রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের বস্তায় বারি-১ ও বারি-২ জাতের আদা চাষে উৎসাহ দিচ্ছে, আর পতিত জমি ও বসতবাড়িতে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ছে।

আলুচাষির দুর্দশা মৌসুমের শুরু থেকেই খবরে ছিল। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় হিমাগার গেটে আলুর সর্বনিম্ন দাম কেজি ২২ টাকা নির্ধারণ করে এবং জানায়, সরকার ৫০ হাজার টন আলু কিনে হিমাগারে রাখবে ও অক্টোবর-নভেম্বরে বিক্রি করবে, আর পরের মৌসুমে আলুচাষিদের প্রণোদনা দেবে। কৃষি সচিবের নেতৃত্বে বাণিজ্য, খাদ্য ও অর্থসচিবকে নিয়ে গঠিত চার সদস্যের একটি কমিটির সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত হয়। দ্য ডেইলি স্টার জানায়, মৌসুমের শুরুতে অনেক কৃষক মাঠেই কেজি ১১ টাকায় আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন, অথচ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে গড় উৎপাদন খরচ ছিল কেজি ১৪ টাকা, উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় ২০ টাকা পর্যন্ত; বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে সেবার আলু উৎপাদন হয় রেকর্ড ১ কোটি ১৫ লাখ টন। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বরের সেমিনারে সচিব বলেছিলেন, সরকার এবারই প্রথম হিমাগার গেটে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টন আলু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

অক্টোবরের মাঝামাঝি দরপতন আরও গভীর হয়। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছিল কেজি ৮ থেকে ১০ টাকায়; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে ৪ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমি থেকে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়; আর বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন, হিমাগারের ধারণক্ষমতা ৪৫ লাখ টন। পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ততদিন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সর্বনিম্ন দাম কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়নি এবং সরকার কৃষক বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আলু কেনেনি।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার চরপুলিয়ামারীতে আলুখেতে কাজ করছেন এক নারী, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে তোলা। ছবি: Hridoye Mati O Manush / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার চরপুলিয়ামারীতে আলুখেতে কাজ করছেন এক নারী, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে তোলা। ছবি: Hridoye Mati O Manush / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

কৃষিযন্ত্রে 'মেড ইন বাংলাদেশ'


সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্রির যান্ত্রিক ধান চাষাবাদ প্রকল্পের পরিচালক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরির পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম তৈরি করছে ব্রি। শ্রীলঙ্কা, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এখন দেশেই মানসম্পন্ন কৃষিযন্ত্র তৈরি হচ্ছে, যা সময়, ব্যয় ও শ্রমসংকট, সব ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মেকানিক প্রশিক্ষণ, সার্ভিস হাব ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ, সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে ব্রি।

ব্রির যন্ত্র তৈরির কাজ এর দুই বছর আগেই কারখানায় পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, ব্রি ও আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সিলেটে প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় দেশের উপযোগী হোল-ফিড কম্বাইন হারভেস্টার উৎপাদন শুরু করেছে; অর্থায়ন করছে ব্রির 'স্ট্রেংদেনিং ফার্ম মেশিনারি রিসার্চ অ্যাক্টিভিটি ফর মেকানাইজড রাইস কাল্টিভেশন' প্রকল্প। দেশে এই প্রথম অ্যাসেম্বলি লাইনে এমন হারভেস্টার তৈরি হয়। প্রকল্পের উপস্থাপনায় তখন বলা হয়, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে হোল-ফিড কম্বাইন হারভেস্টার আমদানি হচ্ছে চীন, কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে; আমদানি করা যন্ত্রের দাম যেখানে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা, দেশে তৈরি যন্ত্রের উৎপাদন খরচ পড়বে ২২ থেকে ২৫ লাখ টাকা, আর দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারের ফলে রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া সহজ হবে।

দেশে আধুনিক কৃষিযন্ত্র উৎপাদনের বড় বাধাগুলোর দিকে আঙুল তোলেন ব্রির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দুরুল হুদা। তাঁর ভাষায়, হালকা প্রকৌশল খাতের অদক্ষতা, সিএনসি-ভিত্তিক প্রযুক্তির অভাব ও দক্ষ জনবলের সংকট, সব মিলিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক মানের কম্বাইন হারভেস্টার বা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার তৈরি করতে পারছেন না। তিনি দুঃখ করে বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশে ইঞ্জিন তৈরির মতো রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান দাঁড়াতে পারেনি; পুরোনো শিল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্পভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।

কৃষিকে লাভজনক পেশায় রূপান্তর


পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, কৃষিকে কেবল উৎপাদনের খাত হিসেবে দেখলে হবে না, একে লাভজনক, সম্মানজনক ও শিক্ষিত পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি জানান, পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ে বছরে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করে, যার ৪০ শতাংশই যায় কৃষি খাতে। দেশের কৃষি অর্থায়নের প্রায় ৮৫ শতাংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) মাধ্যমে।

পিকেএসএফ নিজেকে সরকারের প্রতিষ্ঠিত একটি শীর্ষ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৯ সালের ১৩ নভেম্বর। সংস্থাটি সরাসরি কৃষককে ঋণ দেয় না; সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে মাঝারি ও অতিদরিদ্র মানুষ, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক কর্মসূচিতে অর্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেয়। সেপ্টেম্বরে সচিব যে ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণের কথা বলেছিলেন, সেটি সরকারের আলাদা হিসাব।

ধানের ফলন: হেক্টরে দুই টন থেকে দশ টন


ব্রির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর খাদ্যনিরাপত্তাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। তখন প্রতি হেক্টরে দেড় থেকে দুই টন ধান উৎপাদন হতো। এখন অনেক জায়গায় তা আট থেকে ১০ টন ছাড়িয়ে গেছে। হাইব্রিড জাতের উন্নয়ন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যতে গড় ফলন ১০ টনের ওপরে যাবে বলে তিনি জানান।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ব্রি একটি স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৭০ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন পরিবেশের উপযোগী ধানের জাত এবং সেগুলোর ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবন এর কাজ। খামার যন্ত্রপাতি ও ফসল-উত্তর প্রযুক্তি এর অন্যতম গবেষণা বিভাগ, আর খামার যান্ত্রিকীকরণ এর অন্যতম কর্মসূচি এলাকা।

২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ফসলের আকার স্পষ্ট হয়। দ্য ডেইলি স্টার ১২ নভেম্বর জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৪ কোটি ৬ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়, যা আগের বছরের ৪ কোটি ৭ লাখ টনের চেয়ে সামান্য কম। বোরো উৎপাদন ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয় ২ কোটি ১৩ লাখ টন, যা শুষ্ক মৌসুমে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ; অন্যদিকে আউশ কমে দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৯৩ হাজার টনে এবং আমন ১ কোটি ৬৪ লাখ টনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী উচ্চফলনশীল জাতের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি ফলন দেওয়া হাইব্রিড ধান বোরোর মোট ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টরের মধ্যে ১২ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টরে চাষ হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আউশে ৩২ লাখ টন, আমনে ১ কোটি ৮১ লাখ টন ও বোরোতে ২ কোটি ২৭ লাখ টনের লক্ষ্য ঠিক করে, আর আমন রোপণ হয় ৫৯ লাখ ২৮ হাজার হেক্টরে। অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় মন্থার প্রভাবে বাড়া অসময়ের ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ২৯ জেলায় ২১২ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে অধিদপ্তর হিসাব করে।

বাংলাদেশের বগুড়ায় কাটার সময় ঘনিয়ে আসা পাকা ধানের খেত, ২০০৮ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Syed Touhid Hassan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
বাংলাদেশের বগুড়ায় কাটার সময় ঘনিয়ে আসা পাকা ধানের খেত, ২০০৮ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Syed Touhid Hassan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বড় সম্ভাবনা, অনেক বাধা


প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, 'কৃষি প্রক্রিয়াকরণ খাতে বিশ্ববাজার চার ট্রিলিয়ন ডলারের। আমাদের দেশে বাজার মাত্র এক বিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে। প্রক্রিয়াকরণ খাতে বৈচিত্র্যের অভাব আছে। খাতেও কিছু দুর্বলতা রয়েছে। ৪০০ প্রতিষ্ঠান থাকলেও সবাই উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারে না।'

তিনি জানান, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ১৮টি দপ্তর থেকে অনুমতি নিতে হয়, যা খরচ ও সময়সাপেক্ষ। এজন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে, কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে থাকা দূতাবাসকে কাজে লাগাতে হবে। বাণিজ্যিক কূটনীতিতে অন্য দেশের মতো বাংলাদেশকে আরও বেশি কাজ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

কামরুজ্জামান কামাল আরও বলেন, 'কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মান নিয়ন্ত্রণ সেভাবে গড়ে ওঠেনি। আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের স্বল্পতা রয়েছে। অনেক পণ্য ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। বিএসটিআইয়ের মান বিশ্বের অনেক দেশ গ্রহণ করে না। এক্ষেত্রে মান প্রণয়নে আমাদের আরও উন্নতি ঘটানো উচিত। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গ্রাম পর্যায় থেকেই আমাদের কাজ করতে হবে।' বিএসটিআই হলো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন।

সরকারি হিসাবেও খাতটির রপ্তানি তাঁর বলা এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৯৮৯ মিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি করে, আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যা ছিল ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার; এটি মোট রপ্তানির ২ দশমিক ০৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ভোমরা ছাড়া সব স্থলবন্দর দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ কয়েকটি পণ্যের প্রবেশ ভারত বন্ধ করে দেওয়ার পর দেশটিতে এসব পণ্যের রপ্তানি ১৯২ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৪৫ মিলিয়ন ডলারে নামে। কামরুজ্জামান কামাল তখন পত্রিকাটিকে বলেন, প্রাণ-আরএফএলকে সব চালান সাতক্ষীরার ভোমরা দিয়ে পাঠাতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়েছে, আর ঢোকার পর বাধ্যতামূলক পরীক্ষাগার পরীক্ষার কারণে চালান ১০ দিন পর্যন্ত আটকে থাকতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই অর্থবছরে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছিল।

ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, জাগো নিউজ ২৪ (ইংরেজি সংস্করণ), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, প্রথম আলো, বাংলাদেশ টাইমস, বাংলাপিডিয়া, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সিরডাপ

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

শিকড়ের কাছে তরল সার পৌঁছাবে হালকা যন্ত্র, পরের লক্ষ্য সার দেওয়ার রোবট

নেদারল্যান্ডসের এক প্রদর্শনীতে দেখানো হালকা ডিস্ক যন্ত্রটি তরল সার সরাসরি মাটির ভেতরে দেয়। এর উদ্ভাবকেরা একে বিদ্যুৎচালিত এমন রোবটে রূপ দিতে চান, যা নিজেই ডকিং স্টেশনে গিয়ে ট্যাংক ভরে নেবে।

Future Farming১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

২০ নভেম্বরের আগে গম বুনুন: উত্তর প্রদেশে শূন্য চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিল ইরি ও সিমিট

খড় পোড়ানোর বিকল্প হিসেবে শূন্য চাষে গম বপন ও ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনায় পূর্ব উত্তর প্রদেশের ৬৩ জন কৃষক, যন্ত্রসেবাদাতা ও সম্প্রসারণকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইরি ও সিমিট।

IRRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)